তীব্র গরম আর ভিড় কোনো বাধা নয় গ্রন্থমেলায়
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » বই মেলা

তীব্র গরম আর ভিড় কোনো বাধা নয় গ্রন্থমেলায়

টানা তিন দিনের ছুটির আমেজে আছেন নগরবাসী। শুক্র-শনি সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে বাড়তি পাওয়া হিসেবে যোগ হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি। সাধারণত ছুটির দিনগুলোকে উপভোগ্য করতে নানা পরিকল্পনা থাকে নগরবাসীর। কিন্তু ভাষার মাসে বাংলা একাডেমিতে চলা মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলাকে কেন্দ্র করে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই ছুটির দিনগুলোকে একটু ভিন্নভাবেই সাজিয়েছে রাজধানীর বইপ্রেমীরা। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

আজ শুক্রবার। বিরতিহীন ছুটির প্রথম দিন এবং বই মেলার ১৯তম দিন। যান্ত্রিক জীবনের একগুঁয়েমি ঘুচানো এবং প্রিয় লেখকের বইয়ের টান। দুই মিলিয়ে ঢাকা এবং ঢাকার আশেপাশের বই প্রেমীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে সকাল থেকেই লাইন ধরেছেন বই মেলার দুই অংশের গেটে। ফলে সকাল ১১টায় শুরু হওয়া মেলা জমে উঠতে খুব একটা সময় লাগেনি।

Book Fair3

শুধু বই দেখা নয়; আজকের বই মেলায় বই কেনা-বেচাই বেশি হচ্ছে। ছবি: মহুবার রহমান

মেলা প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে কথা হয় বাংলাদেশ ব্যাংককের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাহমুদ-উন-নবির সঙ্গে। সপরিবারে মেলায় এসেছেন তিনি। মাহমুদ উন নবি অর্থসুচককে বলেন, ছুটির দিনে বেশি ভিড় থাকবে আগেই আন্দাজ করতে পেরেছি। তাই আগে-ভাগেই চলে এলাম। কিছু বই কিনবো- আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম।

তিনি আরও বলেন, সকালে যখন মেলায় ঢুকি তখনও লাইন ছিল ঢের। এখন দুপুর গড়িয়ে; ক্রমান্বয়ে বাড়ছে ভিড়। আসলে এখন যারা আসছেন, তারা প্রকৃত ক্রেতা।

বই মেলার ১৯তম দিনে আজ শুক্রবার সকাল থেকেই তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। মাথার উপর সূর্যের প্রখর তাপ আর বাতাসে ভ্যাপসা গরম কোনো কিছুই যে একুশের চেতনার মাঝে বাধা হতে পারে না- আবারও তার প্রমাণ মিলল মেলার প্রবেশপথে। আকাবাঁকা আর পেঁচানো জনসারি দেখে। ভেতরেও ততক্ষণে বেশ জটলা বেঁধে গেছে।

আজ শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণে নানা বয়সী মানুষের ভিড়। ছবি: মহুবার রহমান

আজ শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণে নানা বয়সী মানুষের ভিড়। ছবি: মহুবার রহমান

এদিকে, বাংলা একাডেমি অংশে চলছে শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। মেলায় আগত দর্শণার্থীদের কানে ভেসে আসছে দেশের গান আর সুর। হাটতে হাটতে সেই সুরে গলা মেলাচ্ছেন অনেকেই। ফলে শতকষ্টকে ছাঁপিয়ে দারুণ এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে মেলা প্রাঙ্গণে।

ঢাকার বাইরে থেকেও এসেছেন অনেকেই। সাভার থেকে বন্ধুদের সঙ্গে এসেছেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহফুজা আক্তার। তিনি বলেন, আজ সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বন্ধুরা মিলে সারাদিনই মেলায় ঘুরব। তাছাড়া নজরুলের একটা পত্র সংকলন কিনবো।

Book Fair

আজ শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণে নানা বয়সী মানুষের ভিড়। ছবি: মহুবার রহমান

সকাল থেকে সবচেয়ে বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে মেলার সোহরাওয়ার্দী অংশে শিশু চত্বরকে কেন্দ্র করে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ শিশুপ্রহর না থাকলেও যথারীতি শিশুদের বাধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস ও কোলাহলে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা শিশু চত্বর। বরাবরের মত সিসিমপুরের আয়োজনে ছিল হালুম-ইকরি-টুকটুকির সঙ্গে শিশুদের নাচানাচি, গান এবং সচেতনতামূলক বক্তব্য।

মা-বাবার সঙ্গে মেলায় আসা ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী মালিহার সঙ্গে দেখা হলো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাঞ্জেরী প্রকাশনীর সামনে। ৬টি বই বুকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সে। এতো ভার বহন করে ঠিকমত হাঁটতে পারছে না। তবু নতুন বই হাতছাড়া করতে নারাজ ছোট্ট মালিহা। বাবা জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে মিরপুরের রূপনগর থেকে এসেছে সে। জাহাঙ্গীর হোসেন জানালেন, পছন্দের বই পেয়ে সে এতো খুশি যে নিতে কষ্ট হলেও অন্য কারও হতে বই দিতে নারাজ।

মালিহা কাছে জানতে চাইলে সে বললো, ওর সবচেয়ে পছন্দ পাঞ্জেরি থেকে প্রকাশিত বেসিক আলির কমিক্স আর ছড়ার বই।

এদিকে অধিকাংশ নতুন বই ইতোমধ্যে মেলায় এসে পড়েছে। ফলে যারা ঘুরছেন তাদের বেশিরভাগই কিনছেন। প্রথম দিকে মেলায় এসে যারা কেবল বইয়ের ক্যাটালগ সংগ্রহ করেছিলেন। আজ যেন সময় এসেছে, সেগুলো থেকে পছন্দের বইটি লুফে নেওয়ার। আর তাই তো পছন্দের বইয়ের খোঁজে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে বইপ্রেমীরা ছুটছেন এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।

বেচা-বিক্রি নিয়ে মেলায় ঘুরতে ঘুরতে কথা হয় অনন্য প্রকাশনীর জুয়েল রানার সঙ্গে। তিনি অর্থসূচককে বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার আমাদের স্টল থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকার মতো বই বিক্রি করেছি। শুক্রবার থেকে তিনদিনের ছুটি শুরু। আশা করছি, রাত পর্যন্ত লাখের কাছাকাছি চলে যাওয়া সম্ভব হবে।

এছাড়া বড় এবং জনপ্রিয় প্রকাশনীগুলোতে আরও ভালো বিক্রি হবে বলে মনে করেন তিনি।

এর আগে, সকাল ১০টায় মেলার মূলমঞ্চে শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে এতে অতিথি ছিলেন সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী। এছাড়া সন্ধ্যায় যথারীতি থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অর্থসূচক/এসএমএস/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ