২০ বছরে সুন্দরী গাছ থাকবে না সুন্দরবনে!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

২০ বছরে সুন্দরী গাছ থাকবে না সুন্দরবনে!

জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগের ঝুঁকি ও ক্ষতি মোকাবেলা করে এখনই উদ্যোগ না নিলে আগামী ২০ বছরের মধ্যে সুন্দরবনে কোন সুন্দরী গাছ থাকবে না। আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় ‘আন্তর্জাতিক পদ্ধতি বিষয়ক কর্মশালার’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা এ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।shundori

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবেলায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনার প্রস্তাব উত্থাপনের উদ্দেশ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, এনএসিওএম, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং একশনএইড বাংলাদেশ দু’দিনের এই কর্মশালার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

মন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন এবং দুর্যোগের কারণে বাংলাদেশে কোটি কোটি মানুষ নিত্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। এ সমস্যার সমাধান তাই অতি জরুরি। প্রয়োজন দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস তহবিল গঠনের। ২০১৬ সালে সারা বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের সকল আলোচনা এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় দরকষাকষিতে ক্ষয় ও ক্ষতির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

তিনি বলেন, ১৯৯৮ সাল থেকে পাঁচটি বড় মাপের দুর্যোগের কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশের মোট জিডিপির প্রায় ১৫ শতাংশ। এসব দুর্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের একটি নেতিবাচক প্রভাব- আগামী বছরগুলোতে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। দুর্যোগ মোকাবেলার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণে সরকারি, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, গবেষক সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে পরিবেশ ও জলবাযু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ মোকাবেলায় যদি সঠিকভাবে কাজ না করা হয়, তবে আগামী ২০ অথবা ৩০ বছরের মধ্যে সুন্দরবনে কোন সুন্দরী গাছ থাকবে না। এখনই ওই এলাকার মানুষকে লবণাক্ততার কারণে পানি কিনে খেতে হয়। যে কারণে যতটুকু ভাল পানি তাদের পান করা দরকার, সেটি তারা পারছে না। এরকম চলতে থাকলে, তারা কিডনি সমস্যাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় পড়বেন’।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে সেটি এখনো নিরূপিত হচ্ছে না। নেই সম্মিলিত কোনো উদ্যোগ। মানুষের আর্থিক, সামাজিক, শারীরিক ও মানুষিক ক্ষতি হচ্ছে। আইনুন নিশাত বলেন, আমাদের একটা দাবি ছিল, দুর্যোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ইন্সুরেন্সের ব্যবস্থা করা। ১৯৯২ সালে প্রথমবারের মতো জলবায়ু ও ক্ষতি মোকাবেলায় বৈশ্বিক লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। দুর্ভাগ্য আমাদের, এত বছর পরও আমরা আমাদের ক্ষতির মাত্রা নিরূপণ করতে পারিনি। সবার সম্মিলিত উদ্যোগে এটা করা খুবই জরুরি।

দুর্যোগ ও জলবাযূ বিশেষজ্ঞ ড. সালিমুল হক বলেন, ডিসেম্বরে মরোক্কোতে অনুষ্ঠেয় বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলনে আমাদের ক্ষয়ক্ষতির দাবি তুলে ধরতে হবে। যতটুকু সময় আছে তার মধ্যেই আমাদের প্রস্তুত হতে হবে। সেখানে আমাদের প্রস্তাব উত্থাপন করতে হলে ব্যাপক প্রস্তুতির প্রয়োজন। ক্ষয় ও ক্ষতির জন্য দায়ীরা কেন ক্ষতিপূরণ দিবে তার জন্য যুক্তি উপস্থাপন করার জরুরি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ্ কামাল বলেন, আমরা নিজেরা সংগঠিত না। দুর্যোগের ফলে যে ক্ষতি হচ্ছে তার দায় আমাদের না। এজন্য উন্নত দেশগুলো দায়ী। তাদের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে হবে। আর সেটি শক্তভাবে করতে হলে আমাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করতে হবে। আমরা সেটি করতে পারছি না। জলবায়ু বা দুর্যোগ ইস্যুকে আন্তর্জাতিকভাবে ভালো করে উপস্থাপন করতে পারছি না। এর মূল কারণ আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি না। স্বাধীতার ৪৫ বছর হলো। কিন্তু দুর্যোগ ও জলবায়ু ইস্যুতে আমরা শক্ত অবস্থানে যেতে পারিনি।

একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, জলবায়ু ও দুর্যোগ নিয়ে সবার মধ্যে পরিষ্কার ও শক্ত ধারণা তৈরি করতে হবে। আমাদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য একসঙ্গে উদ্যোগ নিতে হবে। সেটি না করতে পারলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষরা অর্থনৈতক, সামাজিক ও শারীরিকভাবে আরো বেশি সমস্যায় পরবেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ বলেন, “জলবায়ূ পরিবর্তন ও দুর্যোগের ফলে শুধু আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি হচ্ছে না। একজন মানুষের মানসিক, শারীরিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষতি হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন করতে এই বিষয়গুলো বিবেচনায় আনা উচিত।

তথ্যসূত্র: বাসস

এই বিভাগের আরো সংবাদ