নারায়ণগঞ্জের ৭ খুন: ফের পেছাল অভিযোগ গঠনের তারিখ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অপরাধ ও আইন

নারায়ণগঞ্জের ৭ খুন: ফের পেছাল অভিযোগ গঠনের তারিখ

আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনে নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের দুই মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে আদালত। নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন এই শুনানির জন্য আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি নতুন তারিখ ধার্য করেন।

আজ বুধবার এই শুনানির দিন থাকলেও অভিযোগপত্রের অনুলিপি না পাওয়ার কথা বলে সময়ের আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

শুনানি শেষে তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক অভিযোগ গঠনের নতুন তারিখ ঠিক করেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর কে.এম. ফজলুর রহমান। তিনি জানান, মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনসহ ১১ জন ওই ২ মামলায় জামিনের আবেদন করলেও তা নাকচ করে দিয়েছেন বিচারক।

গত ১১ জানুয়ারি এক আসামিকে অসুস্থতার কারণে আদালতে হাজির না করায় অভিযোগ গঠন এক দফা পিছিয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। ৩ দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদি হয়ে পৃথক মামলা করেন। উভয় মামলায় এই পর্যন্ত ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র‌্যাবের সাবেক ৩ কর্মকর্তাসহ ২২ আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

১১ মাসের দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৮ এপ্রিল আদালতে মামলা ২টির অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মণ্ডল। নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক ৩ কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত এবং ১৬ জনকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি। এর মধ্যে ২২ জন কারাগারে রয়েছে। ১৩ জনকে পলাতক হিসেবে দেখানো হয়েছে, এদের মধ্যে ৮ জন র‌্যাব সদস্য।

ঘটনার পর ভারতে পালিয়ে যান এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত আসামি নূর হোসেন। অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ। ভারতীয় এক আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা চলছে। নারায়ণগঞ্জের আদালতে বন্য প্রাণি (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে একটি মামলায় সাজা হয়েছে নূর হোসেনের।

অন্য আসামিরা হলো- সামরিক বাহিনী থেকে বরখাস্ত তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, এম.এম. রানা ও আরিফ হোসেন, র‌্যাব সদস্য এসআই পূর্ণেন্দু বালা, এএসআই বজলুর রহমান ও আবুল কালাম আজাদ, হাবিলদার এমদাদুল হক ও নাসির উদ্দিন, কনস্টেবল শিহাব উদ্দিন ও বাবুল হাসান, আরওজি-১ আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হীরা মিয়া, বেলাল হোসেন, ল্যান্স কর্পোরাল রুহুল আমিন, সিপাহী আবু তৈয়ব, নুরুজ্জামান ও আসাদুজ্জামান নূর এবং নূর হোসেনের সহযোগী মোর্তুজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দীপু, রহম আলী ও আবুল বাশার।

র‌্যাবের সার্জেন্ট এনামুল কবীর, এএসআই কামাল হোসেন, কর্পোরাল মোখলেছুর রহমান, সৈনিক আব্দুল আলিম, মহিউদ্দিন মুন্সী, আল আমিন শরীফ, তাজুল ইসলাম ও কনস্টেবল হাবিবুর রহমান পলাতক। এছাড়া নূর হোসেনের আরেক সহযোগী বন্দর উপজেলার কুড়িপাড়া এলাকার সেলিম ভারতের কারাগারে আটক রয়েছেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ