'বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতিতে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে'
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » জাতীয়

‘বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতিতে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে’

একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির মতো ঘৃন্য কাজ করে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করার সাথে আমার কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই। এমনটিই দাবি করেছেন  চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম.এ. লতিফ।

চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম.এ. লতিফ। ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম.এ. লতিফ। ছবি সংগৃহীত

আজ শনিবার দুপুরে নবনির্মিত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু হলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

এম এ লতিফ বলেন, সংসদ অধিবেশন থাকায় আমাকে সেখানে যোগ দিতে হয়েছিল। তাই দেরিতে এসে আমি আপনাদের মুখোমুখি হলাম। ফেস্টুনে প্রকাশিত ছবির সাথে ন্যূনতম আমার সংশ্লিষ্টতা নেই।

তিনি বলেন, এরকম কর্মকাণ্ডে যারা কষ্ট পেয়েছেন, ব্যথিত হয়েছেন তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি তীব্রভাবে যে কাজটি ঘৃণা করি সেটি আমার উপর একটি মহল চাপিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটছে। দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মনে আমার প্রতি বিরুপ ধারণা তৈরির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত হওয়ায় আমি মর্মাহত এবং এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত খুঁজে বের করবো।

৩ ফেব্রুয়ারি সর্বপ্রথম এরকম ছবি ফেসবুকে দেখেছেন উল্লেখ করে এম এ লতিফ বলেন, আমি আমার ছেলের সহযোগিতায় ফেসবুকে দেখলাম বঙ্গবন্ধুর মুখমণ্ডলের সঙ্গে আমার শরীরের অংশ জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এটা দেখে আমি নিজেই অবাক হয়েছি। এহেন গর্হিত কাজ করার সাহস আমার কেন, পৃথিবীর কারও নেই ? আমি যেখানে নিজের ছবিটাকে বিভিন্ন শ্লোক দিয়ে প্রচার করতে পারতাম। সেখানে আমার শরীরকে বঙ্গবন্ধুর মাথার সঙ্গে জুড়ে আমি কি বেনিফিট পাব? এ প্রশ্ন রইলো আপনাদের কাছে।

গত ৭ বছর ধরে একটি মহল তার পেছনে লেগে আছে উল্লেখ করে এম এ লতিফ বলেন, একবার না আমার ওপর বারবার করে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে। আমাকে নানাভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। আমাকে ঘায়েল করার জন্য তারা আর কোনও সুযোগ পায়নি। তাই তারা আমার পেছনে লেগে আছে।

তবে ওই কুচক্রী মহল কারা সেই সর্ম্পকে সুস্পষ্ট করে কিছু বলেননি ওই সাংসদ। এম এ লতিফ বলেন, তারা জনগণের সঙ্গে ভালো কাজ করে নেত্রীর কাছাকাছি যেতে না পেরে উল্টো আমাকে বিভিন্নভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে উনার কাছ থেকে সরাতে চাচ্ছেন।

কেন ওই মহলটি আপনার পেছনে লেগে আছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি বন্দর সচল রাখতে চাই। বন্দরের উন্নয়ন চাই। সে কারণে তারা আমার পেছনে লেগে আছে।

চেম্বারের শতবর্ষ উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ফেস্টুন তৈরির বিষয়টিও আপনার জানার বাইরে থাকার কথা নয়, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য বলেন, আমার নিজের সৃজনশীলতা দিয়ে বিভিন্ন শ্লোক তৈরি করে তা প্রচার করতে পোস্টার তৈরি করি। কিন্তু এখন যদি কেউ আমার শ্লোকগুলো কপি করে বঙ্গবন্ধুর মুখমণ্ডলের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে প্রচার করে তাহলে তো কিছু করার থাকে না। তবে আমি ইতোমধ্যেই বিষয়টি সংগঠনের উপরের মহলে জানিয়েছি।

বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে এম এ লতিফ বলেন, এ বিভ্রান্তি কাটানোর জন্য আমাকেই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে হবে। কে এটি করেছে তাকে ধরিয়ে দিতে হবে, তাকে বের করতেই হবে। এটিই আমার মূল কথা। কারণ এটি আমাকে আহত করেছে। আমার আওয়ামী পরিবারের প্রত্যেকটি মানুষকে আহত করেছে।

গত ৩০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম সফরে আসেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে এম এ লতিফের শরীরের অংশের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর মুখমণ্ডল স্থাপন করা বেশ কিছু পোস্টার নগরী জুড়ে টানানো হয়। এ ঘটনার পর পুনরায় আলোচনায় আসেন আওয়ামী দলীয় এ সাংসদ।

উল্লেখ্য, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে এম এ লতিফের পক্ষে- বিপক্ষে সভা সমাবেশ করছে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গ্রুপ। এমনকি আদালতে হাজার কোটি টাকার মানহানি মামলাও হয়েছে। সর্বোপরি আওয়ামী লীগের ভেতরে এই ঘটনা নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ