গাঙচষা পাখির পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » টুকিটাকি

গাঙচষা পাখির পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার

দেশীয় গাঙচষা পাখির গতিবিধি, আচরণ ও অবস্থান জানতে কাজ করছে একদল তরুণ গবেষক। টানা ১০ দিনের চেষ্টায় এখন পর্যন্ত ২টি পাখির পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার লাগিয়েছে তারা।

বিশ্বে প্রথমবারের মতো গাঙচষা পাখির পিঠে ট্রান্সমিটার স্থাপন করা হয়েছে। এর আগে ১৯৮৫ সালে ১৯ মার্চ আমেরিকায় একদল পাখি গবেষক পালকবিহীন একটি ঈগলের পিঠে ১৭০ গ্রাম ওজনের একটি স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার স্থাপন করে।

প্রতিটি স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটারের মূল্য ৬ লাখ টাকা বলে জানিয়ে বন্যপ্রাণী ও পাখি গবেষক সামিউল মোহসেনিন বলেন, গাঙচষা পাখির পিঠে লাগানো স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটারগুলো ওজন ৫ গ্রাম। আমেরিকার নর্থ স্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানে এগুলো তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ বন বিভাগের এস.আর.সি.ডব্লিউ.পি প্রকল্পের অর্থায়নে এই ট্রান্সমিটারগুলো কেনা হয়েছে।

তিনি জানান, দেশীয় গাঙচষা পাখি নিয়ে বিশ্বে খুব বেশি গবেষণা হয়নি। পৃথিবিতে এ পাখির সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি হবে না। তার মধ্যে বাংলাদেশের ভোলা ও নেয়াখালী জেলার নদী এলাকার নিঝুম দ্বীপ, দমার চর, চর শাহাজালাল ও চর কুকরি মুকরিতে প্রতিবছর প্রায় ১ হাজার থেকে ১২শ দেশীয় গাঙচষার দেখা মিলে। বিশ্বের অন্য কোথাও একসঙ্গে এত দেশীয় গাঙচষার দেখা মেলে না।

সামিউল জানান, বহুদিন ধরে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক পাখি গবেষক দেশীয় গাঙচষার গতিপথ জানার চেষ্টা করেছিল। অবশেষে সফলভাবে ২টি দেশীয় গাঙচষার পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার স্থাপন করেছি। ইতোমধ্যে সেই পাখি দুটি স্যাটেলাইট সিগন্যালের মাধ্যমে প্রয়োজনীয়ে তথ্য দেওয়া শুরু করেছে।

তরুণ এ পাখি গবেষক আরও জানান, বিশেষ পদ্ধতিতে ২ দিনের প্রচেষ্টায় ৫টি দেশীয় গাঙচষা ধরেছিলাম। এর মধ্যে ওজন কম থাকা ও শারিরিকভাবে দূর্বল থাকার কারণে ৩টি পাখি ছেড়ে দিয়ে ২৫১ এবং ২৩০ গ্রাম ওজনের ২টি দেশীয় গাঙচষার পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার স্থাপন করা হয়েছে। এর আগে গত ২ বছরও একই প্রক্রিয়ায় গাঙচষা পাখি ধরার চেষ্ট করে ব্যর্থ হয়েছিলাম।

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন পাখি পর্যবেক্ষক ইনাম আল হক জানান, পাখির গতিবিধি ও অবস্থান জানতে বিশ্বে প্রথম ১৯৮৫ সালে ১৯ মার্চ আমেরিকায় একদল পাখি গবেষক পালকবিহীন একটি ঈগলের পিঠে ১৭০ গ্রাম ওজনের একটি স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার স্থাপন করে। ২০০৮ সালের ৯ আগস্ট জার্মানের একদল পাখি গবেষক প্রথমবারের মত সৌরশক্তি চালিত সবচেয়ে কম ৫ গ্রাম ওজনের একটি স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার “ইউরেশীয় টিকাশাহিন” পাখির পিঠে সফলভাবে স্থাপন করে। ২০১০ সালে বাংলাদেশের হাকালুকি হাওরে প্রথম ১৬টি বিভিন্ন পাখির পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার স্থাপন করা হয়েছিলো। তবে তরুণ পাখি গবেষক সামিউল এবছর প্রথম দেশীয় গাঙচষার পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার স্থাপন করে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তরুণ পাখি গবেষক সামিউলের নেতৃত্বে দেশি-বিদেশি পাখি বিশেষজ্ঞদের একটি দল নোয়াখালির নিঝুম দ্বীপ, দমার চর ও ভোলার চর শাহাজালাল, কুকরি-মুকরিসহ উপকূলে বেশ কয়টি চরে এ স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার স্থাপন কাজ শুরু করে। ১০ ফেব্রুয়ারি ২টি দেশীয় গাঙচষার পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার স্থাপন করতে সক্ষম হয় এ বিশেষজ্ঞ দলটি।

গবেষক দলের অন্য সদস্যরা হলেন- ব্রিটিশ পাখি বিশেষজ্ঞ বিল উইলিয়াম জোন্স, স্টিফেন স্যামওরথ, টোন, শিবলী সাদিক, ওমর শাহাদাত, ইসরাত জাহান, জেনিন আজমিরি, হুমায়ারা, ফাতেমা-তুজ-জোহরা, হাসান, তাইজুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম।

অর্থসূচক/এসএম/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ