আইসিডি চার্জ বাড়ছে ২০%
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পুঁজিবাজার

আইসিডি চার্জ বাড়ছে ২০%

অভ্যন্তরীণ বেসরকারি কনটেইনার ডিপোর ২০ শতাংশ চার্জ বাড়ছে। এ ব্যাপারে একমতও হয়েছে এর সেবা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে গঠিত বন্দর বোর্ডের সদস্য (মেরিন অ্যান্ড হারবার) লে. কমান্ডার শাহিনুর রহমানকে প্রধান করে ১১ সদস্যের কমিটি সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে।

মোট ১৯টি কোম্পানি বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোতে পণ্য উঠানামা করে। এর মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে শুধু সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড।

চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি সংগৃহীত

বিভিন্ন সময়ে এই বর্ধিত চার্জ নিয়ে ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনকে (বিকডা) দোষারোপ করলেও অবশেষে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে এর সমাধান হলো।

বেসরকারি ডিপোতে কন্টেইনারে পণ্য ওঠা-নামা ও পরিবহনে বর্ধিত চার্জ নিয়ে সম্প্রতি বিকডার সঙ্গে শিপিং এজেন্ট, সিএন্ডএফ, বিজিএমইএ- এক বৈঠক হয়। বৈঠকে চার্জ বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, গঠিত কমিটির সদস্যরা বেশ কয়েকবার যৌক্তিক হার নির্ধারণে বৈঠকে বসেন। এজন্য তারা ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জ্বালানি ও মজুরি খাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে পর্যালোচনা করেছেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রকৌশল বিভাগের দেওয়া হিসেব মতে, কন্টেইনার স্টোর রেন্ট নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইয়ার্ড নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি মূল্য ৪৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ, শ্রমিক মজুরি ৬০ শতাংশ, অন্যান্য খাতে ৩০ শতাংশ এবং ক্যাপিটেল কস্ট বেড়েছে ৬ শতাংশ।

কমিটির পর্যালোচনায় দেখা যায়, আইসিডিতে কন্টেইনার ওঠা-নামা ও পরিবহনের ক্ষেত্রে ৪১ দশমিক ৮০ শতাংশ ব্যয় বেড়েছে। তবে উভয় পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে মাঝামঝি অবস্থানে গিয়ে খালি কন্টেইনারের স্টোর রেন্ট ৯ শতাংশ, ওঠা-নামা ও পরিবহনের ২০ শতাংশ চার্জ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। পরে নির্ধারিত বর্ধিত চার্জের কপি বিকডার সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খানের হাতে তুলে দেন চট্টগ্রাম বন্দরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আজিজ।

বিকডার সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খান জানান, বন্দরের গঠিত কমিটি চার্জ বৃদ্ধির বিষয়ে পর্যালোচনা করেছে। তারাই বলেছেন, বর্তমানে যে চার্জ আদায় হওয়ার কথা তার থেকে ৪১ শতাংশ কম আদায় করছি। তবে কমিটি উভয় দিক বিবেচনা করে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ চার্জ বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম চেম্বার পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, কমিটি বর্ধিত চার্জ নির্ধারণে আলোচনা পর্যালোচনা করেছে। বৃহস্পতিবার বৈঠকে উভয় পক্ষ এটা মেনে নেওয়াই বিষয়টি সমাধানে পৌঁছেছে।

এছাড়া বৈঠকে কমিটির সদস্যরা ছাড়াও বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চেম্বার, শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মোট ১৯টি কোম্পানি বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোতে পণ্য উঠানামা করে। এর মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে শুধু সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড।

চট্টগ্রাম বন্দর অভ্যন্তরে এখন কোনো রপ্তানিপণ্য কনটেইনারে বোঝাই হয় না। রপ্তানিপণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ কারখানা থেকে এসব ডিপোতে এনে কনটেইনারে বোঝাই করে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানি হয়। বাকি ১০ শতাংশ হয় ঢাকার কমলাপুর সরকারি কনটেইনার ডিপো এবং কারখানা চত্বর থেকে। আমদানি-রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার পরিবহনের পাশাপাশি এসব ডিপো খালি কনটেইনারও সংরক্ষণ করে থাকে। এর বাইরে ৩৭টি আমদানিপণ্য হ্যান্ডলিং হয়ে থাকে।

সম্প্রতি বেসরকারি আইসিডিগুলো খালি কনটেইনারের ক্ষেত্রে গ্রাউন্ড রেন্ট, ওঠা-নামা ও ওয়ানওয়ে হলেজ চার্জ শতভাগ বৃদ্ধি করেছিল বিকডা। ২০ ফুট কনটেইনারের গ্রাউন্ড রেন্ট ৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং ৪০ ফুট কনটেইনারের ক্ষেত্রে ১৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হয়। খালি কনটেইনারের ওঠা-নামা (লিফট অন/লিফট অফ) চার্জ ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা, ওয়ান ওয়ে হলেজ এম্পটি ২০ ফুট কনটেইনার ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬ শ’ টাকা এবং ৪০ ফুট কনটেইনার ১৬ শ’ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩২ শ’ টাকা, খালি কনটেইনারের ডকুমেন্টেশন চার্জ ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করেছিল বিকডা।

এছাড়া রপ্তানিপণ্য কনটেইনার বোঝাইয়ের ক্ষেত্রে প্যাকেজ চার্জ ২০ ফুট কনটেইনার ৩ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৪ হাজার টাকা এবং ৪০ ফুট কনটেইনার ৪ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬ হাজার ৭৫০ টাকা, লেডেন গ্রাউন্ড রেন্ট ২০ ফুট কনটেইনার ৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং ৪০ ফুট কনটেইনার ১৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা, এবং আমদানিপণ্যের ক্ষেত্রেও ডেলিভারি চার্জ কনটেইনার প্রতি ১ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। অনচেচিস ডেলিভারির ক্ষেত্রেও একই পরিমাণ চার্জ বাড়িয়েছিল বিকডা।

প্রসঙ্গত, বিকডা আমদানি-রফতানিকারক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা না করে এই ২০০ শতাংশ চার্জ বাড়িয়েছে অভিযোগ করে শিপিং এজেন্ট। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষ অনেকটা বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি বৈঠক আহ্বান করে পোর্ট ইউজার্স ফোরাম। বৈঠকে বিকডার বর্ধিত চার্জ প্রতিহত করার ঘোষণা দেন ব্যবসায়ীরা।

পরে ১৯ সে জানুয়ারি বন্দর ভবনে বিষয়টি সমাধানে এবং সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক হারে চার্জ নির্ধারণে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর শাহীনুর রহমানকে।

অর্থসূচক/দেবব্রত/গিয়াস/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ