কপাল পুড়েছে ২২ কোম্পানির
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পুঁজিবাজার
এ যাত্রায় মিলছে না আইপিওর অনুমোদন

কপাল পুড়েছে ২২ কোম্পানির

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসার পথে থাকা ২২ কোম্পানির কপাল পুড়েছে। আইনিপ্যাঁচে এ যাত্রায় এদের আর বাজারে আসা হয়ে উঠছে না। মাঝপথ থেকে ফিরে যেতে হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কোম্পানিগুলোকে চিঠি দিয়ে তাদেরকে বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে। সবগুলো কোম্পানিই প্রিমিয়াম নিয়ে বাজারে আসতে চেয়েছিল।

সবগুলো কোম্পানিই প্রিমিয়াম নিয়ে বাজারে আসার আবেদন করেছিল। বাজারে আসতে চাইলে এদেরকে আবার নতুন করে প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। আর ফিক্সডপ্রাইস পদ্ধতির পরিবর্তে বেছে নিতে হবে বুকবিল্ডিং পদ্ধতি। তুলনামূলক জটিল এ পদ্ধতিতে বাজারে আসতে বেশ সময়ের প্রয়োজন।

আলোচিত কোম্পানিগুলোর মধ্যে রেয়েছ-আমান সিমেন্ট, এসটিএস হোল্ডিংস, ডেলটা হাসপাতাল, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার, মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স পলি ম্যানুফ্যাকচারিং। বাকীগুলোর নাম জানা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ, সংশোধিত পাবলিক ইস্যু রুলসে শুধু বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতেই প্রিমিয়াম নিয়ে আইপিওতে আসতে পারবে কোনো কোম্পানি। আর অভিহিত মূল্যে শেয়ার ইস্যু করতে চাইলেই কেবল ফিক্সডপ্রাইস মেথডে আইপিওর আবেদন করা যাবে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে বিএসইসি পাবলিক ইস্যু রুষ সংশোধন করে।

আলোচিত কোম্পানিগুলো পাবলিক ইস্যু রুলস সংশোধনের অনেকদিন আগেই ফিক্সডপ্রাইস মেথডে বাজারে আসার আবেদন করেছিল। কয়েকটি কোম্পানির আইপিও প্রক্রিয়া অনেকদূল এগিয়েছিল। তবে এ ধরনের কোম্পানিগুলোর মধ্যে মাত্র ৫টির আইপিও প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে থাকায় সেগুলোকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। বাকী সব কোম্পানিকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে আসার পরামর্শ দিয়েছে বিএসইসি। বিএসইসি, ইস্যু ম্যানেজার ও কোম্পানি সূত্র এ তথ্য জানা গেছে।

বিএসইসির সূত্র মতে, যে সব কোম্পানি কমিশন বৈঠকে উঠার অপেক্ষায় আছে; সেগুলোই শুধু বিবেচনায় রেখেছে তারা। তবে এ কোম্পানিগুলোকেও নতুন আইনের আওতায় ডিসক্লোজার দিতে হবে। ওই ডিসক্লোজার দেখে সিদ্ধান্ত নিবে বিএসইসি। অন্যদিকে পুরনো আইনে ফিক্সডপ্রাইস পদ্ধতিতে আইপিওর জন্য আবেদন জমা দেওয়া কোম্পানিগুলোকেও নুতন আইনে ডিসক্লোজার দিতে হবে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সুনজরে থাকা ৫টি কোম্পানি পুরনো পাবলিক ইস্যু রুলস, ২০০৬ এর নিয়মে আসতে পারবে। কোম্পানিগুলো হলো- লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের হাতে থাকা আমরা নেটওয়ার্ক, প্রাইম ফাইন্যান্সের সুপ্রীম সিড, সন্ধানী ইস্যুরেন্স ক্যাপিটালের মদিনা সিমেন্ট, আইডিএলসির বেঙ্গল প্লাস্টিক পাইপস লিমিটেড এবং ইম্পেরিয়াল ক্যাপিটালের হাতে থাকা প্যাসিফিক ডেনিমস লিমিটেড। এর বাইরে ২২ কোম্পানিকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।

চিঠির বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল আলম অর্থসূচককে বলেন, প্রিমিয়াম নিয়ে আইপিওতে আসার অপেক্ষায় থাকা কয়েকটি কোম্পানি বাদে সবগুলো চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। প্রিমিয়াম নিয়ে বাজারে আসতে হলে পাবলিক ইস্যু রুলস, ২০১৫ পরিপালন করে আসতে হবে।

তিনি বলেন, প্রিমিয়াম ছাড়া আবেদন করা কোম্পাগিুলোকেও নতুন আইনে ডিসক্লোজার দিতে হবে। সব কিছু দেখে সিদ্ধান্ত নিবে কমিশন।

একাধিক মার্চেন্ট ব্যাংক চিঠি পাওয়ার বিষয়টি অর্থসূচককে নিশ্চিত করেছেন। চিঠির বিষয়ে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের কর্মকর্তা স্বপ্না রায় বলেন, বিএসইসির কাছ থেকে আমরা একটি চিঠি পেয়েছি। চিঠিতে বলা হয়েছে প্রিমিয়ামের যে সব কোম্পানি বাজারে আসতে চায়: তাদেরকে নতুন আইনে আসতে হবে।

এ বিষয়ে লংকা-বাংলার আইপিও বিভাগের ইনচার্জ ইফতেখার আলম অর্থসূচককে বলেন, বিএসইসি থেকে আমরা দুটি কোম্পানির বিষয়ে চিঠি পেয়েছি। কোম্পানিগুলো হলো- আমান সিমেন্ট ও এসটিএস হোল্ডিংস।

প্রাইম ফাইন্যান্সের হাতে থাকা কোম্পানিগুলো হলো- ডেলটা হাসপাতাল, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার ও মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স পলি ম্যানুফ্যাকচারিং। এ বিষয়ে কোম্পানিটির কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাজিবুল ইসলাম অর্থসূচককে বলেন, বিএসইসির কাছ থেকে আমাদের মাধ্যমে জমা দেওয়া তিনটি কোম্পানির বিষয়ে চিঠি পেয়েছি। এই কোম্পানিগুলো পুরনো আইনে জমা দেওয়া। বিএসইসি এই কোম্পানিগুলোর আইপিও নতুন আইনে করার জন্য বলেছে।

অর্থসূচক/গিয়াস

এই বিভাগের আরো সংবাদ