‘বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় নেতাজির’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক

‘বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় নেতাজির’

১৯৪৫ সালের আগস্টের নিখোঁজ হন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু। এরপর থেকে তার হারিয়ে যাওয়া কিংবা মৃত্যু রহস্য নিয়ে নানা তদন্ত চলছে। সম্প্রতি এমনই একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইংল্যান্ড। নেতাজির অন্তর্ধান রহস্য সম্পর্কে তদন্ত শেষে দেশটির একটি ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, বিমান দুর্ঘটনাতেই স্বাধীনতা-সংগ্রামী এই নেতার মৃত্যু হয়েছিল। ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট রাত ১১টার দিকে তাইওয়ানের একটি হাসপাতালে নেতাজি মারা গিয়েছিলেন বলে দাবি করছে তারা।

লন্ডনের সাংবাদিক আশিস রায়ের তৈরি ওই ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর মৃত্যুর বিষয়ে ৫ জন মানুষের সমর্থন পাওয়া গেছে। সমর্থন জানানো ব্যক্তিরা হলেন- নেতাজির এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী, দুইজন জাপানি চিকিৎসক, একজন দোভাষী এবং তাইওয়ানের এক নার্স। এই ৫ জনই জানিয়েছিলেন, ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (আইএনএ) প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ বসুর মৃত্যু হয়।

নেতাজির ঘনিষ্ঠ সহযোগী কর্নেল হাবিবুর রেহমান খান জানিয়েছিলেন, দুর্ঘটনার সময় তিনি নেতাজির সঙ্গেই ছিলেন। নেতাজি মারা গেলেও তিনি কোনোক্রমে বেঁচে যান।

তিনি আরও জানিয়েছিলেন, মৃত্যুর আগে নেতাজি বলেছিলেন, ‘আমি দেশের স্বাধীনতার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি এবং তা পালন করতে গিয়েই প্রাণ দিচ্ছি। হে দেশবাসী, স্বাধীনতার লড়াই চালিয়ে যান। খুব শীঘ্রই ভারত স্বাধীন হবে। আজাদ হিন্দ দীর্ঘজীবী হোক।’

নেতাজি সুভাসচন্দ্র বসু

নেতাজি সুভাসচন্দ্র বসু

১৯৪৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ২ পুলিশ অফিসার ফিনে ও ডেভিসের নেতৃত্বে একটি তদন্তকারী দল ব্যাংকক, সাইগন ও তাইপেইতে যান। দলে ছিলেন দুই বাঙালি গোয়েন্দা এইচ.কে. রায় ও কে.পি. দে। তারা জানান, বিমান দুর্ঘটনাতেই মারা যান নেতাজি। ওই তদন্তকারী দলের হাতে আসে একটি টেলিগ্রাম। যা জাপানি সেনার তৎকালীন প্রধান পাঠিয়েছিলেন। সেখানে নেতাজিকে ইংরেজি অক্ষর ‘টি’ বলে সম্বোধন করা হয়।

২০ আগস্টের ওই কেবলে বলা হয়, টোকিও যাওয়ার পথে তাইহোকুতে (তাইপেয়িকে এনামেই ডেকে থাকেন জাপানিরা) দুপুর ২টার দিকে বিমান দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে গুরুতর জখম হন ‘টি’। এরপর সেদিনই রাত ১১টা নাগাদ মারা যান ‘টি’।

১৯৪৬ সালের মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে ব্রিটিশ সেনার জে.জি. ফ্রিগেস টোকিওতে ৬ জন আধিকারিককে নেতাজির মৃত্যু সম্পর্কে জেরা করেছিলেন। এর মধ্যে ছিলেন নানমোন সামরিক হাসপাতালের চিকিৎসক সুরুতা, যিনি নেতাজির চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন। বিমান দুর্ঘটনার পর গুরুতর জখম নেতাজিকে এই হাসপাতালেই নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

সুরুতা জানিয়েছিলেন, নেতাজি তাকে ইংরেজিতে পাশে বসার অনুরোধ করেন। কিন্তু, সন্ধ্যে ৭টার পর নেতাজির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং তিনি কোমায় চলে যান। চিকিৎসকের বক্তব্য সমর্থন করেন সেখানকার নার্স সান পি শা। তিনি জানান, তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, নেতাজির পুড়ে যাওয়া শরীরের জ্বলন কমাতে শরীরে তেল লাগাতে। আমি তাই করেছিলাম। কিন্তু, নেতাজিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

১৯৪৫ সালের ২২ আগস্ট সামরিক বন্দোবস্তের মধ্যে নেতাজির শেষকৃত্য হয়। ২৩ আগস্ট তার দেহভস্ম সংগ্রহ করা হয়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ