ছুটির দিনে উৎসবে মেতেছে বইপ্রেমীরা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » বই মেলা

ছুটির দিনে উৎসবে মেতেছে বইপ্রেমীরা

অমর একুশে গ্রন্থমেলা এখন কেবল মেলার মধ্যে আবদ্ধ নেই। কালের পরিক্রমায় এটি রূপ নিয়েছে বাঙালির অন্যতম সাংস্কৃতিক উৎসবেরও। পাশাপাশি আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় সে উৎসবে যেন নতুন মাত্রা পেয়েছে।

Book Fair3

ছবি: মহুব্বর রহমান

আজ ছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলার প্রথম শিশু প্রহর। শিশুরা যাতে নির্বিঘ্নে ঘুরে ঘুরে তাদের পছন্দের বই কিনতে পারে সে জন্য প্রতি বছর শুক্র ও শনিবার শিশু প্রহর ঘোষণা করা হয়। এ উপলক্ষে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিশুদের পদচারনায় মুখর হয়ে উঠে মেলা প্রাঙ্গণ। প্রতি বছরের মতো বাংলা একাডেমি চত্ত্বরে সকাল ১১টা থেকে শুরু হয় এ আয়োজন। চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত। আস্তে আস্তে সববয়সী মানুষের আগমনে মুহুর্তেই উৎসবে রূপ নেয় পুরো মেলা প্রাঙ্গণ। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বইমেলা হয়ে ওঠে জনসমুদ্রে।

পছন্দের মানুষটিকে প্রিয় লেখকের বই উপহার দিতে বইপ্রেমীরা ঘুরছেন স্টল থেকে স্টলে। কেউবা আবার কেনার চেয়ে দেখেই সময় পার করছেন। বইমেলার ৫ম দিনের চিত্রটা ছিল ঠিক এমনই ।

এবারের বইমেলায় বেচা-বিক্রি নিয়ে প্রকাশকদের প্রত্যাশা একটু বেশিই। এর বিশেষ কারণও রয়েছে। এবারের মেলার সময়টাতে ৪টি শুক্রবার, ৪টি শনিবার, একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে ২৯ দিনে মাস হওয়ায় ছুটির দিনের সংখ্যাটা একটু বেশি। তাইতো প্রকাশকরা আগ্রহভরে বসে আছেন ছুটির দিনগুলোর জন্য।

ছবি: সহুব্বর রহমান

ছবি: সহুব্বর রহমান

বইমেলা প্রাঙ্গণে কথা হয় প্রতিভা প্রকাশনীর কর্ণধার মইন মুরসালিনের সঙ্গে। তিনি অর্থসূচকের এই প্রতিবেদককে বলেন, এবার সবচেয়ে আশার কথা হলো- কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই। ফলে এবার মেলার চিত্র একেবারেই ভিন্ন মনে হচ্ছে। যারা আসছেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগই বইয়ের ক্রেতা। গত ৪ দিনের তুলনায় আজ বিক্রি বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। বলতে দ্বিধা নেই যে, বইমেলা এখন বইয়ের উৎসবে পরিণত হয়েছে।

অন্যপ্রকাশের বিক্রয় কর্মী শিশির বলেন, বেচা-বিক্রি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। গত দুদিনে মানুষ বই মেলায় আসেছে ঘুরতে। আজ ঘোরার চেয়ে কিনছেনই বেশি।

রাজধানীর শ্যামলী থেকে বন্ধুদের নিয়ে মেলায় এসেছেন বেসরকারি আশা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তমা আক্তার। তিনি অর্থসূচককে বলেন, প্রতিবছরই বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় আসি। তবে গতবারের চেয়ে এবার মেলায় ঘুরতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করছি। বড় পরিসর নিয়ে স্টলগুলো করায় ঘোরাফেরা করতে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও সন্তুষ্ট এই শিক্ষার্থী।

প্রতিবছরের মতো এবারও অমর একুশে বইমেলায় এসেছে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক অনেক বই। স্বনামধন্য প্রকাশনীর পাশাপাশি সাধারণ প্রকাশনীও এনেছে এসব বই। এতে জেলাভিত্তিক এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতারও বই আছে। এগুলোর মধ্যে প্রথমা প্রকাশনীর উপধারা ‘একাত্তর মার্চ-এপ্রিল’ লিখেছেন মঈদুল হাসান, ‘১৯৭১ ও আমার সামরিক জীবন’ লিখেছেন, আমীন আহমেদ চৌধুরী, ‘বসন্ত ১৯৭১’ লিখেছেন ফারুখ আজিজ খান।

বসুন্ধরা পাবলিকেশন্সের ‘৭১ বীরগাথা’ একত্রে ছয় খন্ড, ‘বাংলাদেশ ডকুমেন্টস ১৯৭১’ একত্রে চার খন্ড লিখেছেন এএসএম শামসুল আরেফিন, ‘একাত্তর যেখান থেকে শুরু’ লিখেছেন হাসান ফেরদৌস্। জার্নিম্যাণ বুকসের ‘দোয়ারা গণহত্যা’ লিখেছেন গৌরাঙ্গ নন্দী, ‘হাতিয়া গণহত্যা’ লিখেছেন মিঠুন সাহা, ‘বঙ্গবন্ধু সহজপাঠ’ লিখেছেন, আতিউর রহমান। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধে জাদুঘরে পাওয়া যাচ্ছে মফিদুল হকের সম্পাদনায় ছাত্রছাত্রীদের সংগৃহীত ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য (৪র্থ পর্ব)’, ‘গণহত্যার বিচারে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভূমিকা’ ইত্যাদি।Book Fair

মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বই নিয়ে প্রথমা প্রকাশনীসহ কয়েকজন প্রকাশকের কাছে জানতে চাইলে তারা অর্থসূচককে বলেন, গত ২-৩ বছর থেকে তরুণদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বইয়ের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এসব বইয়ের পাঠকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এর আগে এতো চাহিদা ছিলো না। সে হিসেবে মেলায় মুক্তিযুদ্ধের উপর অনেক নতুন নতুন বই আসছে। গতবারের তুলনায় এবারের মেলায় আমরা বেশ সাড়া পাচ্ছি। মেলায় পাঠক সমাগম বেশি হবে এবং সেই সঙ্গে বই বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেশের আবহমান সংস্কৃতির ছোঁয়ায় সজ্জিত হয়েছে প্রকাশনা সংস্থার স্টলগুলো। নান্দনিক স্টলগুলোর মধ্যে কুঁড়েঘর একটি। বাবুই পাখির বাসা, একতারা, হুক্কা, কৃষকের মাথালসহ বেশকিছু গ্রামীণ ঐতিহাসিক উপাদানে সাজানো হয়েছে স্টলটি। তবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব পাশে যাদের স্টল পড়েছে তাদের আক্ষেপের অন্ত নেই।

তারা বলছেন, এদিকে লোক সমাগম অন্যদিকের তুলনায় একেবারেই কম। এটা তাদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

মেলা প্রাঙ্গণে লেখকদের বিশ্রাম ও আড্ডার জন্য রয়েছে লেখককুঞ্জ। বাংলা একাডেমির নিজস্ব ৩টি বিক্রয় কেন্দ্রও রয়েছে এই চত্ত্বরে, যেখান থেকে ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ কমিশনে বই কিনতে পাওয়া যায়।

অর্থসূচক/এসএমএস/এমএইচ

এই বিভাগের আরো সংবাদ