অর্থ পাচারকারী কোম্পানির তালিকা করছে এনবিআর
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

অর্থ পাচারকারী কোম্পানির তালিকা করছে এনবিআর

অতি গোপনে বিদেশে অর্থ পাচারকারী কোম্পানিগুলোর তালিকা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান।

আজ বুধবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনে ‌‌’বাণিজ্য ভিত্তিক অর্থ পাচার প্রতিরোধমূলক’ কর্মশালার উদ্ভোধন অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, যেসব কোম্পানি টাকা পাচার বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত- তাদের তালিকা হচ্ছে। অতি গোপনীতায় যারা পাচার করছে- তারাও এই তালিকায় থাকছে। অপরাধ সংগঠিত হওয়ার আগেই প্রতিরোধের চেষ্টা চালাচ্ছি। অসৎ কাজের সঙ্গে জড়িতদের ধরা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার উদ্দেশ্যেই অবৈধ উপায়ে অর্থ দেনে আনা হয়। তাই এটিও প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে। বাইরে অর্থ পাচারে নজরদারির পাশাপাশি বিদেশ থেকে অর্থ যেন অবৈধ উপায়ে দেশে প্রবেশ করতে না পারে- সে বিষয়েও লক্ষ রাখছি।

নজিবুর রহমান বলেন, অপরাধীরা তাদের কাজে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। তাই আমাদের কর্মকর্তাদের জন্য এ ধরনের কর্মশালাসহ বিভিন্ন ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা উচিত। পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থাগুলোর সহযোগিতাও প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, আগে অর্থ পাচার রুখতে শুধু আয়কর শাখা কাজ করতো। এখন এনবিআরের সব শাখা এ বিষয়ে সক্রিয় আছে। অর্থপাচার রুখতে অধিক গুরুত্ব দিয়ে পৃথক সেল ও গবেষণাগার গঠন করেছে এনবিআর।

NBR2

বুধবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনে ‘বাণিজ্য ভিত্তিক অর্থ পাচার প্রতিরোধমূলক’ কর্মশালার উদ্ভোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। ছবি: মহুবার রহমান

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আগে যেসব ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান কর ফাঁকি দিত তাদের স্মার্টনেস বেশি ছিল। এনবিআরের তৎপরতার কারণে এখন তারা অনেকেই আতঙ্কে আছেন। তবে খারাপ ব্যবসায়ীর চেয়ে ভালো ব্যবসায়ীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

তিনি বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাচার হওয়া অর্থ বিনিয়োগে কোনো বাধা দেয় না উন্নত ও বড় দেশগুলো। ফলে অর্থ পাচারের প্রবণতা বাড়ছে। এটি রুখতে উন্নত ও বড় দেশগুলোতে অর্থ পাচারে বিরুদ্ধে তৎপরতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

রাজস্বে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে নজিবুর রহমান বলেন, রাজস্বে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমি সব স্তরে আবেদন করেছিলাম। এ আবেদনে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আমাদানি-রপ্তানিতে শুভ হাওয়া বইছে। তাই আশা করছি, চলতি অর্থ বছরের ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কাজ অনেকটা এগিয়ে যাবে।

শুল্ক গোয়েন্দার মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই) প্রতিবেদন অনুসারে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭৬০ কোটি ডলার বা ৬০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। বাংলাদেশের প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বাজেট হয়; সেখানে ৬০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা পাচার হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, বিদেশ থেকে অবৈধভাবে যে অর্থ আসে তা অত্যন্ত কুৎসিত খাতে ব্যবহার হয়। আর তা দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রবেশ করে। আমাদের এ বিষয়ে নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে। চট্টগ্রামে যে কোকেন আটক করা হয়েছে সেখানে আর্ন্তজাতিক মূদ্রা পাচারকারীদের যোগসাজশ পাওয়া গেছে।

এনবিআর আয়োজিত দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় শুল্ক ও গোয়েন্দার ৫০ কর্মকর্তা অংশগ্রহন করেছেন।

অর্থসূচক/এমআই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ