ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়া কমিয়েছে সরকার
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ব্যাংক-বিমা

ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়া কমিয়েছে সরকার

চলতি ২১০৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের পরিমাণ কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই ৬ মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ কমেছে ৩ হাজার ২২৫ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই ৬ মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ কমেছে ৩ হাজার ২২৫ কোটি টাকা।

এ অবস্থায় চলতি অর্থবছরের মাঝামাঝি এসে এ খাত থেকে নেওয়া সরকারে নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ৯৪ হাজার ৩৯ কোটি টাকা।

আগের অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিলোপ্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা।

সূত্রমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে সরকারি সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে। এ অবস্থায় ব্যাংক খাত থেকে সরকার যে পরিমাণ ঋণ নিয়েছে; পরিশোধ করেছে তার চেয়ে বেশি। ফলে ডিসেম্বর শেষে গত অর্থবছরের তুলনায় ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ কমিয়েছে সরকার।

বাজেটের ঘাটতি মেটাতে বিদেশি ঋণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেয় সরকার। এক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্র বিক্রি এবং ট্রেজারি বিল ও বন্ডের বিপরীতে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয়। সাধারণত ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত তারল্য সরকারকে ঋণ হিসেবে দিয়ে থাকে। তবে এখন সরকারের আগের মতো ঋণ প্রয়োজন হচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক আবু আহমেদ অর্থসূচককে বলেন, “বাজেট ঘাটতি মেটাতে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো থেকে সরকারকে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে হয়। কিন্তু সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ায় ব্যাংক খাত থেকে এখন সরকারের আগের মতো ঋণ প্রয়োজন হচ্ছে না। ফলে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ কমেছে।”

“বাজেট ঘাটতি মেটাতে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো থেকে সরকারকে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে হয়। কিন্তু সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ায় ব্যাংক খাত থেকে এখন সরকারের আগের মতো ঋণ প্রয়োজন হচ্ছে না। ফলে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ কমেছে।”

“এটি সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। কারণ ব্যাংক খাত থেকে সরকার ঋণ না নিলে ব্যাংকগুলো কলমানিতে অর্থ খাটানোসহ অন্য লাভজনক খাতে বিনিয়োগের চিন্তা করবে।”

“আরেকটি কারণ হলো- বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখন গত ১২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। কিন্তু দেশের বাজারে সরকার দাম সমন্বয় করেনি। ফলে এ খাত থেকেও সরকারে বিরাট একটা আয় হচ্ছে। এতে করে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ চাহিদা কম রয়েছে।”

চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকার ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ৩৮ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। কিন্তু সঞ্চয়পত্র বিক্রিসহ অন্যান্য খাত থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংক খাতের উপর নির্ভরশীলতা কমেছে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সরকারের নিট ২১ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে। তবে অর্থবছর শেষে সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ২৮ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা পায় সরকার। চলতি অর্থবছরে এ খাত থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

তবে নভেম্বর পর্যন্ত ৫ মাসেই নিট ১১ হাজার ৩২৬ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। আগের অর্থবছরে একই সময়ে যা ১১ হাজার ২৪২ কোটি টাকা ছিল। অর্থাৎ সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানোর পরও এবার বিক্রি বেশি হয়েছে ৮৪ কোটি টাকা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ