বাণিজ্যমেলায় চলছে শেষ মুহূর্তের কেনাবেচা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

বাণিজ্যমেলায় চলছে শেষ মুহূর্তের কেনাবেচা

Trade Fair_1

বাণিজ্যমেলায় ক্রেতা-দর্শণার্থীর ভিড়

খামার বাড়ি মোড় থেকে পরিকল্পনা কমিশন হয়ে আগারগাও মোড় পর্যন্ত সড়কে দাঁড়িয়ে আছে শত শত যানবাহন। সময় গড়িয়ে যাচ্ছে কিন্তু ঘুরছে না গাড়ির চাকা। ফুটপাত ধরে হেঁটে হেঁটে জনস্রোত এগিয়ে যাচ্ছে বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণের দিকে। মেলার প্রবেশপথ আর টিকিট কাউন্টারগুলোর সামনেও মানুষের ঢল। মেলার ভেতরেও তিলধারণের ঠাঁই নেই।

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় শুক্রবার বিকেলের দৃশ্য এটি। এমন দৃশ্যই বলে দেয় মেলার শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা জমে উঠছে। শেষ মহুর্তের ক্রেতাদের টানতে পণ্যে অতিরিক্ত মূল্য ছাড় ও উপহার দিচ্ছে বিক্রেতারাও।

শুক্রবার মেলা ঘুরে দেখা গেছে, মেলার শেষ সাপ্তাহিক ছুটির সকাল থেকেই ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পদাচারণা লক্ষ্য করা গেছে চোখে পড়ার মতো। প্রত্যেক স্টল-প্যাভিলিয়নে ক্রেতাদের সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিক্রেতাদের। ক্রেতাদের মাঝেও ছিল পণ্য কেনার ধুম।

মেলায় থেকে বিভিন্ন পণ্য কিনে বাড়ি ফিরছিলেন রাজধানীর কলাবাগনের বেসরকারি চাকরিজীবী তাহমিদা বেগম। তিনি অর্থসচককে বলেন, আর একদিন পরই মেলা শেষ হচ্ছে। তাই আজ ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে কেনাকাটা জন্য মেলায় আসা। কিন্তু মেলার আশপাশ আজ প্রচুর লোক সমাগম ছিল। অনেক কষ্টে ভিড় ঠেলে মেলায় প্রবেশ করতে হয়েছে।

মেলা ফেরত এসব মানুষের হাতে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে গৃহস্থালির বিভিন্ন পণ্য। এর মধ্যে প্লাস্টিকের পাশাপাশি রয়েছে প্রেসার কুকার, জুস মেকার, জুস ব্লেন্ডার, ওভেন, রাইস কুকার, ইস্ত্রি, ইন্ডাকশন চুলা, ফ্যানসহ নানা ধরণের ইলেক্ট্রনিক ও ইলেক্ট্রিক গৃহস্থলি পণ্য।

মেলার শেষ মহুর্তে কেমন কেনাবেচা হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে নুসরাত ফ্যাসনের স্বত্তাধিকারী নাজিম উদ্দিন রানা অর্থসচককে বলেন, মেলার শেষ মহুর্তে আমরা বিশেষ ছাড় দিচ্ছে। শুধু আজকের জন্য বিশেষ ছাড়ে ১৩০০ টাকায় ব্লেজার ও ১০০০ টাকায় মোদি কোর্ট বিক্রি করেছি। দুই চার দিন থেকে ক্রেতাদের বেশ ভাল সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আজ বিক্রি বেশ ভাল।

এদিকে লেক মি, গ্লোডেন রোজ, মিস ওয়ার্ড, শী, এলেক্স এবেইনসহ মেয়েদের বিভিন্ন প্রসাধনীসমগ্রী স্টল ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন প্রসাধনীসমগ্রী কিনতে তরুণী ভিড় জমাচ্ছে স্টলগুলোতে। ক্রেতাদের সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিক্রয় কর্মীরা।

এলেক্স এবেইন স্টলের ইনচার্জ বিন্দু রহমান অর্থসচককে বলেন, লিপ স্টি, স্কিন আই শ্যাডো, ফাউন্ডেশন, এন্টি অ্যাজাইন ফাউন্ডেশন, মর্চারাজিং ফাইনিশারসহ বিভিন্ন ধরনের প্রশাসধীতে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় রয়েছে। মেলার শেষ মহুর্তে ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আমরা আশা করছি এবার বিক্রি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

ওয়ালটন প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়নের ম্যানেজার মোহাম্মদ আকরামুজ্জামান অপু অর্থসূচক বলেন, এবারের মেলায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি আকর্ষণীয় ডিজাইন ও মডেলের সর্বোচ্চ সংখ্যক ইলেকট্রনিক্স, ইলেকট্রিক্যাল এবং হোম অ্যাপ্লায়েন্সের পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। মেলায় আসা ক্রেতারা যাতে এক জায়গাতেই দরকারি সব ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্য পান সেজন্যই সর্বোচ্চ সংখ্যক পণ্য নিয়ে এসেছে ওয়ালটন।

যে প্রত্যাশা নিয়ে আমরা মেলায় অংশ নিয়েছি ক্রেতা দর্শনার্থীদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া আমাদের সেই প্রত্যাশা পুরণ হয়েছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম পাশে শুরু হওয়া মাসব্যাপী এই মেলা শেষ হবে ৩১ জানুয়ারি। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। মেলায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশ মূল্য বা টিকিট মূল্য ৩০ টাকা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য থাকছে ২০ টাকা করে।

এ বছর বাণিজ্যমেলায় ১৩ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৫৩টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ৬০টি, জেনারেল প্যাভিলিয়ন ১০টি, রিজার্ভ প্যাভিলিয়ন ৩টি ও ফরেন প্যাভিলিয়ন ৩৮টি। এ ছাড়া থাকছে প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন ৩৬টি, জেনারেল মিনি প্যাভিলিয়ন ১৩টি, রিজার্ভ মিনি প্যাভিলিয়ন ৬টি, ফুডস্টল ২৫টি ও রেস্টুরেন্ট ৫টি।

এবারের মেলায় বিশ্বের ২২টি দেশ অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে মরিশাস, ঘানা, নেপালসহ সাতটি নতুন দেশ অংশ নিচ্ছে। এ ছাড়া বিগত বছরে অংশগ্রহণ করা দেশগুলোর মধ্যে থাকছে ভারত, পাকিস্তান, চিন, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, নেপাল, হংকং, জাপান ও আরব আমিরাত।

মেলায় প্রদর্শিত পণ্যের মধ্যে মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিক্স অ্যান্ড বিউটি এইডস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স, পাটজাত পণ্য, লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারীওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ঘড়ি, জুয়েলারি, সিরামিক, টেবিলওয়্যার, দেশীয় বস্ত্র, ক্যাবল, মেলামাইন, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, আসবাবপত্র ও হস্তশিল্প অন্যতম৷

অর্থসূচক/এমআই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ