স্প্রেড ফের ঊর্ধ্বমুখী
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ব্যাংক-বিমা

স্প্রেড ফের ঊর্ধ্বমুখী

চলতি ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের ষষ্ঠ মাসে ব্যাংকিং খাতে আমানত ও ‍ঋণের সুদ হারের ব্যবধানে (স্প্রেড) আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুয়ায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে সামগ্রিক স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৪.৮৪ পয়েন্ট, যা পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্ট বেশি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আমানত ও সুদের হার সমান তালে না কমায় স্প্রেড বেড়েছে। বিনিয়োগ মন্দা ও ব্যাংকে তারল্য উদ্বৃত্তের কারণে এ প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, গত ডিসেম্বরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও বিদেশি ব্যাংকের স্প্রেড কমলেও বেড়েছে বেসরকারি ব্যাংকের। এর মধ্যে আলোচ্য মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৩.৭ পয়েন্ট , বিশেষায়িত ব্যাংকের ১.৭৮ পয়েন্ট, বিদেশি ব্যাংকের ৭ দশমিক ১৫ পয়েন্ট এবং বেসরকারি ব্যাংকের ৫.১৪ পয়েন্ট। পূববর্তী নভেম্বর মাসে এসব ব্যাংকের স্প্রেড ছিল যথাক্রমে ৩.৭৪, ২.০৯, ৭.৪৫ ও ৫.০২ পয়েন্ট। ওই মাসে সামগ্রিক স্প্রেড ছিল ৪.৮১ পয়েন্ট।

স্প্রেডে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষ পাল বলেন, স্প্রেড এখনো ৫ শতাংশের নিচে আছে, এটা ভালো। তবে আমানতের সুদের হার যে হারে কমেছে সে হারে ঋণের সুদের হার না কমায় সামগ্রিক স্প্রেড বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে ব্যাংকিং খাতে আমানতের বিপরীতে গড় সুদের হার দশমিক ১২ পয়েন্ট কমে ৬.৩৪ শতাংশে ঠেকেছে। আর ঋণের বিপরীতে গড় সুদের হার দশমিক শূন্য নয় পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১১.১৮ শতাংশে।

এতে আরো দেখা গেছে, এক মাসের ব্যবধানে ডিসেম্বরে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে আমানতের বিপরীতে গড় সুদের হার দশমিক ১৬ পয়েন্ট কমে ৬.৫১ শতাংশে ঠেকেছে। আর ঋণের বিপরীতে গড় সুদের হার দশমিক শূন্য চার পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১১.৬৫ শতাংশে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও বিদেশি ব্যাংকের আমানতের সুদের তুলনায় ঋণের সুদের হার বেশি কমেছে।

বেসরকারি ব্যাংকে আমানতের তুলনায় ঋণের সুদ হার কম কমার বিষয়ে বিরূপাক্ষ বলেন, ব্যাংক খাতে তারল্য উদ্বৃত্তের কারণে আমানতের সুদের হার পড়ে গেছে। একইসাথে আমানত যে হারে বাড়ছে সে হারে বিনিয়োগ বাড়ছে না। সরকারও ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়া কমিয়ে দিয়েছে। তাই আমানতের সুদের হার পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু নন পারফর্মিং লোন ও অপারেশনাল কস্ট বেশি থাকার কারণে ঋণের সুদের হার কমছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৭০৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা। আর ব্যাংকারদের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে বর্তমানে এক লাখ কোটি টাকার বেশি উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে।

এই অবস্থায় ২০১৬ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই ৬ মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ কমেছে ৩ হাজার ২২৫ কোটি টাকা। এজন্য ব্যাপক হারে সঞ্চয়পত্র বিক্রিকে দায়ী করছেন অর্থনীতিবিদরা। অপেক্ষাকৃত উচ্চ সুদ হারের কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে নিট ১৩ হাজার ৩০৬ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭৫ শতাংশ। দেশের বর্তমান স্থানীয় বিনিয়োগ জিডিপির ২১ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য এটা যথেষ্ট নয়। এজন্য বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।

অন্যদিকে, বিনিয়োগ না বাড়ার জন্য উদ্যোক্তারা ব্যাংক ঋণের বিপরীতে উচ্চ সুদহারকে দায়ী করছেন। তাই বিনিয়োগে গতি আনতে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ঋণের সুদ হার ধীরে ধীরে কমানো হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ঋণে সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ ও আমানতে ৭ শতাংশ সুদ হার কার্যকর করছে।

তবে বিরূপাক্ষ পাল এ উদ্যোগকে যথেষ্ট মনে করছেন না। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশ কমাতে পারলে ও ডিজিটালাইজশনের মাধ্যমে পরিচলন ব্যয় কমাতে পারলে ব্যাংক ঋণের সুদ আপনাআপনি কমে যাবে। তখন স্প্রেডও কমবে।

তিনি আরও বলেন, স্প্রেড ৪ শতাংশে নিয়ে আসতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। মালয়েশিয়ার মতো দেশে ইকোনমি ডায়নামিক হওয়ার কারণে তারা এটা করতে পেরেছে। আমাদের দেশেও এমনটি হওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, ঋণ ও আমানতে সুদ হারে সামঞ্জস্য আনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সব ব্যাংককে স্প্রেড ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়ে আসছে। এরই ধারাবহিকতায় গত বছরের মার্চে সামগ্রিক স্প্রেড ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসে। ওই সময়ে আলোচ্য স্প্রেড ছিল ৪.৮৭। এরপর থেকে জুন ও  সেপ্টেম্বর ছাড়া বাকি মাসগুলোতে স্প্রেড ধারাবহিকভাবে নিম্নমুখী ছিল।  তবে এখন পর্যন্ত এককভাবে ২৪টি ব্যাংকের স্প্রেড নির্ধারিত সীমার ওপরে রয়েছে।

অর্থসূচক/এসবি

এই বিভাগের আরো সংবাদ