গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তরমুজ-ডাবের বিক্রি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পণ্যবাজার

গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তরমুজ-ডাবের বিক্রি

চৈত্রের কাঠফাটা রোদে পুড়ছে দেশ। অনাবৃষ্টির সঙ্গে পিচগলা গরমে নগরজীবন হয়ে পড়েছে দুর্বিসহ। ঘরের বাইরে বের হলেই অতিরিক্ত ঘামে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন কর্মজীবী মানুষ। ক্লান্তি দূর করতে কেউ পান করছেন ডাবের পানি, কেউ খাচ্ছেন শসা। প্রচণ্ড গরমের কারণে তরমুজ, আনারস আর ডাব বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ।

রাজাধানী ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার ধারে বিক্রি হচ্ছে বেল, পেঁপে, লেবুর শরবত ও আখের রস। বরফ দেওয়া ঠাণ্ডা এসব শরবত প্রতি গ্লাসের মূল্য রাখা হচ্ছে ৫-২০ টাকায়। রিকশাচালক, টেক্সিচালক, দিনমজুর শ্রমিকসহ পথচারীরা তৃষ্ণা মেটাতে কিংবা একটু স্বাদ নিতে ছুটে যাচ্ছে এসব দোকানে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পেঁপে, আনারস এবং বেল, লেবু ও তকমার শরবত বিক্রি করছিলেন রুবেল। তিনি বলেন, কয়েকদিনের অসহনীয় গরমের কারণে অনেকেই তৃষ্ণা মেটাতে শরবত পান করছেন। আবার অনেকে পেঁপে, আনারস, পেয়ারার সরিষা মাখার স্বাধ নিচ্ছেন। গত কয়েকদিন থেকে বিক্রি বেশ ভালো।

Watermelon4

রাজধানীতে আসছে গরমে আরামদায়ক মধুর ফল তরমুজ। ছবি: মহুবার রহমান

সচিবালয়ের সামনে ভ্রাম্যমাণ দোকানে লেবুর শরবত পান করে নিজেকে ঝিড়িয়ে নিচ্ছিলেন রিকশাচালক হাফিজুর। তিনি বলেন, এই ভ্যাপসা গরমে বেশিক্ষণ রিকশা চালাতে পারি না। বরফমিশ্রিত এক গ্লাস শরবত খেলে গা জুড়িয়ে যায়। শরীরেও বল আসে।

পল্টন মোড়ের ডাব বিক্রেতা মো. জামিল হোসেন জানান, গরম পড়ছে অনেক। তাই গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডাবের কদর। আকার ভেদে প্রতিটি ডাবের দাম ১৫ থেকে ৩০ টাকা। বড়গুলো ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।

চাহিদার বিবেচনায় চট্টগ্রামের চকরিয়া এবং কক্সবাজার থেকে ডাব আনা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রাজধানীর বাজারে উঠেছে গরমের রসালো ফল তরমুজ। রাজধানীর আনাচে কানাছে বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হচ্ছে এই ফল। সুস্বাদু এই ফলের স্বাদ নিতে অনেকেই এসব দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন।

মুগদা বাজারের তরমুজ বিক্রেতা আব্দুল হান্নান বলেন, প্রচণ্ড গরমের কারণে তরমুজের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। বিক্রি বেশ ভালো হচ্ছে। এভাবে গরম থাকলে তরমুজের চাহিদা আরও বাড়বে। এখন ১০০ টাকার নিচে তরমুজ নেই। বড় তরমুজ ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি করছি।

স্বাভাবিকের তুলনায় তরমুজের দাম অনেক বেশি বলে অভিযোগ করে আবুল হোসেন নামে একজন ক্রেতা জানান, অন্যবারের তুলনায় এবার তরমুজের দাম বেশি। ১৮০ টাকায় একটি তরমুজ কিনেছি। আকারে খুব বেশি বড় বলা যাবে না। সে তুলনায় দামটা অনেক বেশি।

এমন অভিযোগ স্বীকার করে হান্নান বলেন, প্রকৃতপক্ষে এখন তরমুজের দাম অনেক বেশি। উচ্চ পাইকারি মূল্য এবং বহন খরচের কারণেই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে, দিনভর কাঠফাঁটা রোদ ও অসহনীয় গরমে নগরীর প্রতিটি দোকানে নানা মূল্যের অভিজাত শ্রেণির বাহারী আইসক্রিমসহ ঠাণ্ডা পানীয় বিক্রি ধুম পড়ছে। একটু খানি স্বস্তি পেতে নিজের সাধ্যমত মূল্য দিয়ে ঠাণ্ডা পানীয় পান করছেন নগরবাসী।

অর্থসূচক/এমআই/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ