'ড. মাহবুবের অবদান শোধের নয়'
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

‘ড. মাহবুবের অবদান শোধের নয়’

সদ্য প্রয়াত কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব হোসেনের অবদান কোনো দিন শোধ করা যাবে না। তবে তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানিয়ে কিছুটা হলেও ঋণ লাঘব করার সুযোগ আছে বলে মনে করছে বিশিষ্টজনেরা।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে ড. মাহবুব হোসেন স্মরণে এক নাগরিক শোকসভায় অংশগ্রহণ করেন অর্থনীতিবিদ, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদসহ দেশের বিশিষ্টজনরা। ছবি: মহুবর রহমান

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে ড. মাহবুব হোসেন স্মরণে এক নাগরিক শোকসভায় অংশগ্রহণ করেন অর্থনীতিবিদ, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদসহ দেশের বিশিষ্টজনরা। ছবি: মহুবর রহমান

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে ড. মাহবুব হোসেন স্মরণে এক নাগরিক শোকসভায় অর্থনীতিবিদ, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদসহ দেশের বিশিষ্টজনেরা এসব কথা বলেন।

শোক সভায় সভাপতিত্ব করেন পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জামান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদদের মধ্যে ড. মাহবুব ছিলেন প্রথম সারির একজন। আর কৃষি অর্থনীতিবিদ হিসেবে তিনি অদ্বিতীয়। কৃষি অর্থনীতিবিদ হিসেবে তার তুলনা হয় না। যারা ড. হোসেনের সঙ্গে মিশেছেন তারাই ভালো করে জানেন; মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন অতুলীয়। তার উচ্চতা অন্যান্য।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অর্থনীতিবিদের চেয়ে ড. মাহবুব ছিলেন বড় মাপের মানুষ। এই বড় মাপের মানুষটিকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর সময় এখনো আছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারকদের গভীরভাবে ভাবার সময় এখনই।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক সিনিয়র ফেলো এম সাইদুজ্জামান বলেন, কৃষি, কৃষকের উন্নয়ন, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নসহ দারিদ্র বিমোচনে ড. মাহবুব যা করে গেছেন তার কাছে কেউ যেতে পারবে না। খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন আজকের বাংলাদেশ গড়ে তোলার পেছনে তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, একজন মানুষের বিখ্যাত হওয়ার বড় পরিমাপ হলো- তিনি কত মানুষের জীবন স্পর্শ করতে পেরেছেন। এ দিক থেকে ড. মাহবুব অদ্বিতীয়।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ড. মাহবুব কৃষি গবেষণায় যে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন তার যথাযথা ব্যবহার করলে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।

ড. হোসেনের স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন,  ড. হোসেন ছিলেন আদর্শবাদ, পরোপকারী, বিনয়ী ও অসম্ভব কর্মদক্ষতার অধিকারী। তার গুণ বিশ্লেষণ করার মত যোগ্যতা আমাদের নেই।

বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, বর্তমান প্রজন্ম ড. মাহবুবের কর্মজীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করতে পারে। এখন আমাদের কাজ হবে তার অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করা।

সাবেক তত্ত্ববধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ড. মাহবুব ছিলেন একজন প্রচার বিমুখ মানুষ। তার কাছ থেকে আমরা যা শিখেছি, তা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, ষষ্ঠ ও সপ্তম বার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়নে ড. হোসেন বিভিন্নভাবে সহায়তা করেন। বিশেষ করে কৃষি চ্যাপ্টার পুরোপুরি তার সহযোগিতায় প্রণয়ন করা।

বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থনীতিতে তার অবদান অনস্বীকার্য। তার এই ঋণ শোধ করার সামর্থ্য নেই আমাদের। তবে তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানিয়ে এই ঋণ কিছুটা হলেও লাঘব করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পরে শোক সভায় (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জামান বলেন, ড. মাহবুব হোসেন রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান পাওয়ার যোগ্য। আমরা আমাদের সবাই সবার জায়গা থেকে তার রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়ার চেষ্টা করব।

এসময় আরও বক্তব্য দেন ড. মাহবুবের ভাই ডা. সাখাওয়াত হোসেন, বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক বিনায়ক সেন, অর্থনীতিবিদ ড. মো. আব্দুল করিম, ড. আতিকুর রহমান, ড. প্রতিমা পাল, ঢাবি অধ্যাপক ড. এস এম আকাশ প্রমুখ।

অর্থসূচক/এমআই

এই বিভাগের আরো সংবাদ