ডিএসই-সিএসইতে দেওয়া মূল্য সংবেদনশীল তথ্যে অসঙ্গতি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পুঁজিবাজার

ডিএসই-সিএসইতে দেওয়া মূল্য সংবেদনশীল তথ্যে অসঙ্গতি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আপলোডে অসঙ্গতি রয়েছে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে। দেখা গেছে, বেশিরভাগ কোম্পানিতে দুই ধরনের তথ্য দেওয়া রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে তারা পাচ্ছেন এক রকম তথ্য। আবার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) থেকে পাচ্ছেন আরেক রকম তথ্য।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, এমন তথ্যবিভ্রাট থাকার পরও একই সময়ে তথ্য আপলোডের কোনো উদ্যোগ স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে বিগত সময়ে দেখা যায়নি।

ডিএসইর ওয়েবসাইটে বেক্সিমকো ফার্মার মূল্য সংবেদনশীল তথ্য। ছবি স্ক্রিনশট

ডিএসইর ওয়েবসাইটে বেক্সিমকো ফার্মার মূল্য সংবেদনশীল তথ্য। ছবি স্ক্রিনশট

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডিএসই ও সিএসইর ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, বেক্সিমকো গ্রুপের ৩টি কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। ডিএসইতে দেওয়া আছে বেক্সিমকো ফার্মার রিজার্ভ ১ হাজার ১৭৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। একই কোম্পানির এই তথ্যটি সিএসইতে দেওয়া রয়েছে ৯৯৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ডিএসইতে পরিশোধিত মূলধন দেওয়া রয়েছে ৩৮৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আর সিএসইতে রয়েছে ৩৮৬ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

ডিএসইতে বেক্সিমকো ফার্মার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে শেয়ার রয়েছে ১৫ দশমিক ২১ শতাংশ। যা সিএসইতে রয়েছে ২৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। আবার ডিএসইতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ২৫ দশমিক ২৯ শতাংশ, যা সিএসইতে ৩২ দশমিক ১১ শতাংশ। ডিএসইতে পাবলিকের কাছে রয়েছে ৪৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ শেয়ার। এর বিপরীতে সিএসইতে রয়েছে ২৭ দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ার। কোম্পানিটির নেট অ্যাসেট ভ্যালুতেও উভয় এক্সচেঞ্জে অসঙ্গতি রয়েছে। এমন চিত্র চোখে পড়েছে বেক্সিমকো সিন্থেসিস ও বেক্সিমকো লিমিটেডের ক্ষেত্রেও।

বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, কোম্পানির রিজার্ভে দুই ধরনের তথ্য দেওয়া রয়েছে। ডিএসইর ওয়েব সাইটে কোম্পানিটির রিজার্ভ ৬৯১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। যা সিএসইতে রয়েছে ৬৯৪ কোটি ৪৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ডিএসইতে সাধারণ বিনিয়োগকারীর শেয়ার রয়েছে ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। যা সিএসইতে রয়েছে ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ডিএসইতে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ, সিএসইতে ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

সিএসইতে বেক্সিমকো ফার্মার মূল্য সংবেদনশীল তথ্য। ছবি স্ক্রিনশট

সিএসইতে বেক্সিমকো ফার্মার মূল্য সংবেদনশীল তথ্য। ছবি স্ক্রিনশট

স্কয়ার ফার্মার মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের ক্ষেত্রেও এমন অসঙ্গতি দেখা গেছে। সিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা রয়েছে ৫৫ কোটি ৪২ লাখ ৯৯ হাজার ১৫২টি; যা ডিএসইতে রয়েছে ৬২ কোটি ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৫৪৬টি। পরিশোধিত মূলধনের ক্ষেত্রে ডিএসইতে রয়েছে ৬২৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা; যা সিএসইতে রয়েছে ৫৫৪ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ডিএসইতে কোম্পানির রিজার্ভ রয়েছে ২ হাজার ২৮২ কোটি ২০ লাখ টাকা। যা সিএসইতে রয়েছে ২ হাজার ৩২৪ কোটি ৯৫ লাখ ১০ হাজার টাকা।

একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী বেশিরভাগ সময়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেন কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্য দেখে। কিন্তু দেখা যায়, দুই স্টক এক্সচেঞ্জে একই কোম্পানি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য থাকার কারণে বিপাকে পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলাম ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. স্বপন কুমার বালার সঙ্গে। তিনি বলেন, ডিএসইতে আগে এমন সমস্যা ছিল। তবে এখন আর নেই। এটা আসলে দুই স্টকে একই সময়ে আপলোড না করার কারণে হয়ে থাকে। দেখা যায়, ডিএসই এক সময়ে তথ্য সাইটে আপলোড করেছে; আবার সিএসই আরেক সময়ে তথ্য আপলোড করেছে। তবে ডিএসইতে দেওয়া তথ্য সঠিক বলে দাবি করেন তিনি।

এ নিয়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসিই) ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম ফারুক বলেন, কোম্পানির কাছ থেকে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আসার পর তা সিএসইর ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়। এ তথ্য নিয়মিত আপডেটও করা হয়।

তাদের সাইটে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ মূল্য সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা কোনো কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্যে বিভ্রান্তিতে পড়েন। বিনিয়োগে সমস্যা দেখা দেয়। সঠিক তথ্য না থাকলে ওই কোম্পানির প্রতি আস্থাও হারিয়ে যায়। তাই উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মূল্য সংবেদনশীল তথ্য একই সময়ে আপলোড হওয়া উচিত।

বিনিয়োগকারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা মূলত কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্য পেয়ে থাকেন উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইট থেকে। তবে সেখানে দুই রকম তথ্য থাকলে তারা বিভ্রান্তিতে পড়েন। কোনটা সঠিক সেটা বুঝা মশকিল হয়ে যায়।

অর্থসূচক/মাহমুদ/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ