হঠাৎ টাকা উত্তোলন সীমা কমল, বিপাকে গ্রাহক
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ব্যাংক-বিমা

হঠাৎ টাকা উত্তোলন সীমা কমল, বিপাকে গ্রাহক

দাঁতের চিকিৎসার জন্য মাকে ঢাকায় নিয়ে এসেছেন সোহরাব হোসেন। ডাক্তারের ফিসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে তার ৩৫ হাজার টাকা দরকার। এত টাকা সঙ্গে না থাকলেও ভেবেছিলেন এটিএম বুথ থেকে তুলে প্রয়োজন মেটাবেন। কিন্তু ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের (ডিবিবিএল) ফাস্ট ট্র্যাকে গিয়ে তার চক্ষু চড়ক গাছ। তাকে জানানো হল, একদিনে ২০ হাজারের বেশি টাকা তোলা যাবে না। আত্মীয় বলতে কেউ নেই যে, ধার নিয়ে পরে শোধ করবেন। হঠাৎ করে বুথ থেকে টাকা উত্তোলনের সীমা কমিয়ে দেওয়ায় এখন বিপদে পড়েছেন তিনি। অথচ গত বৃহস্পতিবারেও এটিএম থেকে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করা যেত।

ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের (ডিবিবিএল) ফাস্ট ট্র্যাকে গিয়ে তার চক্ষু চড়ক গাছ। তাকে জানানো হল, একদিনে ২০ হাজারের বেশি টাকা তোলা যাবে না। আত্মীয় বলতে কেউ নেই যে, ধার নিয়ে পরে শোধ করবেন। হঠাৎ করে বুথ থেকে টাকা উত্তোলনের সীমা কমিয়ে দেওয়ায় এখন বিপদে পড়েছেন তিনি। অথচ গত বৃহস্পতিবারেও এটিএম থেকে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করা যেত।

শুধু সোহরাব নয় এরকম অনেকেই টাকা তুলতে না পেরে বিপদে পড়েছেন। ঘটনার শুরু শুক্রবার। ওইদিন কার্ড ক্লোনিং করে ৩ ব্যাংকের চার এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরি করে দুর্বত্তরা। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর একাধিক ব্যাংক হঠাৎ করেই বুথ থেকে টাকা উত্তোলনের সীমা কমিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, আগে এক ব্যাংকের বুথ থেকে অন্য ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে টাকা ওঠানো গেলেও কয়েকদির ধরে তা কার্যত বন্ধ আছে। এমনকি দিনের বেলাতেও অনেক ব্যাংকের বুথে নেটওর্য়াক সমস্যা দেখা দিচ্ছে, যা আগে সাধারণত রাতে বা বেশি চাপ থাকলে হত।

তবে ব্যাংকগুলো বলছে, টাকা উত্তোলনের সীমা কমানোর সিদ্ধান্ত সাময়িক। গ্রাহকদের টাকার নিরাপত্তা দিতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরে তা আবার বিবেচনা করা হবে।

মোহাম্মদ ফাহিম নামের এবি ব্যাংকের এক গ্রাহক জানিয়েছেন, তার সিলভার ডেবিট কার্ডে পূর্বে ২ লাখ পর্যন্ত টাকা ওঠানো গেলেওে এখন তা করা যাচ্ছে না। ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উল্লেখিত কার্ড ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা উত্তোলন করা যাবে।

মোহাম্মদ ফাহিম নামের এবি ব্যাংকের এক গ্রাহক জানিয়েছেন, তার সিলভার ডেবিট কার্ডে পূর্বে ২ লাখ পর্যন্ত টাকা ওঠানো গেলেওে এখন তা করা যাচ্ছে না। ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উল্লেখিত কার্ড ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা উত্তোলন করা যাবে।

তিনি বলেন, পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি ব্যাংকগুলোর গাফিলতিতে এটিএম থেকে টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। তার ফল কেন আমরা ভোগ করব।

একই অভিযোগ ওয়ান ব্যাংকের গ্রাহক সাখাওয়াতের। তিনি বলেন, এখন ২০ হাজারের বেশি টাকা উত্তোলন করা যাচ্ছে না। আমার আরও বেশি টাকা দরকার সেটা কোথায় পাব? সব টাকাতো ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। চেক বই কোথায় রেখেছি তাও মনে নেই।

এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলনের সীমা কমানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবিবিএলের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা ছগির আহমেদ বলেন, গ্রাহকদের টাকার নিরাপত্তা দিতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন সংকট চলছে। তাই সীমা কমানো হয়েছে।

গ্রাহকদের টাকার নিরাপত্তা দিতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন সংকট চলছে। তাই সীমা কমানো হয়েছে।

তিনি বলেন, সীমা কমানোর কারণে কেউ হয়ত সাময়িক সমস্যায় পড়ছেন। কিন্তু সামগ্রিক লাভের কথা সবার আগে ভাবতে হচ্ছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসলে উত্তোলন সীমা পূর্বের মত করে দেওয়া হবে বালে জানান তিনি।

এদিকে এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন সীমা কমানোর ব্যাংকের অভ্যন্তরীন বিষয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা।

তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো প্রয়োজন ও পরিস্থিতি বুঝে সীমা নির্ধারণ করে থাকে। এ বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

এসবি

এই বিভাগের আরো সংবাদ