কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বইমেলায় এবারও হকার
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » বই মেলা

কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বইমেলায় এবারও হকার

অমর একুশে গ্রন্থমেলার নীতিমালায় হকার নিষিদ্ধ থাকলেও মেলা কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে মেলা প্রাঙ্গণে এবারও রয়েছে হকার। পাশাপাশি রয়েছে বেশ কিছু ভিক্ষুকও। তবে অন্যান্য বারের তুলনায় এর সংখ্যা কম হলেও বিষয়টি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা।

এদিকে গত সোমবার বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, এবারের বই মেলা সম্পূর্ণ হকার ও ভিক্ষুকমুক্ত।

Book Fair3

ছবি: মহুব্বর রহমান

তবে গতকাল ও আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, বই মেলার সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের অংশে সন্ধ্যার দিকে এক হাতে ফ্লাক্স ও অন্য হাতে বালতি নিয়ে স্টলে স্টলে ঘুরে চা বিক্রি করছেন এক হকার।

কিছু সময় বাদে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের অন্য প্রান্তে দেখা মিলল আরেক চা বিক্রেতার। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার নাম নজরুল। থাকেন পুরান ঢাকার কামরাঙ্গির চর। আগে তিনি সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে নিয়মিত চা বিক্রি করতেন। কিন্তু বইমেলা শুরু হওয়ায় উদ্যানে চা বিক্রি প্রায় বন্ধ। ফলে জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই চা বিক্রি করতে বই মেলায় ঢুকেছেন নজরুল।

কীভাবে ঢুকলেন জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, এক ফাঁকে ঢুকে পড়েছি। পুলিশ দেখেনি। হকার ঢোকা নিষেধ এটি জেনেও কেন ঢুকলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, জানি ঝুঁকি আছে। কিন্তু কী করব; পেটের দায়ে বাধ্য হয়েই ঢুকেছি। এ কথা বলেই দ্রুত স্থান ত্যাগ করে নজরুল।

শুধু চা বিক্রেতাই নয়, কয়েক জন হকারকে হেঁটে হেঁটে কাগজের প্যাকেট বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এছাড়া হকারের পাশাপাশি বই মেলার উভয় অংশে ভিক্ষা করতে দেখা গেছে বেশ কিছু ভিক্ষুককে। মেলার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বসে এই প্রতিবেদন লেখার সময়ও একজন নারী ভিক্ষুক এসে ভিক্ষা চান। ভিতরে ঢুকতে পুলিশ বাধা দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ বাধা দেয়নি।

মিরপুর থেকে মেলায় ঘুরতে এসেছেন সাহিদা আক্তার। বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, অন্যবারের চেয়ে এবার মেলার পরিবেশ নিঃসন্দেহে ভালো। তবে দুয়েকটি ব্যাপারে মেলা কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন।

এ সময় গতবছরের লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা টেনে তিনি আরও বলেন, এভাবে হকার ও ভিক্ষুকরা যদি ঢুকতে পারে, তাহলে দুষ্কৃতিকারীদের ঢোকা খুব কঠিন হবে না।

এ বিষয়ে জানতে বই মেলার সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদকে ফোন করা হলে তার মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

মেলায় কর্তব্যরত পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর নজরুল ইসলাম অর্থসূচককে বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো ভিক্ষুক বা হকার আমাদের নজরে আসেনি। তবে এরকম কাউকে দেখতে পেলে সাথে সাথে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শাফায়াত/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ