জয়ে ফিরল পাকিস্তান
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ক্রিকেট

জয়ে ফিরল পাকিস্তান

১৩০ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে শুরুতেই বড় ধরনের ধাক্কায় পড়ে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। আরব আমিরাতের অধিনায়ক আমজাদ জাভেদের বোলিং বিধ্বংসী বোলিংয়ে মাত্র ১৭ রানেই প্রথম সারির তিন উইকেট হারিয়ে চুপসে যায় দলটি। তবে চাপে পরা পাকিস্তানকে টেনে তোলেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান উমর আকমল ও শোয়েব মালিক।

সোমবার মিরপুরে আমিরাতের ইনিংসে ঘাম ঝরানো জয় পেল পাকিস্তান। ১২৯ রান তাড়া করতে নেমে ৩.১ ওভারে ১৭ রানেই পাকিস্তান হারিয়ে ফেলে ৩ উইকেট। যেন ‘ছোট’ ভাইদের কাছেই হারতে বসে আফ্রিদির দল!

কিন্তু না! পাকিস্তানের ভাগ্য ভালো উইকেটে দাঁড়িয়ে গেলেন মালিক ও উমর আকমল। কাঁপতে থাকা পাকিস্তানকে প্রথমে এনে দিলেন স্বস্তি ফেলার মতো ভিত। এরপরই গিয়ার পরিবর্তন করে কচু কাটা করলেন আমিরাতের বোলারদের। যার তোপটা সবচেয়ে বেশি গেল আমিরাত অধিনায়ক আমজাদ জাভেদের ওপর দিয়ে। প্রথম ৩ ওভারে ১৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট পাওয়া আমজাদের শেষ ওভারে এই দুজন নিলেন ২৩ রান। ব্যস, ম্যাচ নিয়ে সৃষ্ট হওয়া অনিশ্চয়তা দূর হয়ে গেল এক নিমেষেই। ৮ বল থাকতে ম্যাচ জিতে আসার সময় মালিক আর আকমল দুজনই ফিরেছেন ফিফটি করে। মালিক ৬৩ করেছেন ৪৯ বলে আর আকমল কাটায় কাটায় ৫০ করেছেন ৪৬ বল খেলে। মালিক-আকমলের ১১৪ রানের অবিচ্ছিন্ন চতুর্থ উইকেট জুটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্ব রেকর্ড।

এর আগে টসে জিতেই ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমিরাত অধিনায়ক আমজাদ জাভেদ। চলতি এশিয়া কাপে এখন এটাই স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে-মিরপুরের উইকেটে পরে ব্যাট করে জেতাটা বেশ কঠিন। একমাত্র ব্যতিক্রম পাকিস্তান, তারাই শুধু আগে ব্যাট করে হেরেছিল। পরে ব্যাটিং করে জেতাটাও করে দেখাল তারা।
আমিরাতের ইনিংসের শুরু দেখে অবশ্য পরিসংখ্যান নিয়েই ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করে দিতে হয়েছিল। চার ওভার না যেতেই ১২ রানে নেই ৩ উইকেট। বল হাতে আগুন ঝরাচ্ছিলেন আমির, ইরফান ও সামিরা। ‘ছোট ভাই’দের হাতের নাগালে পেয়ে টি-টোয়েন্টির সর্বনিম্ন ইনিংসের লজ্জা না উপহার দেয় পাকিস্তান, জেগেছিল সে শঙ্কাও। মোহাম্মদ শাহজাদকে নিয়ে প্রথমে সে লজ্জা এড়ালেন শাইমান। ১১তম ওভারের শেষ বলে শাহজাদও যখন ফিরে গেলেন, তখনো বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল ৭৩ সংখ্যাটি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আমিরাতের সর্বনিম্ন স্কোর যে এটিই।

কিন্তু আমিরাতের সে ভয় ঝেঁটিয়ে বিদায় করলেন শাইমানই। অভিষিক্ত মোহাম্মদ নওয়াজকে টানা দুই বলে ছক্কা ও চার দিয়ে শুরু। তার পরের ওভারেই আফ্রিদিকে মারা সেই তিন চার। শাইমানের এই ঝড়ের পূর্বাভাসটি অবশ্য থেমে গেল পরের ওভারেই। মোহাম্মদ ইরফানের বলে ৪২ বলে ৪৬ করা শাইমান দলীয় ৭২ রানে ফিরে গেলেও প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাসটা ঠিকই দিয়ে গেলেন পরের ব্যাটসম্যানদের। মোহাম্মদ আমিরের ৪ ওভারে ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট পাওয়াটাও আটকাতে পারেনি মোহাম্মদ উসমান (২১) ও জাভেদকে (২৭*)। তাঁদের দুজনের এই ছোট ইনিংস দুটি ১২৯ রানে পুঁজি এনে দিয়েছিল আমিরাতকে। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত এটাও যথেষ্ট হলো না আমিরাতের জন্য।

এই বিভাগের আরো সংবাদ