পুলিশকে জনগণের সেবক হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » সর্বশেষ

পুলিশকে জনগণের সেবক হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

পুলিশ বাহিনীকে দেশের মানুষের ‘সেবক’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো দাঁড়াতে হবে। দেশের মানুষ যেন পুলিশের উপর ভরসা রাখতে পারে। বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে পুলিশকে জনগণের সেবক হতে হবে।

রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে আজ মঙ্গলবার ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০১৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। একইসঙ্গে পুলিশের হাতে সম্প্রতি দুই সরকারি কর্মকর্তা নির্যাতিত হওয়ার ঘটনার সমালোচনাও করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কেবল চুরি-ডাকাতি, হত্যা-রাহাজানি বন্ধ করা নয়; সাইবার ক্রাইম, মানি লন্ডারিং, মাদক পাচার, পণ্য চোরাচালান ও নারী-শিশু পাচার প্রতিরোধে পুলিশ বাহিনীকে ‘আরও শক্ত’ ভূমিকা রাখতে হবে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘ঠিক’ রেখে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে পুলিশ। এই বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকার কারণে সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ বাংলাদেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে নাই।

একাত্তরের ২৫ মার্চ রাজারবাগে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, পবিত্র সংবিধান, গণতন্ত্র, আইনের শাসন রক্ষার জন্য এ আত্মত্যাগ বিরল দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের এই অবদান চিরদিন কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করবে।

পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষায়ও পুলিশ সদস্যরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে অনেকবার হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ বাহিনী। এমনকি বিএনপি-জামাত-শিবিরের সহিংসতা ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় ২০১৩ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২৬ জন সদস্য জীবন দিয়েছেন, যাদের মধ্যে ২১ জনই পুলিশ। এরপরও বিএনপি-জামাতের অনৈতিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে সুদৃঢ় এবং সাহসী ভূমিকা রেখেছিল পুলিশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পুলিশের জনবল বাড়িয়ে দেড় লক্ষাধিকে উন্নীত করেছে পুলিশ। গত ৭ বছরে আমরা পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে ৭৩৯টি ক্যাডার পদসহ ৩২ হাজার ৩১টি পদ সৃষ্টি করেছি। দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশের জনবল যথেষ্ট নয়; সে বিবেচনায় পুলিশে আরও ৫০ হাজার নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে ২৭৭টি ক্যাডার পদসহ ১৩ হাজার ৫৫৮টি পদে পুলিশ সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাকি জনবলের নিয়োগ কার্যক্রম অচিরেই সম্পন্ন হবে।

তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘ঠিক’ রেখে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে পুলিশ। এই বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকার কারণে সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ বাংলাদেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে নাই।

শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশের ঝুঁকি ভাতা প্রবর্তন করেছি আমরা। পুলিশের জনবল বৃদ্ধি, বিশেষায়িত ইউনিট গঠন, প্রয়োজনীয় যানবাহন ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির যে ধারা আমরা সূচনা করেছি, তা ইনশাল্লাহ অব্যাহত রাখা হবে।

আজ সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক শহীদুল হক। সেখানে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন ঘোষণার পর কুজকাওয়াজ পরিদর্শন এবং সালাম গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় প্যারেডে নেতৃত্ব দেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য এই পারেডে অংশ নেন।

২০১৫ সালে সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে ‘প্রশংসনীয় অবদানের’ স্বীকৃতি হিসেবে এ অনুষ্ঠানে পুলিশ সদস্যদের পদক পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। এবার ১৯ জন পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), ২০ জনকে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম), ২৩ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা ও ৪০ জনকে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা পদক দেওয়া হয়। এছাড়া ছয়জনকে দেওয়া হয় মরণোত্তর পদক।

এই বিভাগের আরো সংবাদ