র‌্যাবের হেফাজতে বনশ্রীর নিহত ২ শিশুর মা-বাবা-খালা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

র‌্যাবের হেফাজতে বনশ্রীর নিহত ২ শিশুর মা-বাবা-খালা

বনশ্রীতে রহস্যজনকভাবে নিহত দুই শিশুর মা, বাবা ও খালাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জামালপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় আনছে র‌্যাব। ময়নাতদন্তে হত্যার আলামত পাওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার থেকে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এখনও পর্যন্ত ওই ঘটনায় কোনো মামলাও হয়নি।

ইশরাত জাহান অরণী (১৪) ও তার ভাই আলভী আমানের (৬) দাফনের জন্য পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা গতকাল মঙ্গলবারই জামালপুরের ইকবালপুরে তাদের গ্রামের বাড়িতে যান। আজ বুধবার সকালে ওই বাড়ি থেকে ২ শিশুর বাবা আমানুল্লাহ, মা মাহফুজা মালেক জেসমিন এবং খালা আফরোজা মিলাকে নিয়ে ঢাকার পথে রওনা হন র‌্যাব কর্মকর্তারা।

নিহত শিশুদের চাচা জামালপুরের বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, আজ সকালে র‌্যাব এসে আলামত দেখানোর কথা বলে তাদর তিনজনকে তুলে নিয়ে গেছে।

তবে তাদের গ্রেপ্তার বা আটকের কথা অস্বীকার করেছেন র‌্যাব-৩ এর কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুশতাক আহমেদ। তিনি বলেন, ঘটনার বিস্তারিত জানতে পূর্ণাঙ্গ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাবের গাড়িতে করে নিহত ২ শিশুর বাবা, মা ও খালাকে ঢাকায় আনা হচ্ছে।

ইশরাত জাহান অরণী (১৪) ও তার ভাই আলভী আমানের (৬) দাফনের জন্য পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা গতকাল মঙ্গলবারই জামালপুরের ইকবালপুরে তাদের গ্রামের বাড়িতে যান। আজ বুধবার সকালে ওই বাড়ি থেকে ২ শিশুর বাবা আমানুল্লাহ, মা মাহফুজা মালেক জেসমিন এবং খালা আফরোজা মিলাকে নিয়ে ঢাকার পথে রওনা হন র‌্যাব কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইস্কাটন শাখার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ইশরাত জাহান অরণী এবং তার ছোটভাই আলভী আমান হলি ক্রিসেন্ট স্কুলে নার্সারির ছাত্র ছিল।

রেস্তোরাঁর খাবার খেয়ে ঘুমানোর পর আর ঘুম ভাঙ্গেনি দাবি করে গত সোমবার রাতে অরণী ও আলভীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় তাদের স্বজনেরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রদীপ কুমার দাশ এই তথ্য জানান। তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের সময় থেকে অন্তত ৩৬ ঘণ্টা নুসরাত ও আলভীর মৃত্যু হয়েছে। ভাই-বোন দুই জনের শরীরেই আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাদের গলায় কালচে দাগ, চোখে রক্তের দাগ এবং দুজনের পায়েই আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। দুজনেরই চামড়া ছিড়ে গেছে।

তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, চাইনিজ রেস্তোরাঁ থেকে কেনা খাবার খেলে গতকাল সোমবার দুপুরে ঘুমানোর পর তারা আর জেগে ওঠেনি। রাত ৮টার দিকেও তাদের ঘুম না ভাঙ্গায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে। সেখানে নেওয়ার পর তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

ডা প্রদীপ কুমার দাশ জানান, তাদের শরীরে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এটি হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকতে পারে। হয়তো ২ শিশুকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে হাসপাতালে অরণী ও আলভীকে মৃত ঘোষণা করার পরই তাদের মা-বাবাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। নিহতদের চাচা জানান, নুসরাত ও আলভীর বাবা মো. আমান উল্লাহ একজন ব্যবসায়ী এবং মা জেসমিন আক্তার গৃহিণী। তাদের আর কোনো সন্তান নেই। ২ সন্তানের মৃত্যুর খবরে মানসিক অবস্থা ভালো না থাকায় তাদের বাড়িতে স্বজনদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

একে রহস্যজনক মৃত্যু উল্লেখ করে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা হতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চাইনিজ রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক, কর্মচারী, পাচককে থানায় নেওয়া হয়েছে।

অর্থসূচক/ইটি/পিএ/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ