তেলের কম দামের কারণেই কমেছে রেমিট্যান্স
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ব্যাংক-বিমা

তেলের কম দামের কারণেই কমেছে রেমিট্যান্স

চলতি বছরের প্রথম মাসে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে (রেমিট্যান্স) নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, প্রবাসীদের পাঠানো এ অর্থ পূর্ববর্তী বছরের আলোচ্য সময়ের তুলনায় ৭.৩৪ শতাংশ কমেছে।

এবিষয়ে বিশেষজ্ঞরা মূলত দায়ী করেছেন মধ্যপ্রাচ্যের থেকে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ কমে যাওয়াকে। আর এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দামের সাম্প্রতিক হতাশাজনক অবস্থার কারণেই তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করা প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয় কমেছে। এছাড়া সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসীদের আয়ও কমেছে তেলের দামের নিম্নমূখী প্রবণতার কারণে।

বুধবার বিবিসি বাংলার এক খবরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়েছে, প্রতিমাসে রেমিট্যান্স বাবদ বাংলাদেশে প্রায় গড়ে ১.২ বিলিয়ন ডলারের আসে। কিন্তু গতমাস অর্থাৎ জানুয়ারি মাসে এসে সে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় বড় একটি ধাক্কা লেগেছে।

প্রতিমাসে রেমিট্যান্স বাবদ বাংলাদেশে প্রায় গড়ে ১.২ বিলিয়ন ডলারের আসে। কিন্তু গতমাস অর্থাৎ জানুয়ারি মাসে এসে সে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় বড় একটি ধাক্কা লেগেছে।

এবিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষ পাল জানান, বাংলাদেশের রেমিট্যান্স সবচেয়ে বেশি আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম কমে যাওয়ায় সৌদি আরব ৯৮ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। স্মরণকালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক চাপের মুখেও রয়েছে দেশটি। এই অবস্থায় সেখান থেকে আগে যে পরিমাণের রেমিট্যান্স আসতো তার পরিমাণও কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক রেমিট্যান্স প্রবাহে।

তেলের দাম কমে যাওয়ায় সৌদি আরব ৯৮ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। স্মরণকালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক চাপের মুখেও রয়েছে দেশটি। এই অবস্থায় সেখান থেকে আগে যে পরিমাণের রেমিট্যান্স আসতো তার পরিমাণও কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক রেমিট্যান্স প্রবাহে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব মতে,  বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে সৌদি আরব থেকে আর এর পরেই আসে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে।

আর রেমিট্যান্স পাঠানোতে এদের পরেই আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

পালের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অর্থনৈতিক মন্দার বিষয়টি বাংলাদেশে রেমিট্যান্সের প্রবাহ কমে  অন্যতম কারণ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই প্রধান অর্থনীতিবিদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশের শ্রমিকরা তাদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টার বাইরে যে ওভারটাইম কাজ করতেন সেটিও কমে গেছে। যে কারণে অনেকে আগের তুলনায় দেশে কম পরিমাণ টাকা পাঠাচ্ছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশের শ্রমিকরা তাদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টার বাইরে যে ওভারটাইম কাজ করতেন সেটিও কমে গেছে। যে কারণে অনেকে আগের তুলনায় দেশে কম পরিমাণ টাকা পাঠাচ্ছেন।

তবে তিনি মনে করেন, রেমিট্যান্স কমে যে ক্ষতি হচ্ছে সেটি পুষিয়ে যাচ্ছে তেল আমদানি থেকে অর্থ সাশ্রয় করে।

উল্লেখ, চলতি ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে আগত মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৬৩ কোটি ৯১ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। এর মধ্যে জানুয়ারিতে পূর্ববর্তী মাস ডিসেম্বরের তুলনায় রেমিট্যান্স কম এসেছে ১৬ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। এছাড়া গত জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১.০৪ শতাংশ কম।

২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ৮৭৩ কোটি ৪ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। ওই পুরো অর্থবছরে মোট ১ হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই অর্থবছরের জানুয়ারিতে আগত রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১২৪ কোটি ৩২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। এই হিসেবে চলতি অর্থবছরের একইমাসে রেমিট্যান্স কম এসেছে ৯ কোটি ১৩ লাখ মার্কিন ডলার।

এই বিভাগের আরো সংবাদ