খুলনা-মংলা নতুন রেলপথ নির্মাণ শুরু শিগগির
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

খুলনা-মংলা নতুন রেলপথ নির্মাণ শুরু শিগগির

খুলনা থেকে মংলা পর্যন্ত নতুন ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ কাজ শিগগিরই শুরু হচ্ছে। প্রায় ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণে ব্যয় হবে জমির মূল্যসহ ৩ হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

railway

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ও ভারতীয় ঋণে এই রেলপথ নির্মাণ করা হবে।

বাংলাদেশ সরকার এ প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ৪৩০ কোটি ২৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিবে এবং ভারতীয় ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে প্রায় ২ হাজার ৩৭১ কোটি ৩৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

মংলা বন্দরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপিত হলে আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হবে। এছাড়া নেপাল ও ভুটান এই মংলা বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে রেলযোগে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করতে পারবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার (প্রকল্প) মো. মজিবুর রহমান জানান, শিগগিরই এ প্রকল্পে ভৌত নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। এ ব্যাপারে ভারতের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই তাদের অনুমোদন পাওয়া যাবে।

খুলনা-মংলা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক আবদুল হাই জানান, এই রেলপথ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং ভারতীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ইরকন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি সই হয়েছে। কাজ শুরুর ৪২ মাসের মধ্যে এই রেলপথ নির্মাণের কাজ শেষ হবে।

তিনি জানান, রূপসা রেল ব্রিজের নির্মাণ কাজও শুরু হবে।

প্রকল্পে ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ ছাড়াও ২১ দশমিক ১১ কিলোমিটার লুপ লাইন রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এই রেলপথ নির্মাণে প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট স্লিপার ব্যবহার করা হবে। সকল স্টেশন ‘বি’ ক্লাস স্টেশনে রূপান্তরিত হবে।

প্রকল্পে ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ ছাড়াও ২১ দশমিক ১১ কিলোমিটার লুপ লাইন রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এই রেলপথ নির্মাণে প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট স্লিপার ব্যবহার করা হবে। সব স্টেশন ‘বি’ ক্লাস স্টেশনে রূপান্তরিত হবে।

এই রেলপথে ফুলতলা, আড়ংঘাটা, মোহাম্মদনগর, কাটাখালী, চুলকাটি বাজার, ভাগা, দিগরাজ ও মংলায় ৮টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া এ রেলপথে রূপসা ব্রিজ, তিনটি বড় ব্রিজ, ২৮টি ছোট ব্রিজ ও ১১১টি কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।

এই রেলপথ নির্মাণে ৬৭৮ দশমিক ৫৩ একর অধিগ্রহণ করা হচ্ছে এবং মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৭৩ দশমিক ৩৫৭ একর জমি পাওয়া যাবে।

নির্মাণ কাজের মধ্যে রয়েছে বাঁধ নির্মাণ, রেলপথ নির্মাণ, সিভিল ওয়ার্ক, রূপসা ব্রিজ ব্যতীত ছোট ও বড় ব্রিজ নির্মাণ, কালভার্ট নির্মাণ এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনার কাজ।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন জানান, খুলনা-মংলা রেলপথ নির্মাণ হলে বিদ্যমান রেলওয়ের সাথে মংলা বন্দরের সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এ বন্দরের পণ্য সহজেই রাজধানীসহ দেশের সব স্থানে রেলপথে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

মংলা বন্দরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপিত হলে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া খুলনা মহানগরীর যানজট হ্রাস পাবে। অপরদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। যাত্রী সাধারণের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত হবে।

পদ্মা সেতু নির্মিত হলে যশোর পর্যন্ত রেললিংক স্থাপনের মাধ্যমে খুলনার সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ সংযুক্ত হবে।

সূত্র: বাসস

এই বিভাগের আরো সংবাদ