বিমানবন্দরে হস্তশিল্পের প্রদর্শন কেন্দ্র চায় বাংলাক্রাফট
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » সর্বশেষ

বিমানবন্দরে হস্তশিল্পের প্রদর্শন কেন্দ্র চায় বাংলাক্রাফট

রপ্তানি আয়ে অপার সম্ভাবনা থাকলেও বহুমুখী কারণে এগোতে পারছে না হস্ত ও কারুশিল্প। এ শিল্পের বিকাশ ও সম্প্রসারণে কারুপল্লী, হস্তশিল্প গবেষণা ও ডিজাইন উন্নয়নে ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এবং দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে হস্তশিল্পের প্রদর্শনকেন্দ্র চায় বাংলাদেশ হস্তশিল্প প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বাংলাক্রাফট)।

হস্তশিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে হস্তশিল্পের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো। কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো প্রদর্শনী কেন্দ্র না থাকায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে না এসব পণ্য। এছাড়া বাঁশ-বেতের চাষাবাদ কমে যাওয়ায় দেখা দিচ্ছে কাঁচামাল সংকট।

চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ খাতের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৫ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ হস্তশিল্প প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বাংলাক্রাফট) সেক্রেটারি মো. শাহ জালাল অর্থসূচককে বলেন, দেশের হস্তশিল্পকে এগিয়ে নিতে কারুপল্লী গড়ে তোলা জরুরি। এক্ষেত্রে ঢাকার অদূরে ১০০ একর জমি নিয়ে ক্রাফট ভিলেজ করা যেতে পারে। যেখানে সার্ভিস ডিজাইন সেন্টারসহ হস্তশিল্পের কারখানা থাকবে।

তিনি জানান, হস্তশিল্প গবেষণা ও ডিজাইনের জন্য একটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। যদিও ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে হস্তশিল্প গবেষণা ও ডিজাইন উন্নয়নে ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের স্থাপন করতে কাকরাইলে এক খণ্ড জমি বরাদ্দ দেন। তবে সরকার পরিবর্তন হওয়ায় সেটি বাতিল হয়ে যায়। আজও সেই জমি মেলেনি।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর সামনে হস্তশিল্পের প্রদর্শনী কেন্দ্র নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিদেশি ক্রেতাদের কাছে হস্তশিল্পের পণ্য পৌঁছাতে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রদর্শনী কেন্দ্র নির্মাণ ছাড়াও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর সামনে প্রদর্শনী কেন্দ্র নির্মাণ করা প্রয়োজন।

বাংলাক্রাফটের তথ্যমতে, শতরঞ্জি, বিভিন্ন আকৃতির ঝুড়ি, পাটের তৈরি থলে, পাপোস, টেরাকোটা, মোমবাতি, নকশিকাঁথা, পাখির খাঁচা, বাঁশ ও বেতের বিভিন্ন সামগ্রী, চামড়ার তৈরি মুদ্রার বাক্স, বেল্টসহ বিভিন্ন ধরনের হস্তজাত পণ্য রপ্তানি করছেন উদ্যোক্তারা। এ ছাড়া দেশের ভেতরে ছয় হাজার কোটি টাকার বাজার আছে এ হস্তশিল্পের। বর্তমানে কারুপণ্য রংপুর, ঢাকা ট্রেড, আস্ক হ্যান্ডিক্রাফটস, কুমুদিনী, আড়ং, নিপুণ ক্রাফটস, সান ট্রেড, হিড হ্যান্ডিক্রাফটস, ক্রিয়েশনসহ শতাধিক প্রতিষ্ঠান হস্তজাত পণ্য রপ্তানি করছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৩৭ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের হস্তশিল্পজাত পণ্য রপ্তানি হয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তা বেড়ে ৭৫ লাখ ডলারে দাঁড়ায়। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ খাতের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৫ লাখ ডলার।

প্রসঙ্গত, গত বছরের এপ্রিলে ‘হস্ত ও কারুশিল্প নীতিমালা-২০১৫’ অনুমোদন দেয় সরকার। শিল্পনীতি-২০১০ এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হস্তশিল্প নীতি-২০১৫ প্রণয়ন করা হয়। আগামীকাল সোমবার ‘হস্ত ও কারুশিল্প নীতিমালা-২০১৫’ বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

অর্থসূচক/এমএইচ

এই বিভাগের আরো সংবাদ