সরবরাহ বেশি, দামও বেশি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পণ্যবাজার

সরবরাহ বেশি, দামও বেশি

মৌসুমি সবজিতে এখন ভরপুর রাজধানীর খুচরা কাঁচাবাজারগুলো। ট্রাকভর্তি করে রাজধানীতে আসছে শীতকালীন সবজি। ডালা সাজিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা। তবু সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি প্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা বেড়েছে বেগুন, শিম টমেটোসহ বেশকিছু সবজির দাম। এদিকে প্রতি লিটারে ৫ টাকা করে কমানোর কথা থাকলেও ৩ থেকে ৪ টাকা করে কমেছে সয়াবিন তেলের দাম।

ক্রেতারা বলছেন, ভরা মৌসুমে সবজির দাম কেজি প্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকার বেশি হওয়ার কথা না। অথচ বাজারে বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়; কিছু সবজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা দরে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর শান্তিনগর, মালিবাগসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে গত সপ্তাহের তুলনায় মানভেদে শিম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকায়। এছাড়া কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে টমেটোর দামও। গত সপ্তাহে ২৫-৩০ টাকায় এই পণ্যটি বিক্রি হলেও এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়।

বেগুনের কেজি প্রতি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। করলা কেজি প্রতি ৫০ টাকা, শালগম ২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, ঢেঁড়স, বরবটির ও চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচা মরিচ পাওয়া যাচ্ছে কেজি প্রতি ৫০-৬০ টাকায়। ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকায় এবং লাউ পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়।

প্রতি লিটারে ৫ টাকা করে দাম কমার কথা থাকলেও বাজারে দেখা গেছে সর্বোচ্চ ৪ টাকা করে কমানো হয়েছে সয়াবিন তেলের দাম। লিটার প্রতি ৪ টাকা কমে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৮২ থেকে ৮৬ টাকায়। পাম তেলও লিটারে ৩-৪ টাকা কমে পাম তেল ৫৫ থেকে ৫৮ টাকা ও সুপার পাম তেল ৬০ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরবরাহ সংকট না থাকলেও সবজির দাম বাড়ার কারণ হিসেবে চাহিদা বাড়ার অজুহাত দেখাচ্ছেন বিক্রেতারা। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সবজির সরবরাহ কম এবং খুচরা মূল্য বেশি বলেও দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা।

শান্তিনগর বাজারের সবজি বিক্রেতা মুহিউদ্দিন জানান, এবছর শীতকালিন সবজির উৎপাদন ভালো হওয়ায় প্রচুর সবজি আসছে। তবে চাহিদা বেশি থাকায় দাম কমছে না।

এদিকে প্রতি লিটারে ৫ টাকা করে দাম কমার কথা থাকলেও বাজারে দেখা গেছে সর্বোচ্চ ৪ টাকা করে কমানো হয়েছে সয়াবিন তেলের দাম। লিটার প্রতি ৪ টাকা কমে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৮২ থেকে ৮৬ টাকায়। পাম তেলও লিটারে ৩-৪ টাকা কমে পাম তেল ৫৫ থেকে ৫৮ টাকা ও সুপার পাম তেল ৬০ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম কিছুটা কমানো হলেও কমেনি বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম। ৫ লিটারের রুপচাঁদা সয়াবিন তেলের বোতলের দাম ৫ টাকা কমে ৪৫৫ থেকে ৪৫৮ টাকায়; ৫ লিটারের তীর সয়াবিন তেলের দাম ৬-৭ টাকা কমে ৪৫৫- ৪৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শান্তিনগর বাজারের মুদি দোকানি সাইফুল ইসলাম অর্থসূচককে বলেন, চলতি সপ্তাহে বোতলজাত তেলের গায়ের দাম সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী কমানো হয়নি। কোম্পানির পক্ষ থেকে সামান্য দাম কমিয়ে বিক্রির জন্য আমাদের নতুন মূল্য তালিকা দেওয়া হয়েছে। আমরা সেই দামে বিক্রি করছি।

অন্যান্য মুদি পণ্যের মধ্যে দেশি মসুর ডাল প্রতি কেজি ১৪০-১৫০ টাকা এবং আমদানি করা মোটা মসুর ডাল ১০০ টাকা, মুগ ডাল ১১০ টাকা; দেশি রসুন ১৫০ টাকা, আমদানি করা মোটা রসুন ১৪০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ২৫ টাকা, আমদানি করা মোটা পেঁয়াজ ৩০ টাকা, দেশি আদা ১০০ টাকা ও মোটা আদা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল বলা চলে। তেলাপিয়া প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই ২০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা, কাতল ৩৫০- ৪০০ টাকা, শিং মাছ ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৬৫০ টাকা, টেংরা ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গতসপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে মুরগি ও হাঁসের ডিম। ফার্মের মুরগির লাল ডিম প্রতি হালি ৩৪ টাকা, দেশি মুরগির ডিম ৪০ টাকা ও হাঁসের ডিম প্রতি হালি ৪৫ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে।

মাংসের মধ্যে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে ১৬০ টাকা ও লেয়ার ১৩০ টাকা কেজি, গরুর মাংস ৩৮০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা।

অর্থসূচক/এসএমএস/

এই বিভাগের আরো সংবাদ