খেলাপি কমেছে ৩৩৩৭ কোটি টাকা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ব্যাংক-বিমা

খেলাপি কমেছে ৩৩৩৭ কোটি টাকা

গত বছরের শেষ প্রান্তিকে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ কমেছে ৩ হাজার ৩৩৭ কোটি ৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, ২০১৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৩৭১ কোটি ২২ লাখ টাকা; যা মোট অনাদায়ী ঋণের ৮.৭৯ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, খেলাপি ঋণ কমলেও তা প্রত্যাশিত নয়। তাদের মতে, নমনীয়ভাবে ঋণ পুনঃতফসিলের কারণে খেলাপি ঋণ কমেছে। এতে ব্যাংকের ঋণ আদায় বাড়েনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি কমায় সামগ্রিক খেলাপি ঋণ কমেছে। তবে সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের ষষ্ঠ মাস শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৭৪৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, বিশেষায়িত ব্যাংকে ৪ হাজার ৯৬৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা, বেসরকারি ব্যাংকের ২০ হাজার ৭৬০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ও বিদেশি ব্যাংকের ১ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকা। একই বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২২ হাজার ৭২৭ কোটি ২১ লাখ টাকা, ৫ হাজার ২৮৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, ২৪ হাজার ৫৭৮ কোটি ১০ লাখ টাকা ও ২ হাজার ১১৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ওই সময়ে ব্যাংকিং খাতে সামগ্রিক খেলাপির পরিমাণ ছিল ৫৪ হাজার ৭০৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা; যা মোট অনাদায়ী ঋণের ৯.৮৯ শতাংশ।

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৭৪৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, বিশেষায়িত ব্যাংকে ৪ হাজার ৯৬৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা, বেসরকারি ব্যাংকের ২০ হাজার ৭৬০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ও বিদেশি ব্যাংকের ১ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকা। 

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি কমলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন কৃষি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ইব্রাহীম খালেদ। তিনি বলেন, খেলাপির পরিমাণ কমলেও তা প্রত্যাশা মত হয়নি। ব্যাংকিং খাতে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে আরও অনেক বেশি কমা দরকার ছিল।

খেলাপি কমার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বছরের শেষে এসে ব্যাংকগুলো নমনীয়ভাবে ঋণ পুনঃতফসিল করে। এ কারণে খেলাপি ঋণ কমেছে। কিন্তু এতে তো বলা যায় না, যে আদায় বেড়েছে।

খেলাপির পরিমাণ কমলেও তা প্রত্যাশা মত হয়নি। ব্যাংকিং খাতে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে আরও অনেক বেশি কমা দরকার ছিল।বছরের শেষে এসে ব্যাংকগুলো নমনীয়ভাবে ঋণ পুনঃতফসিল করে। এ কারণে খেলাপি ঋণ কমেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন সুত্রে জানা গেছে, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ কমলেও অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। ডিসেম্বর শেষে অনাদায়ী ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। গত সেপ্টেম্বর ব্যাংকিং খাতে অনাদায়ী ঋণ ছিল ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৭৫ কোটি ৩ লাখ টাকা। এতে আরও দেখো গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংক ছাড়া সরকারি বাণিজ্যিক, বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের ঋণ অনাদায়ের পরিমাণ বেড়েছে।

এসবি

এই বিভাগের আরো সংবাদ