‘ইবিএল এর কার্ড ক্লোনিং হয়ে থাকতে পারে’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ব্যাংক-বিমা

‘ইবিএল এর কার্ড ক্লোনিং হয়ে থাকতে পারে’

শুক্রবার একটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম কার্ডধারী কয়েকজন গ্রাহকের হিসাব থেকে টাকা উধাও হওয়ার ঘটনায় সব ব্যাংকের জন্য সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সেই সাথে বিষয়টি কেন ঘটছে তা প্রাহকের তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে খতিয়ে দেখতে ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন এই ধরনের ঘটান ঘটেছে তার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উদঘাটন করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা এই ঘটনাকে সাইবার হামলা হিসেবে দেখতে নারাজ। তার মতে, এটা কোনো ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি হতে পারে। তবে এটাতে কোনো জালিয়াত চক্রের হাত নেই এমন আশঙ্কা তিনি উড়িয়ে দেননি।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এটা কার্ড ক্লোনিং এর জালিয়াতি হতে পারে।

উল্লেখ, জালিয়াত চক্রের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কোনো আইটি (ইনফরমেশন টেকনোলজি) এক্সপার্ট কিংবা সিস্টেম এনালিস্টের ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করে গ্রাহক ও এটিএম বুথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলে বিশেষ ডিভাইস বা কার্ড রিডার (ম্যাগনেটিক) বসিয়ে এটিএম কার্ডের সব তথ্য স্ক্যান করে ফেলে।

এছাড়া চক্রের সদস্যরা এটিএম বুথে প্রবেশ করে ইনসার্ট মুখে আলাদা একটি ডিভাইস সংযুক্ত করে এটিএম কার্ডের সব ধরনের তথ্য স্ক্যান করে নেয়।

এসব তথ্য চুরি করে মাত্র কয়েক মিনিটে এটিএম কার্ড বা ক্রেডিট কার্ড তৈরি করেন জালিয়াত চক্রের সদস্যরা।

শুভঙ্কর সাহা বলেন, এটা কোন ধরণের আক্রমণ তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। তবে গ্রাহকের স্বার্থ সংরক্ষণে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করবে এবং সে অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেবে।

তবে সংশ্লিষ্ট ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডকে (ইবিএল) অবশ্যই গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে কার্ড ক্লোনিং এর মতো কোনো ঘটনা ইবিএলএর কার্ডধারীদের ক্ষেত্রে ঘটেনি বলে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

ব্যাংকটির  জনসংযোগ বিভাগের প্রধান জিয়াউল করিম জানান, গতকাল ২১ জন গ্রাহক তাদের হিসাব থেকে টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগ করেছেন। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটা সাইবার আক্রমণ, না সিস্টেমের প্রযুক্তিগত সমস্যা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তবে তিনি বলেন, আমারা আশা করছি কার্ড ক্লোনিং বা সাইবার আক্রমণ ধরনের কোনো কিছু ঘটেনি।

তিনি দাবি করেন, ইবিএলের বুথ থেকে এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে ইবিএলের কার্ডে ভিসা সুবিধা যুক্ত থাকায় অন্য ব্যাংকের এটিএম বুথেও এই কার্ড ব্যবহার করা যায়। অন্য ব্যাংকের বুথ থেকেই জালিয়াতিটা হয়েছে।

এদিকে আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে জিয়াউল করিম বলেন,  একেকটি হিসাব থেকে দিনে এক লাখের বেশি টাকা তোলা যায় না। যার ফলে সব মিলিয়ে খোয়া যাওয়া টাকার পরিমাণটা খুব বেশি হবে না।

প্রসঙ্গত, গতবছর মে মাসে মিরপুরের একজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে কার্ড ক্লোনিং এর বিষয়টি গোয়েন্দাদের নজরে আসে। সে সময় গোয়েন্দারা জানান, জালিয়াত চক্র  ক্রেডিট কার্ড তৈরির মাল এবং বিশেষ ধরনের যন্ত্র তারা বুলগেরিয়া এবং ইংল্যান্ড থেকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে নিয়ে আসে। ওই চক্রের সঙ্গে ইংল্যান্ড, কানাডা এবং বুলগেরিয়ার জালিয়াত চক্রের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

এসবি/টি

এই বিভাগের আরো সংবাদ