ট্রেনের সবচেয়ে দীর্ঘ প্লাটফর্ম ভারতে
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » টুকিটাকি

ট্রেনের সবচেয়ে দীর্ঘ প্লাটফর্ম ভারতে

আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম রাষ্ট্র ভারত। বিশ্ব অর্থনীতির পর্যালোচনায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছে এশিয়ার মহাদেশের দেশটি। এর সরকারি নাম ভারতীয় প্রজাতন্ত্র।

প্রাচীন কাল থেকেই ভারতীয় উপমহাদেশ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য সুপরিচিত। ঐতিহাসিক সিন্ধু সভ্যতা এই অঞ্চলেই গড়ে উঠেছিল। ইতিহাসের বিভিন্ন পর্বে এখানেই স্থাপিত হয়েছিল বিশালাকার একাধিক সাম্রাজ্য। দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৪৭ সালে ভারত একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্ররূপে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৫০ সালে সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয় ভারত।

Gorakhpur2

গুরাগপুর স্টেশন।

ভারতীয় অর্থব্যবস্থা বাজারি বিনিময় হারের বিচারে বিশ্বে দ্বাদশ ও ক্রয়ক্ষমতা সমতার বিচারে বিশ্বে চতুর্থ বৃহত্তম। ১৯৯১ সালে ভারত সরকার গৃহীত আর্থিক সংস্কার নীতির ফলশ্রুতিতে আর্থিক বৃদ্ধিহারের বিচারে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাগুলির মধ্যে দ্বিতীয় ভারত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা বার বার ভারতের প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রশংসায় মুগ্ধ হয়েছেন।

ভারত সম্পর্কে এমন অনেক কথা পৃথিবীর সব মানুষের জানা। তবে ওই দেশ সম্পর্কে এখনও অজানা রয়েছে অনক কিছু। তেমন একটি বিষয় হলো- বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম ট্রেনের প্লাটফর্ম রয়েছে ভারতে। দেশটির উত্তর প্রদেশের গুরাগপুর শহরে অবস্থিত গুরাগপুর প্লাটফর্মের দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার। এটিই বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম ট্রেনের প্লাটফর্ম।

locomotive engine

লুকোমোটিভ ইঞ্জিন।

রেলযোগাযোগের প্রাচীন ইঞ্জিনগুলোর একটি লুকোমোটিভ। যা তৈরি করা হয়েছিল ১৮৫৫ সালে। বাষ্পচালিত লুকোমোটিভ ইঞ্চিনের ব্যবহার এখনও ধরে রেখেছে ভারতীয় রেলওয়ে।

ভারতের একই স্থানে দুটি রেল স্টেশন রয়েছে। দেশটির মহারাষ্ট্রের আহমেদনগর জেলার একই স্থানে নির্মিত স্টেশনগুলো হলো- শ্রীরামপুর এবং বেলাপুর স্টেশন। একই স্থানেই হলেও মূলত রেললাইনের ২ পাশে দুটি স্টেশন পৃথক স্টেশন রয়েছে সেখানে। এমন ঘটনা পৃথিবীতে বিরল।

কোনো ধরনের বিরতি ছাড়াই ত্রিভান্ড্রাম-নিজামুদ্দিন রুটে টানা ৫২৮ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দেয় ভারতের রাজধানী এক্সপ্রেস। এতো দীর্ঘ রাস্তা এক টানে পাড়ি দেয়- এমন ট্রেনের সংখ্যাও বিশ্বে খুব বেশি নয়।

Rajdhani

রাজধানী এক্সপ্রেস।

বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই ট্রেনের সময়সূচিতে বিঘ্ন ঘটতে দেখা যায়। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি ট্রেনেই যাত্রা বিলম্ব হয় বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। তবে পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যাত্রা বিলম্বের দিক থেকে বাংলাদেশ খুব বেশি খারাপ অবস্থানে আছে- এমনটি বলা যাবে না। উন্নত রাষ্ট্রগুলোতেও নিয়মিত ট্রেনের বিলম্বিত যাত্রার খবর পাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে বেশি বিলম্বিত ট্রেনটি হয়তো ভারতের। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতিটি সিডিউলে যাত্রা বিলম্ব করে ভারতের গুয়াহাটি-ত্রিভান্ড্রাম এক্সপ্রেস। এর জন্য অবশ্য দূরত্বকেই দায়ী করেন সংশ্লিষ্টরা। ভারতের সবচেয়ে বেশি দূরত্ব পাড়ি দেয় গুয়াহাটি-ত্রিভান্ড্রাম এক্সপ্রেস ট্রেন। যেকোনো এক প্রান্ত থেকে যাত্রা করে অন্য প্রান্তে পৌঁছতে এই ট্রেনের সময় লাগে ৬৫ ঘণ্টা ৫ মিনিট। একইসঙ্গে প্রতিটি সিডিউল থেকে গড়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিলম্বে যাত্রা শুরু করে ট্রেনটি।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

অর্থসূচক/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ