‘মানবপাচারকারী নারীর’ বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অপরাধ ও আইন

‘মানবপাচারকারী নারীর’ বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

সাগরপথে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পাচারের পর আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে ওই নারীর বিরুদ্ধে।

আজ সোমবার কক্সবাজার থানায় মামলাটি করেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল ওয়াদুদ।

দুদকের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র জানিয়েছে, সাগরপথে মানবপাচার ও আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে মিনু আরা বেগম নামে এক নারীর বিরুদ্ধে কক্সবাজার থানায় মামলা করা হয়েছে।

dudok-bdমামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পাচারের পর আটকে রেখে স্বজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণ নেওয়া ৩১ লাখ ৩২ হাজার টাকা মিনু আরা বেগমের ব্যাংক হিসাবে পাওয়া গেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কক্সবাজারের ওই নারীর ব্যাংক হিসাবে ওই টাকা স্থানান্তর হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর ওই ব্যাংক হিসাবে আড়াই লাখ টাকা পাঠিয়েছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার আমিরাবাদের শফিক আহমেদ। তার ছেলে হাবিবুল্লাহকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে থাইল্যান্ডে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করে পাচারকারীরা। মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার পরও চাহিদামতো অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ায় থাইল্যান্ডে হাবিবুল্লাহকে খুন করা হয়।

অন্যদিকে টেকনাফের নুরুল বশর ও রশীদের পরিবারের পক্ষ থেকে ২০১৪ সালের বিভিন্ন সময়ে ওই ব্যাংক হিসাবে আট লাখ ৯০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন আবদুল হক নামের তাদের এক স্বজন। টাকা দেওয়ার পরও ওই দুইজনের পরিবার এখনও মালয়েশিয়ায় মানবেতর জীবন-যাপন করছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন জনের কাছ থেকে মিনু আরা বেগমের ব্যাংক হিসাবে মোট ৩১ লাখ ৩২ হাজার টাকা জমা হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, ২০১৫ সালে কক্সবাজার থানায় হাবিবুল্লাহর বাবা শফিক আহমেদের করা মামলায় মিনু আরা বেগম গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডির তদন্তের সূত্রে মিনু আরা বেগমের ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ টাকার সন্ধান পাওয়া যায়। এ বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য দুদকের কাছে পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে নামে দুদক।

অনুসন্ধান শেষে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল ওয়াদুদ অর্থ পাচার আইনে মিনু আরা বেগমের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করলে কমিশন অনুমোদন দেয়। এরপর আজ সোমবার মানি লন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করেন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা।

অর্থসূচক/এমআই/এসএম

এই বিভাগের আরো সংবাদ