১৫ লাখ শ্রমিক কি যেতে পারবে মালয়েশিয়ায়?
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

১৫ লাখ শ্রমিক কি যেতে পারবে মালয়েশিয়ায়?

বাংলাদেশ থেকে আরও ১৫ লাখ শ্রমিক নেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। তবে ইস্যুটি নিয়ে এখন বিতর্ক তৈরি হয়েছে দেশটিতে। স্থানীয় শিল্প মালিক পক্ষ বলছে, বাংলাদেশ থেকে এতো শ্রমিক মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করুক- সেটা তারা চায় না। তাদের শঙ্কা, এতে অবৈধ বিদেশি সমস্যা বাড়বে। অন্যদিকে, সরকার পক্ষ বলছে, এ সিদ্ধান্তের জন্য শুধু সরকারকে দায়ী করা উচিত নয়, শিল্প মালিকদের চাহিদা ও অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়া।

বাংলাদেশি কর্মী

বাংলাদেশি কর্মী

আজ রোববার মালয়েশিয়ার দৈনিক পত্রিকা ডেইলি এক্সপ্রেসে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদী বলেছেন, জি-টু-জি প্লাস (সরকার থেকে সরকার) প্রক্রিয়ায় ৩ বছরে বাংলাদেশ থেকে ১৫ লাখ শ্রমিক নেওয়ার সিদ্ধান্তকে খাটো করে দেখা ঠিক হবে না। তবে এ সিদ্ধান্তের জন্য শুধু মালয়েশিয়া সরকারকে দায়ী করা উচিত নয়।

“সরকারকে দায়ী করার আগে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্প মালিকদের চাহিদার মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে। একইসঙ্গে জনগণকে বাজারের দিকেও দৃষ্টি দিতে হবে।”

উপ-প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া ইস্যুতে সরকারের সমালোচনা করা হচ্ছে। এ সিদ্ধান্ত কিন্তু শিল্প মালিকদের অনুরোধের কথা চিন্তা করেই নেওয়া হয়েছে। শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণ করতে শুধু চেষ্টা করছে সরকার। বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার হওয়া দরকার। শুধু শুধু সরকারকে দায়ী করা উচিত নয়।

এর আগে গত শুক্রবার স্থানীয় শিল্প মালিকদের সংগঠন ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারার (এফএমএম) জানায়, অবৈধ বিদেশি সমস্যা বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় তারা চায় না- বাংলাদেশ থেকে এতো শ্রমিক নেওয়া হোক।  এ সিদ্ধান্তের জন্য সরকারের উচিত নতুন বিদেশিদের জন্য আগে কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করা; অবৈধদের বৈধতা দেওয়া।

এর একদিন পরই সরকারের পক্ষ থেকে উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদী এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, এফএমএমের সদস্যদের কাছ থেকে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তাদের চাহিদার ভিত্তিতে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছিল, বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আনার আগে সরকার অবৈধদের দেশছাড়া করুক। তবে এটা সত্য, শ্রমিক চাহিদার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে না জানালেও সংগঠনের সদস্যরা এর জন্য অভিবাসন দপ্তরে আবেদন করেছিল।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমি মনে করি, বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আনার বিষয়ে কোনো ধরনের বিবৃতি দেওয়ার আগে   এফএমএমের সদস্যরা আবেদন করেছিল কি না- তা চেক করে নেওয়া উচিত।

উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদী

উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদী

প্রসঙ্গত, গত সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে সমঝোতা খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে জানানো হয়, বাংলাদেশ থেকে জি-টু-জি প্লাস (সরকার থেকে সরকার) প্রক্রিয়ায় আগামী ৩ বছরে ১৫ লাখ শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, এই সমঝোতা স্মারক কার্যকর হলে ২০১২ ও ২০১৪ সালের এ-সংক্রান্ত চুক্তি বা সমঝোতাগুলো বাতিল হবে। তিনি বলেন, আগের বিটুবি (বিজনেস টু বিজনেস) এবং জিটুজি (গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট) পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আশানুরূপ ফল না পাওয়ায় এবার সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বয়ে ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানো হবে।

এই চুক্তির আওতায় কাজ নিয়ে মালয়েশিয়ায় যেতে মাথাপিছু ৩৪ থেকে ৩৭ হাজার টাকা খরচ হবে এবং এই টাকা নিয়োগকর্তাই বহন করবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির বড় বাজার মালয়েশিয়া। বর্তমানে প্রায় ছয় লাখ বাংলাদেশি সেখানে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

অর্থসূচক/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ