হারিয়ে গেল তিতাসের ৪৫০ কোটি টাকা!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অপরাধ ও আইন

হারিয়ে গেল তিতাসের ৪৫০ কোটি টাকা!

বাসা বাড়িতে গ্যাসের লাইন আছে; প্রতিমাসেই বিল পরিশোধ করেছেন গ্রাহকেরা। গ্যাস বিল বাবদ প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা তিতাসের ব্যাংক হিসাবে জমাও হয়েছে। কিন্তু বিলের ওই টাকা কোম্পানির রাজস্ব বিভাগে জমা হয়নি।

এমনই ঘটনা ঘটেছে রাজধানী ঢাকায় গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন (টিঅ্যান্ডডি) কোম্পানিতে।

তিতাসের টিঅ্যান্ডডি কোম্পানির কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজসে অবৈধ সংযোগ দেওয়ায় অর্থ বেহাত হওয়ার এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুনির্দিষ্ট ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১৫ সালের মার্চ থেকে এই অনুসন্ধানের কাজ শুরু হয়।

তিতাস গ্যাস টিঅ্যান্ডডি কোম্পানির কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী পরস্পর যোগসাজশে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়েছেন। সংযোগ পাওয়ার পর থেকে ওই গ্রাহকেরা যথারীতি বিলও পরিশোধ করেছেন। এক হিসাবে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত ৪৫০ কোটি টাকা তিতাসের ব্যাংক হিসাবে জমা দিয়েছেন তারা। কিন্তু তিতাসের রাজস্ব বিভাগের তালিকায় ওই গ্রাহকদের কোনো সংকেত নম্বর না থাকায় ওই টাকা কোম্পানির রাজস্ব বিভাগে জমা হয়নি।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি থেকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও বিলের অর্থ না পাওয়ার অভিযোগের অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল দুদক উপপরিচালক মোহাম্মদ মোরশেদ আলমকে। কিন্তু নথিপত্র সংগ্রহ ছাড়া তদন্তে তেমন অগ্রগতি হয়নি। তাই অনুসন্ধানে গতি আনতে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করেছে দুদক। সম্প্রতি এই অনুসন্ধানের দায়িত্ব পেয়েছেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. খলিলুর রহমান সিকদার। দুদকের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র অর্থসূচককে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, তিতাস গ্যাস টিঅ্যান্ডডি কোম্পানির কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী পরস্পর যোগসাজশে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়েছেন। সংযোগ পাওয়ার পর থেকে ওই গ্রাহকেরা যথারীতি বিলও পরিশোধ করেছেন। এক হিসাবে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত ৪৫০ কোটি টাকা তিতাসের ব্যাংক হিসাবে জমা দিয়েছেন তারা। কিন্তু তিতাসের রাজস্ব বিভাগের তালিকায় ওই গ্রাহকদের কোনো সংকেত নম্বর না থাকায় ওই টাকা কোম্পানির রাজস্ব বিভাগে জমা হয়নি। ফলে কিছু অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য হারিয়ে গেল তিতাসের ৪৫০ কোটি টাকা।

অভিযোগপত্র সূত্রে আরও জানা যায়, সাধারণভাবে নতুন গ্রাহকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে গ্যাস সংযোগ দেয় বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ। এরপর ফাইলটি রাজস্ব বিভাগে যায়। সেখানে প্রত্যেক গ্রাহকের জন্য একটি করে নম্বর (গ্রাহক সংকেত) বরাদ্দ করা হয়। ওই গ্রাহক সংকেতের বিপরীতে ব্যাংকে বিল জমা দেন তারা। কিন্তু রাজধানীর বিপুলসংখ্যক গ্রাহককে তিতাসের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ থেকে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হলেও তাদেরকে কোনো সংকেত নম্বর দেওয়া হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে দুদক জানিয়েছে, ২০০৯ সালের ২১ জুলাই থেকে শিল্প ও বাণিজ্যিক এবং ২০১০ সালের ১৩ জুলাই আবাসিক খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর কিংবা তারও আগে থেকে বিভিন্ন কৌশলে এসব গ্রাহককে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। অবৈধ সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, তিতাসের অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটই এসব সংযোগ দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অনুসন্ধানে দায়িত্বপ্রাপ্ত নতুন কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক মো. খলিলুর রহমান সিকদার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অর্থসূচক/এমআই/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ