পুনরায় সচিব পর্যায়ের বৈঠকের অনুরোধ নেপালের
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

পুনরায় সচিব পর্যায়ের বৈঠকের অনুরোধ নেপালের

বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের স্থগিত বৈঠক পুনরায় আয়োজন করতে বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছে নেপাল। কাঠমাণ্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে নেপালের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে অনুরোধ জানানো হলেও বাংলাদেশ এখনো সাড়া দেয়নি।

গত অক্টোবরের মধ্যভাগে ঢাকায় এ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে নেপালে চলমান সংকটের কারণে দেশটির সরকারের অনুরোধে এ বৈঠক স্থগিত করা হয়। এ বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাজার সুবিধা প্রদান ও বাণিজ্য বাধা দূরীকরণ বিষয়ে চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। সমঝোতা অনুযায়ী. বাংলাদেশ ১০৮টি পণ্যে নেপালকে শুল্ক মুক্ত সুবিধা দেবে, যার বেশিরভাগই কৃষি পণ্য। অন্যদিকে নেপালে ৫০টি পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার সুবিধা পাবে।

মাছ, ওষুধ, আলু ও শিল্পজাত সামগ্রীতে নেপাল অগ্রাধিকার সুবিধা দিতে রাজি হলেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৬৪ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে বলা হয়েছে।

বৈঠক পুনরায় আয়োজনের বিষয়ে নেপালের বাণিজ্য সচিব নাইন্দ্র উপধ্যায়া বলেন, জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে কাঠমাণ্ডুতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ট্রেড ফেয়ার শেষে এ ব্যাপারে অনুরোধ জানানো হয়। তবে আমরা এ ব্যাপারে এখনো কোনো উত্তর পাইনি।

তিনি জানান, নেপালের পক্ষ থেকে টেকনিক্যাল ব্যারিয়ার অন ট্রেড (টিবিটি) ও স্যানিটারি অ্যান্ড ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) ব্যবস্থা সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারকের দুটি খসড়াও পাঠানো হয়েছে।

সমঝোতা স্মারক অনুসারে, উভয় দেশের পণ্যের মান সংক্রান্ত সনদকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এর মধ্যে কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের জন্য টিবিটি সংক্রান্ত সমঝোতা ও কৃষি পণ্যের জন্য এসটিএস সমঝোতা ব্যবহার করা হবে।

উপধ্যায়া জানান, টিবিটি ও এসপিএস সংক্রান্ত বিষয়ে উভয় পক্ষই একমত হয়েছে। এখন পরবর্তী বৈঠকে এ সংক্রান্ত চুক্তি সই করা বাকি। তিনি আরও জানান, দু’দেশের মধ্যে বাজার সুবিধা নিয়েও চুক্তি সই হতে পারে।

গত বছরের এপ্রিলে কাঠমাণ্ডুতে অনুষ্ঠিত যুগ্ম সচিব পর্যায়ের বৈঠকে নেপালকে শুল্কমুক্ত দেওয়ার বিপরীতে বাংলাদেশকেও একই সুবিধা দেওয়ার কথা উঠে আসে। তবে নেপালের পক্ষ থেকে পূর্বের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অনেুরোধ জানানো হয়।

উপধ্যায়া বলেন, বাংলাদেশ দেবে শুল্ক মুক্ত সুবিধা, আর নেপাল দেবে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা। আমরা আগে এসব সমঝোতা বাস্তবায়ন করতে বলেছি।

মাছ, ওষুধ, আলু ও শিল্পজাত সামগ্রীতে নেপাল অগ্রাধিকার সুবিধা দিতে রাজি হলেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৬৪ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে বলা হয়েছে। তবে নেপাল শুল্ক ১৫ শতাংশের বেশি হলে ৫ শতাংশ ও এর কম হলে ৩ শতাংশ শুল্ক ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

অবশ্য, সাফটা চুক্তির অধীনে চলতি বছরের মধ্যেই নির্দিষ্ট কিছু বাংলাদেশি পণ্যকে শুল্ক মুক্ত সুবিধা দিতে চায় নেপাল। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুগ্ম সচিব পর্যায়ের বৈঠকের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো সমাধানের পর এ বিষয়ে বাংলাদেশের সাথে একটি চুক্তি করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে, নেপালিদের বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারি সীমান্তে ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা দিতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে এ সুবিধা দেওয়া শুরু হলেও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তবে বাংলাদেশ এ ব্যাপারে কাগজের ব্যবহার কমিয়ে আনতে রাজি হয়েছে।

একই সঙ্গে সড়কপথে কোনো নেপালি বাংলাদেশ আসতে চাইলে ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চাইতে একমত হয়েছে দু’দেশ। বর্তমানে বিমান পথে এ সুবিধা পাওয়া যায়।

অর্থসূচক/এসবি/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ