জবাব দিলেন অগ্রণীর এমডি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » খাত/কোম্পানি পর্যালোচনা

জবাব দিলেন অগ্রণীর এমডি

বাংলাদেশ ব্যাংকের কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দিয়েছেন অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হামিদ। নিয়ম বহির্ভূতভাবে ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিলের অভিযোগে ‘কেন অপসারণ করা হবে না, জানতে চেয়ে’ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এ নোটিশ পাঠানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন সুত্র জানিয়েছে, অগ্রণীর এমডির জবাব স্ট্যান্ডিং কমিটির পাঠানো হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে আবদুল হামিদকে অগ্রণীর নির্বাহী প্রধানের পদ থেকে অপসারণ করা হতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, তানাকা গ্রুপের ১২০ কোটি টাকা, মুহিব স্টিল কোম্পানির ৯১ কোটি টাকা, মারহাবা টেক্সটাইলের ৪৫ কোটি টাকা, মাহিদ অ্যাপারেলে ১০৯ কোটি টাকা, এআরটি শিপ ব্রেকিং লিমিটেডের ৫০ কোটি টাকা এবং মিউচ্যুয়াল কনসার্ন কর্পোরেশন লিমিটেডের ২০০ কোটি টাকার (সর্বমোট ৬১৫ কোটি টাকা) খেলাপি ঋণের হিসাবকে সম্পূর্ণ আইন বহির্ভূতভাবে ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন আব্দুল হামিদ। এসব প্রতিষ্ঠানকে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান কোনো কিছুই মানেননি তিনি। এমনকি ব্যাংকটির বোর্ড সদস্যদের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও তা মানা হয়নি।

সূত্র আরও জানিয়েছে, অগ্রণী ব্যাংকের ক্রেডিট রিস্ক গাইডলাইন লঙ্ঘন করে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে বোর্ড সদস্যদের কোনো রকম অনুমোদন ছাড়াই নিজের ইচ্ছামতো কোম্পানিগুলোকে ঋণ প্রদান ও ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন আব্দুল হামিদ। ঋণ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে যে পরিমাণ ডাউনপেমেন্ট নেওয়ার কথা- কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বেলায় তা নেওয়া হয়নি। ঋণ প্রদানের শর্ত হিসেবে বিবেচিত মর্টগেজের পরিমাণকেও ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে পরিবর্তন করেছেন তিনি।

এর আগে মুনগ্রুপের কর্ণধার মিজানুর রহমান মিজান ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় অগ্রণী ব্যাংক এমডির জড়িত থাকার তথ্য উঠে আসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে। এরপর ব্যাংকটির অডিট কমিটি এ ঋণ কেলেঙ্কারিতে সৈয়দ আব্দুল হামিদের সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেয়।

এসব অনিয়ম আমলে নিয়ে ‘কেন অপসারণ করা হবে না, জানতে চেয়ে’গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অগ্রণীর এমডি আবদুল হামিদকে নোটিশ পাঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাকে ৩ মার্চের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়। কিন্তু চিঠির জবাব না দিয়ে তিনি এক মাস সময় দেওয়ার আবেদন জানান। এর জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংক সময় সীমা ১৬ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে।

অগ্রণীর এমডির জবাবের ব্যাপারে ব্যাংকের এক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা অর্থসূচককে জানান, জবাব এসেছে এবং তা স্ট্যান্ডিং কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্তের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তিনি জানান, সাবেক ডেপুটি গভর্নরের নাজনীন সুলতানার অব্যাহতির পর আরেক ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসানকে স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রধান করা হযেছে। মূলত তার কমিটিই অগ্রণীর এমডির ভবিষ্যতের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি আরও জানান, জবাব সন্তোষজনক না হলে আবদুল হামিদকে অগ্রণীর নির্বাহী প্রধানের পদ থেকে অপসারণ করা হতে পারে।

এসবি/এসএমএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ