মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড বহালে সন্তুষ্ট রাষ্ট্রপক্ষ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড বহালে সন্তুষ্ট রাষ্ট্রপক্ষ

মানবতাবিরোধী অপরাধে মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড আপিলের রায়ে বহাল থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

প্রধান বিচার বিচারপতি এস.কে. সিনহা নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার সকালে মীর কাসেমের আপিলের রায় ঘোষণার পর নিজের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিক্রিয়া জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

এসময় তিনি বলেন, প্রত্যাশিত ফল পেয়েছি। একাত্তরে যারা ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতা ছিলেন, সেই নিজামী দণ্ডিত হয়েছেন। পূর্ব পাকিস্তানের সভাপতি ছিলেন মুজাহিদ। তারও বিচার হয়েছে। মুজাহিদের সঙ্গে মীর কাসেম ছিলেন, সেক্রেটারি, তিনি আজ দণ্ডিত হয়েছেন। তিনি দণ্ডিত না হলে ন্যায় বিচারের ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ন হতো।

একাত্তরে চট্টগ্রামের বদর কমান্ডার যে সব মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন- তাতে তার সর্বোচ্চ শাস্তিই প্রাপ্য ছিল বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে আদলতের বাইরে বিভিন্ন ব্যক্তির বক্তব্য নিয়েও কথা বললেন মাহবুবে আলম। স্বাধীনতার ৪৫ বছর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য সরকারের সদিচ্ছাকেই বড় করে দেখছেন তিনি।

মাহবুবে আলম বলেন, কেউ কেউ মনে করেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার তারাই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এটা ভ্রান্ত ধারণা। তাদের মনে রাখতে হবে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে এই বিচার হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের কথা বলা হয়েছিল।

এই বিচার এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর আপোষহীন ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সব সময় আমাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের (রিভিউ) বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, সর্বোচ্চ আদালত এ রায় দিয়েছে, এ নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। তবে ইতিহাস একদিন এরও বিচার করবে।

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে মীর কাসেম আলীর ছেলে বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে রায় নিয়ে পরে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। রায়ের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আমরা লিখিত বক্তব্য দেব।

প্রসঙ্গত, জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের পর মীর কাসেম ছিলেন আলবদর বাহিনীর তৃতীয় প্রধান ব্যক্তি। একাত্তরে ঈদুল ফিতরের আগে চট্টগ্রামে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিন আহমেদসহ কয়েকজনকে ধরে নিয়ে ডালিম হোটেলে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে সর্বোচ্চ আদালত।

অর্থসূচক/বিএন/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ