এসএমই উদ্যোক্তার গলায় সুদের ফাঁস
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ব্যাংক-বিমা

এসএমই উদ্যোক্তার গলায় সুদের ফাঁস

বিনিয়োগে মন্দার জন্য উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ পর্যন্ত সবাই এক বাক্যে উচ্চ সুদহারকে দায়ী করছেন। এরই প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সরকারের সব মহল থেকে একযোগে সুদহার কমানোর ওপর জোর দিচ্ছে। অথচ বিনিয়োগ- সুদহারের এ টানাপোড়েনের মাঝে উল্টো পথে হাঁটছে ব্র্যাক ব্যাংক। ক্ষুদ্র ও মাঝারী খাতে (এসএমই) প্রায় ২৪ শতাংশ হারে সুদ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে। ব্র্যাক ব্যাংকের রাজধানীর শ্যামপুর শাখা থেকে ঋণ নেওয়া এক গ্রাহকের কাছ থেকে এই উচ্চ হারে সুদ আদায়ের প্রমাণও পাওয়া গেছে।

ব্র্যাক ব্যাংক

“সুদ পরিশোধ করতে করতে তার প্রাণ যায় যায় অবস্থা”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই গ্রাহক জানান, ২০১১ সালে ব্র্যাক ব্যাংকের ‘অনন্যা’ প্যাকেজের অধীনে আসবাব ব্যবসার জন্য ঋণের আবেদন করেন তিনি। পরে ব্যাংক তার আবেদনের বিপরীতে ৫ লাখ টাকা ঋ্ণ অনুমোদন করে। টাকা বুঝে নিতে গিয়ে তিনি দেখতে পান সুদহার ধরা হয়েছে সাড়ে ১৮ শতাংশ। ওই সময়ে প্রথম কিস্তিসহ যাবতীয় ফি কেটে তাকে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

এর ঠিক দুই বছর পরে তিনি অনন্যা প্যাকেজের অধীনে আবারও ৮ লাখ টাকা ঋণের আবেদন করেন। এবার তাকে অপেক্ষাকৃত কম সুদ আরোপের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু ঋণের টাকা নিতে গিয়ে তিনি দেখতে পান সুদ ধরা হয়েছে ২৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। নিরুপায় ওই ব্যবসায়ী এখন পর্যন্ত এই সুদের ঋণের টাকা পরিশোধ করে যাচ্ছেন।

এর ঠিক দুই বছর পরে তিনি অনন্যা প্যাকেজের অধীনে আবারও ৮ লাখ টাকা ঋণের আবেদন করেন। এবার তাকে অপেক্ষাকৃত কম সুদ আরোপের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু ঋণের টাকা নিতে গিয়ে তিনি দেখতে পান সুদ ধরা হয়েছে ২৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাক সুত্রে জানা গেছে, বারবার নির্দেশনা স্বত্তেও যেসব ব্যাংক স্প্রেড (আমানত ও সুদহারের ব্যবধান) ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনছে না তাদের মধ্যে অন্যতম ব্র্যাক ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, ব্যাংকটির স্প্রেড ৯ দশমিক ২।

অথচ এই উচ্চ স্প্রেডকেই বিনিয়োগের অন্তরায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর উদ্যোক্তারা একে ব্যবসা সম্প্রসারণের অন্তরায় হিসেবে গণ্য করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষপালের মতে, স্প্রেড বেশি মানে ব্যাংক আমানতকারীকে কম দিচ্ছে আর ঋণ গ্রহীতার কাছ থেকে বেশি আদায় করছে। এজন্য ঋণের সুদহার নামিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বারবার স্প্রেড নামিয়ে আনার তাগিদ দিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে ব্র্যাক ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনন্যা এসএমই ঋণ প্যাকেজের অধীনে ২ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়। তবে কত শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে তা জানা যায়নি।

এ ব্যাপারে ওই গ্রহীতা জানিয়েছেন, বিক্রির মন্দার কারণে ব্যবসা বাঁচাতে তিনি ঋণ নিয়েছেন। কিন্তু এখন সুদ পরিশোধ করতে করতে তার প্রাণ যায় যায় অবস্থা।

তার অভিযোগ, বর্তমানেও বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে একই হারে সুদ আদায় করছে ব্যাংকটি।

ঋণের এ উচ্চ সুদ আরোপের বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী সেলিম আর এফ হোসেন এবং কমিউনিকেশন ও সার্ভিস কোয়ালিটি বিভাগের প্রধান জারা জাবিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।

এসএমইতে প্রায় ২৪ শতাংশ সুদ আরোপের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভংকর সাহার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ওদের কষ্ট অব ফান্ড একটু বেশি হওয়ায় থাকায় তারা একটু বেশি সুদ নেয় এটা জানি। তারা এজেন্ট ব্যাংকিং চালু হবার আগে থেকেই ইউনিট খুলে বিভিন্ন জায়গায় ঋণ বিতরণ করে। তবে ২৪ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ শুনে একটু খটকা লাগছে। আমি এ বিষেয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানাবো এবং বলবো তারা যেন একটি টিম পাঠিয়ে এর তদন্ত করে।

অর্থসূচক/এসবি/এসএম

এই বিভাগের আরো সংবাদ