ওষুধের ভূয়া বিলে কোটি টাকা আত্মসাৎ!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

ওষুধের ভূয়া বিলে কোটি টাকা আত্মসাৎ!

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভূয়া অনুমোদনপত্র তৈরি করে নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দাম দেখিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বরিশাল সিভিল সার্জন অফিসের ডাক্তাররা। ওই জেলার ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস কার্যালয়ের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ আত্মসাতে সহযোগিতা করেছেন বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে।

তাই সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১১ জনকে আসামি করে দুটি মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

medicine, pharmaceuticals

সোমবার রাজধানীর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের এক বৈঠকে এসব মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়। খুব শিগগিরই দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল বাদি হয়ে বরিশাল জেলার কোতয়ালী থানায় মামলা দুটি দায়ের করবেন।

দুদক সূত্র অর্থসূচককে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অনুমোদিত মামলায় আসামিরা হলেন- বরিশাল সিভিল সার্জন অফিসের সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মো. খায়রুল আলম, ডা. আফতাব উদ্দিন আহমেদ, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সাইদুর রহমান, মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হাবিবুর রহমান, বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের ডেন্টাল সার্জন ডা. সৈয়দ মাহবুব হাসান। এছাড়া আরও রয়েছেন ওই হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদীন, বরিশাল ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব একাউন্টস কার্যালয়ের সাবেক অডিটর মো. রুহুল আমিন চৌধুরী, সাবেক সুপার কাজী মিজানুর রহমান, সাবেক জেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান, ঠিকাদার মো. আমিনুর রহমান চৌধুরী এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাদারিপুর মেডিসিন সাপ্লায়ার্স মালিক মো. সাইদুর রহমান খান।

দুদক সূত্র জানায়, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই ৯টি বিলের ভূয়া অনুমোদনপত্র তৈরি করেন। পরে ইডিসিএলের নির্ধারিত দর উপেক্ষা করে বেশি দরে ৫৭টি আইটেমের ওষুধ বাইরে থেকে ক্রয় করেন। অসৎ উদ্দেশে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাদারীপুর মেডিসিন সাপ্লায়ার্স মালিক মো. সাইদুর রহমান খান এসব ওষুধ সরবরাহ করেন। এভাবে ৯টি ভূয়া বিলের বিপরীতে ৮৭ লাখ ৬ ৫হাজার ৫৯২ টাকা উত্তোলনে সহযোগিতা করেন বরিশাল ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব একাউন্টস কার্যালয়ের ওইসব কর্মকর্তারা।

একইভাবে দ্বিতীয় অনুমোদিত মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সিভিল সার্জন ডা. মো. খায়রুল আলম বাকি আসামিদের সহযোগিতায় এমএসআর স্ট্যান্ডার দরের চেয়ে অধিক দরে ২৫টি বিপি মেশিন ও ওষুধ কেনা বাবদ ১১ লাখ ১১ হাজার ৩৫১ টাকা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাৎ করেন। অসৎ উদ্দেশে এসব পণ্য সরবরাহ করেছেন ঠিকাদার মো. আমিনুর রহমান চৌধুরী।

এভাবে মোট ৯৮ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪৩ টাকা সরকারের ক্ষতি সাধনপূর্বক আত্মাসাৎ করেছেন বলে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে। তাই সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১১ জনকে আসামি করে আজ দুটি মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটি।

অর্থসূচক/মাইদুল/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ