'শিশুসাহিত্যে দেশজ আবহ থাকছে না'
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » বই মেলা

‘শিশুসাহিত্যে দেশজ আবহ থাকছে না’

অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১০ম দিন বিকেলে মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশে শিশুসাহিত্য চর্চা: অতীত থেকে বর্তমান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক শাহীন আখতার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আসলাম সানী, রাশেদ রউফ ও সুজন বড়ুয়া। সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট লেখক রশীদ হায়দার।

শিশু সাহিত্যে থাকছে না দেশজ আবহ। ছবি সংগৃহীত

শিশুসাহিত্যে থাকছে না দেশজ আবহ। ছবি সংগৃহীত

প্রাবন্ধিক বলেন, বাংলাদেশের শিশুসাহিত্য বিষয় বৈচিত্র্যের দিক থেকে প্রায় সর্বপ্রান্তস্পর্শী। তবুও একটি দিকে ঘাটতি থেকে গেছে। শিশুসাহিত্যের সৌধে চড়বার প্রথম সোপানটিতেই আছে দুর্বলতা। লেমিনেটেড কাগজে রংচঙা বর্ণ পরিচয়ের নানা বই আজকাল ঢাকার রাস্তায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু তাতে আদৌ বাঙালিত্ব বা দেশজ আবহ থাকছে না। যে যার মতো করে লিখছে; প্রকাশ করছে। তাছাড়া প্রাক-বিদ্যালয় পর্বের বই বলে এগুলো জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের প্রকাশনার আওতায় পড়ে না। ফলে এগুলো যেন দেখার কেউ নেই।

তিনি বলেন, বাংলা একাডেমি ও শিশু একাডেমি যৌথ উদ্যোগে দেশের প্রথিতযশা লেখকদের সহায়তায় এ জাতীয় পুস্তিকা প্রকাশের উদ্যোগ নিতে পারে। বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগেই শিশু যেন ভালোবাসতে পারে ভাষা শহীদদের রক্তে রাঙানো বর্ণমালাকে, যেন চিনতে পারে দেশকে তার সত্যিকার পরিচয়ে।

আলোচকবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের শিশুসাহিত্য বিচিত্র ও বহুমাত্রিক। আমাদের পূর্ব প্রজন্মের শিশু সাহিত্যিক এবং উত্তরপ্রজন্মের শিশু সাহিত্যিকরা বিষয়বস্তুর নতুনত্ব, ভাষার সজীবতা, অঙ্গীকারের স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে শিশু কিশোরদের স্বপ্ন ভুবনের সন্ধান দিয়েছেন। নিজস্ব মৃত্তিকার ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চেতনার মেলবন্ধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের শিশুসাহিত্যের নবযাত্রা সূচিত হয়েছে।

তারা বলেন, আজ যখন প্রযুক্তির বিস্ফোরণে শিশু কিশোরের অনেকেই পাঠবিমুখ হয়ে পড়ছে তখন তাদের হাতে মানসম্পন্ন শিশুসাহিত্যের বই তুলে দেওয়াই হবে আমাদের অবশ্য কর্তব্য।

সভাপতির বক্তব্যে রশীদ হায়দার বলেন, বাংলাদেশের শিশুসাহিত্যের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আমরা দেখব এ ক্ষেত্রে বাংলার আবহমান ঐতিহ্যের সঙ্গে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সংযোগ ঘটেছে শিল্পিতরূপে।

সন্ধ্যায় আবুল ফারাহ্ মো. তোয়াহা-এর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর’ এবং হাসান আব্দুল্লাহ্-এর পরিচালনায় শিশু-কিশোর সংগঠন ‘ঘাসফুল শিশু-কিশোর সংগঠন’-এর শিল্পীবৃন্দ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।

অর্থসূচক/এসএম শাফায়াত/ডিএইচ

এই বিভাগের আরো সংবাদ