উইকিসোর্সে থাকছে না অ্যানি ফ্র্যাঙ্কের ডায়েরি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » টুকিটাকি

উইকিসোর্সে থাকছে না অ্যানি ফ্র্যাঙ্কের ডায়েরি

উইকিসোর্সের ওয়েবসাইট থেকে অ্যানি ফ্র্যাঙ্কের ডায়েরি সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে গ্রন্থস্বত্বের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে বলে জানিয়ে স্বেচ্ছায় বইটি সরিয়ে নিয়েছে উইকিমিডিয়ার এই সহযোগী সংস্থাটি। ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত ‘এ ডায়েরি অব এ ইয়াং গার্ল’ এর প্রথম সংস্করণের ডিজিটাল কপি আপলোড করেছিল উইকিসোর্স।

তবে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন আইন অনুযায়ী, ২০৪২ সাল পর্যন্ত ‘এ ডায়েরি অব এ ইয়াং গার্ল’ এর গ্রন্থস্বত্ব উইকিসোর্সের কাছে থাকবে।

মার্কিন আইনের বরাত দিয়ে উইকিসোর্স জানিয়েছে, ১৯৭৮ সালের আগে প্রকাশিত গ্রন্থের ক্ষেত্রে প্রকাশনার তারিখ থেকে ৯৫ বছর পর্যন্ত গ্রন্থস্বত্ব রাখা যায়।

উইকিসোর্সের ওয়েবসাইট থেকে অ্যানি ফ্র্যাঙ্কের ডায়েরি সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে গ্রন্থস্বত্বের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে বলে জানিয়ে স্বেচ্ছায় বইটি সরিয়ে নিয়েছে উইকিমিডিয়ার এই সহযোগী সংস্থাটি। ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত ‘এ ডায়েরি অব এ ইয়াং গার্ল’ এর প্রথম সংস্করণের ডিজিটাল কপি আপলোড করেছিল উইকিসোর্স।

প্রসঙ্গত, নাৎসি বাহিনী নেদারল্যান্ড দখল করে নেওয়ার পর অ্যানির বাবা অটো ফ্র্যাঙ্ক পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজের অফিস ভবনের একটি গুপ্তকক্ষে আশ্রয় দিয়েছিলেন মেইপ গিয়েস নামে এক ব্যক্তি। ওই গুপ্তকক্ষে প্রায় ২ বছর ছিলেন তারা। সেখানে তাদের খাবারসহ অন্যান্য জিনিস সরবরাহ করতেন গিয়েস ও তার সহযোগীরা। সাহায্যকারীদের কোনো একজনের বিশ্বাসঘাতকতায় অটো ফ্র্যাঙ্কের পরিবারকে গ্রেপ্তার করে বন্দিশিবিরে নিয়ে যায় নাৎসি বাহিনী।

Anny Frank

নেদারল্যান্ড দখলের পর নাৎসি বাহিনীর বন্দি শিবিরে নিহত অ্যানি ফ্র্যাঙ্কের ডায়েরি।

গ্রেপ্তারের ৭ মাস পর টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বন্দিশিবিরে মারা যায় অ্যানি ফ্র্যাঙ্ক। অটো ফ্র্যাঙ্ক ছাড়া অ্যানির পরিবারের অন্য সদস্যরাও মারা যায় ওই শিবিরে।

নাৎসি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ওই গুপ্তকক্ষে বাস করার সময় একটি ডায়েরি লেখেন কিশোরী অ্যানি ফ্র্যাঙ্ক। নাৎসি বাহিনী যখন অ্যানি ও তার পরিবারের সদস্যদের বন্দি করে নিয়ে যায়- তখন ওই ডায়েরিটি সংরক্ষণ করেছিলেন মেইপ গিয়েস। ওই ডায়েরি অ্যানিকে ফেরত দেওয়ার আশায় সংরক্ষণ করেছিলেন তিনি।

যুদ্ধ শেষে অ্যানির বাবা অটো ফ্র্যাঙ্ক আমাস্টারডামে ফেরার পর পরিবারের সদস্যদের কাউকে জীবিত পাননি। তবে মেইপ গিয়েসের কাছ থেকে অ্যানির লেখা ডায়েরিটি সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। ১৯৪৭ সালে ‘এ ডায়েরি অব এ ইয়াং গার্ল’ নামে ডায়েরিটি প্রকাশের ব্যবস্থাও করেন তিনি। পরবর্তীকালে ডায়েরিটি বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হয়। ওই ডায়েরির কয়েক লাখ কপি বিক্রিও হয়। এই ডায়েরিকে উপজীব্য করে অনেক নাটক ও চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছিল।

অর্থসূচক/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ