টাইগারদের নান্দনিক জয়
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ক্রিকেট

টাইগারদের নান্দনিক জয়

শ্রীলঙ্কাকে ২৩ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ। রোববার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ১৪৭ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা। এর জবাবে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৪ রান তুলতে সক্ষম হয়েছে শ্রীলঙ্কা।

Bangladesh cricketer Shakib Al Hasan (R) celebrates with his teammate Nurul Hasan (L) after the dismissal of the Zimbabwe cricketer Vusi Sibanda during the first T20 cricket match between Bangladesh and Zimbabwe at the Sheikh Abu Naser Stadium in Khulna on January 16, 2016.  AFP PHOTO/ Munir uz ZAMAN / AFP / MUNIR UZ ZAMAN        (Photo credit should read MUNIR UZ ZAMAN/AFP/Getty Images)

টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভাল হয়নি স্বাগতিকদের, ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ওপেনার মোহাম্মদ মিথুন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের এলবিডব্লিউ এর শিকার হন দলীয় শূন্য রানে। পরে দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে আরেক ওপেনার সৌম্য সরকারও ব্যক্তিগত শুন্য রানে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান। কুলাসেকারার বলে ম্যাথুজের ক্যাচে পরিণত হন তিনি, দলীয় সংগ্রহ তখন ২ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ২ রান।

শুরুতেই বিপর্যস্ত দলকে এগিয়ে নিতে সাব্বির রহমান ও মুশফিকুর রহিম জুটি বেশিদূর এগুতো পারেননি। ব্যক্তিগত ৪ রানে মুশফিক রান আউট হয়েছেন ইনিংসের ৪.৫ ওভারে। তবে ২৭ রানেই ৩ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে লড়াই করার মত পুঁজি এনে দেন সাব্বির রহমান। টি ২০ ক্রিকেটের মেজাজটা যে বেশ ভালই রপ্ত করেছেন তিনি তা আরেকবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রমাণ করলেন। ইনিংসের শুরু থেকেই যখন এক প্রান্তে বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিল, তখন অপর প্রান্তে সাব্বিরের ব্যাট উজ্জ্বল। লঙ্কান বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডবই চালিয়েছেন বাংলাদেশের এই তরুণ ক্রিকেটার। ১৬তম ওভারের শেষ বলে চামিরার বলে জয়াসুরিয়ার ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে তিনি ৫৪ বলে ৮০ রান করেছেন। ১০ চার ও ৩ ছক্কায় ইনিংসটি সাজিয়েছেন তিনি।

এদিকে সাব্বিরের বিদায়ের পর কিছুটা ঝড়ো ব্যাটিং করছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু ১৭.২ ওভারে চামিরার বলে চান্দিমালের ক্যাচে পরিণত হন তিনি। ৩৪ বলে ৩ চারে ৩২ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি। শেষদিকে মাহমুদুল্লাহ এর ১২ বলে ২৩ রানের ঝড়ো ইনিংসে বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রান সংগ্রহ করে।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কার শুরুটাই ছিল এলোমেলো। কিন্তু ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই তাসকিন আহমেদের বলে লঙ্কান ওপেনার চান্দিমাল ক্যাচ তুললেও তা ধরতে পারেননি সৌম্য সরকার। তবে চতুর্থ ওভারে সেই ভুল আর করেননি সৌম্য। সাকিব আল হাসানের প্রথম বলেই তিলকরত্নে দিলশানের (১২ রান) ক্যাচ লুফে নেন তিনি। কিন্তু সিহান জয়াসুরিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচ শ্রীলঙ্কার নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন ওই চান্দিমাল। তবে তাদের ৫৬ রানের জুটি ভেঙ্গে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়ে আনেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ১১তম ওভারের শেষ বলে ব্যক্তিগত ৩৭ রানে তাসকিনের হাতেই তালুবন্দী হন চান্দিমাল।

পরের ওভারেই আবার শ্রীলঙ্কার ইনিংসে আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। ১১.২ ওভারে উইকেটকিপার নুরুল হাসানের স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন জয়াসুরিয়া (২৬ রান)। পরে ১৩.২ ওভারে থিসেরা পেরেরাকে এলবিডব্লিউ করে ম্যাচটি অনেকটাই বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ। আর ১৫তম ওভারে এসে শ্রীলঙ্কাকে আরও চেপে ধরেন টাইগার দলপতি মাশরাফি। ওভারের শেষ বলে সারিওয়ার্ধানেকে সাব্বিরের ক্যাচ বানান তিনি। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি শ্রীলঙ্কা, উল্টো আল আমিন হোসেনের দুই ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে আরও কোনঠাসা হয়ে পড়ে লঙ্কানরা। ফলে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে তারা সংগ্রহ করতে পারে ১২৪ রান। বাংলাদেশের পক্ষে আল আমিন হোসেন ৩টি ও সাকিব আল হাসান ২টি উইকেট নেন।

এই ম্যাচ জয়ের সুবাদে আসরে ফাইনালে খেলার সম্ভবনা বাঁচিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে হারলেও পরের ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল মাশরাফিবাহিনী। আসরে নিজেদের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান।

অর্থসূচক

এই বিভাগের আরো সংবাদ