বিবাহ বিচ্ছেদ বাড়ায় ফেসবুক টুইটার!

FB_Divorceসময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুরই পরিবর্তন আসে। মানুষের ব্যাক্তিগত জীবন থেকে সামাজিক জীবন-সবই এ পরিরবর্তনের ছোঁয়ায় বদলে যেতে পারে। আগে সামাজিক যোগাযোগ রক্ষায় শারীরিক উপস্থিতি ছিল অনেকটাই অপরিহার্য। সময়ের টানাপোড়েনে এখন অনেক ক্ষেত্রেই তা সম্ভব হয়ে ওঠে না। কিন্ত তাই বলে তো সামাজিকতা থেমে থাকতে পারে না।বিকল্প হিসেবে মানুষ এখন ব্যবহার করছে নানা ধরনের সামাজিক যোগাযোগের সাইট। কিন্তু এ সাইটগুলো সামাজিক সম্পক বাড়ানোর পাশাপাশি,তার আবার ক্ষতিও করে।এমন কি তা বিবাহ বিচ্ছেদের মত চরম ঘটনারও কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

টাইম ম্যাগাজিনের সমীক্ষা অনুসারে ২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যে যত বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে তার ২০ শতাংশের পেছনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষাভাবে ছিল ফেসবুক,টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বিভিন্ন সমীক্ষায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের আরও নেতিবাচক দিক চিহ্নিত হয়েছে।অভ্যস্ততার কারণে ফেসবুক,টুইটার ব্যবহার হয়তো বন্ধ করতে পারবো না আমরা,নেতিবাচক দিকগুলো জানা থাকলে তার মাত্রা সহনীয় রাখতে পারবো।তাহলে চলুন একটু জেনে নেওয়া যাক-

সম্পর্কে বিচ্ছেদ তৈরি হয়:

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচয়,সম্পর্ক গড়ে তোলা কিংবা পুরনোদের সাথে সম্পকের নিবিড়তা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।তবে পুরনো সম্পক ভাঙ্গতেও এদের ভূমিকা কম নয়।টাইম ম্যাগজিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে ২০০৯ সালে যত বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে তার ২০ শতাংশই ফেসবুকজনিত কারণে ঘটেছে।ফেসবুকের মাধ্যমে নতুন নতুন সম্পর্ক গড়ে উঠায় অনেক ক্ষেত্রে অনেক স্বামী বা স্ত্রী পরস্পরকে নজরে রাখতো, সে কার সঙ্গে চ্যাট করছে,কি ধরনের ম্যাসেজ বিনিময় হচ্ছে।এ নিয়ে পরস্পরের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়তে থাকে,শুরু হয় সম্পর্কের টানাপেোড়েন।এক পর্যায়ে তা বিবাহবিচ্ছেদে গড়ায়।

নানা রোগ সৃষ্টি:

সামাজিক যোগাযোগ সাইট ব্যবহার একটি মারাত্মক নেশা। আমাদের দেশে সম্প্রতি থ্রি জি সেবা চালু কিংবা কম টাকায় স্মার্টফোন কিনতে পারায় ক্লাস সিক্স সেভেন এর ছেলে মেয়েরাও এ নেশায় জড়িয়ে পড়ছে।এতে একদিকে যেমন তাদের পড়াশোনা বিঘ্নিত হচ্ছে,তেমনি তারা এসব সাইটে নতুন প্রবেশ করায় এ সম্পর্কে জানার কৌতুহলের তীব্র আগ্রহ থেকে তাদের সময় অপচয় করছে। অনেক দেশে এটাকে অ্যালকোহল বা কোকনের মতোই ভয়াবহ মনে করা হয়। মাদকদ্রব্যসেবন যেমন শরীর ও মনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে,ঠিক তেমনি অনিয়ন্ত্রিভাবে একটানা অনেকক্ষণ ফেসবুক ব্যবহার নেতিবাচক প্রভাব বয়ে আনে। শরীরে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হয়।মাথাব্যথা,চোখ জ্বালা করা,ঘাড় বা পিঠ ব্যথা,হাতের ও হাঁটুর গিটগুলোয় ব্যথা অনুভব করা,মাথা ধরে থাকা প্রভৃতি উপসর্গ প্রায়ই লক্ষ্য করা যায়।

শরীর স্থুল হওয়া : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্তদের খাওয়া-দাওয়া অনিয়মিত হয়ে পড়ে। তাছাড়া তাদের মধ্যে ফাস্টফুড ও শুকনাজাতীয় খাবারে বেশি আগ্রহ বাড়ে। এসব খাবার যা সুষম পুষ্টি সরবরাহ করে না। এতে শরীরে চর্বি বাড়ে। ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা ট্যাব-স্মার্টফোনে আসক্তির শারীরিক কাজে সম্পৃক্ত থাকে না বলে চর্ব পোড়ে না। এতে মানুষ স্থুল হয়ে পড়ে।

সময় নষ্ট হওয়া :

ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি প্রচুর সময় নষ্ট করে। বাংলাদেশে মোট ফেসবুকব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখের বেশি।এদের একটি বড় অংশ হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। বলা হচ্ছে, তারা যদি দিনে গড়ে ১০ মিনিট করে ফেসবুক ব্যবহার কর,তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার কর্মচারীর এক মাসের শ্রমঘণ্টার চেয়েও বেশি অপচয় হয়। এটি আমাদের মতো গরিব দেশের এটি বেশ বড় ক্ষতির কারণ। ফেসবুক কর্তৃক্ষের হিসাব অনুযায়ী,প্রতিদিন ফেসবুক ব্যবহার করে ২৫ কোটির বেশি ইউজার, যাদের গড়ে ১৩০ জনের বেশি বন্ধু রয়েছে এবং মাসে ৭০ হাজার কোটি মিনিটের বেশি ফেসবুক ব্যবহার হয়। মোট ব্যবহারের ৭০ শতাংশ নন-আমরেকিান। পেজের মধ্য পর্নো পেজ ভিজিট হয় সবচেয়ে বেশি।আইফোন ও অন্যান্য সেল ফোনে ইন্টারনটে চালু হওয়ায় ফেসবুক ব্যবহারের প্রবণতা গোটা বিশ্বে ব্যাপকভাবে বেড়েছে ।

বানান ভুল করে স্মার্ট হতে শেখা :

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হচ্ছে,ফেসবুক ইউজারদের অনেকেই ইংরেজি অক্ষরে বাংলা লেখে। এতে দেখা যায়, আগে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করে হলেও তিনি যা বলতে চাইতেন তার ইংরেজি শব্দটা বা বাক্যটা জানার চেষ্টা করতেন। এখন যেন তার প্রয়োজন শেষ হয়ে গেছে। নতুন কোনো ইংরেজি শব্দ না শিখেও তারা অনায়াসে মেসেজ পাঠাচ্ছেন, মন্তব্য করছে। বড় ও জটিল শব্দগুলোকে সংক্ষিপ্ত করে ফেলছে।বড় শব্দকে ছোট লিখতে গিয়ে তারা প্রকৃত বানানটা ভুলে যাচ্ছে। এর কুপ্রভাব সাম্প্রতকি কালে পরীক্ষার উত্তরপত্রেও লক্ষ করা যাচ্ছে,বানান ভুলের হার আগের তুলনায় বেড়েছে।সংক্ষপে হলেই স্মার্ট হয়-এ ভয়াবহ ধারণাটি তরুণদের মারাত্মকভাবে আক্রান্ত করেছে।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ সাইট ব্যবহারের ফলে অনেক সময় নিজের গোপন তথ্য ফাঁস হচ্ছে। নিজের ব্যক্তিত্ব নষ্ট হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে চলেছে ।