বাণিজ্যমেলায় বিক্রি বাড়ায় খুশি বিক্রেতারা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পণ্যবাজার

বাণিজ্যমেলায় বিক্রি বাড়ায় খুশি বিক্রেতারা

ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পদচারণায় জমে উঠেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। শনিবার ছুটির দিনে মেলা প্রাঙ্গণে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ছিল উপচেপড়া ভিড়।

বিক্রেতারা বলছেন, গতবারের তুলনায় এবার ব্যবসা ভালো হচ্ছে। আর ছুটির দিনে বেচাবিক্রি আরও বাড়ছে।

শনিবার মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, সকালে দর্শনার্থীদের সংখ্যা কম থাকলেও বেলা গড়ার সাথে সাথে মেলায় ভিড় বাড়তে থাকে। দুপুরের পর মেলা প্রাঙ্গণ ভরে উঠতে থাকে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পদচারণায়। বিকেলের পর টিকেট কাউন্টারগুলোতে দর্শনার্থীর দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। বিকেলের দিকে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মেলা প্রাঙ্গন।

Trade Fair3

মেলার মাঠে দর্শনার্থীদের একাংশ। ছবি: মহুবার রহমান

মেলার প্যাভিলিয়ন-স্টলগুলোতে ছিল ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। দর্শনার্থীরা স্টলগুলো ঘুরছে আর বিভিন্ন পণ্য সম্পর্কে নানা তথ্য সংগ্রহ করছেন। অনেকেই আবার নানা অফার পেয়ে পছন্দের পণ্যটি কিনে বাড়ি ফিরছেন ।

মেলা ঘুরে দেখা গেছে, গৃহস্থালি পণ্য, প্লাস্টিকসামগ্রী, পোশাক, আসবাবপত্র ও শৌখিন পণ্যের প্যাভিলিয়ন-স্টলগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিল।

মেলা থেকে পরিবারের জন্য গৃহস্থালি পণ্য কিনে বাড়ি ফিরছিলেন রাজধানীর মালিবাগ থেকে আসা শরমিন হামিদ। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি অর্থসূচককে জানান, প্রতিবছরই মেলা থেকে বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি পণ্য কেনা হয়। মেলার জন্য আলাদা পরিকল্পনা থাকে প্রতিবছর। কারণ গৃহস্থলি পণ্য অধিকাংশ এই মেলা থেকে কেনা হয়। আজও কিছু কেনা হলো। এর মধ্যে কিছু পণ্য তার গ্রামের বাড়িতে পাঠাবেন।

বিক্রয়কর্মীদের মতে, গতবারের তুলনায় এবারের বাণিজ্যমেলায় বেচাবিক্রি বেশ ভালো। রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকায় দর্শনার্থীদের সংখ্যাও এবার অনেক বেশি। তাই বিক্রিও বাড়ছে।

হোম টেক্সটাইলের স্টল ইনচার্জ শাফায়েত হোসেন বলেন, এবার মেলার শুরু থেকেই দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেশ ভালো ছিল। আর শুক্র-শনিবার তা আরও কয়েক বেশি হচ্ছে। মেলায় দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেশি হওয়া বিক্রিও ভালো হচ্ছে।

ওয়ালটনের প্যাভিলিয়ন ম্যানেজার আকরামুজ্জামান অপু অর্থসূচককে বলেন, সপ্তাহের মধ্যে শুক্র-শনিবার প্রচুর দর্শনার্থী মেলায় আসছে। সপ্তাহের অন্য যে কোনো দিনের তুলনায় এই দুই বেচাবিক্রি বেশি হয়। আজও এর ব্যতিক্রম হয়নি, গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

বন্ধুদের নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছেন কলেজ শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম। মেলায় ঘুরতে ঘুরতে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো আর মজার করা জন্য মেলায় আসা। তারপরও মেলা ঘুরে বিভিন্ন পণ্য দেখছি, সাথে পছন্দ হলে কিছু পণ্য কেনাও হচ্ছে।

উল্লেখ্য, শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম পাশে শুরু হওয়া মাসব্যাপী এই মেলা শেষ হবে ৩১ জানুয়ারি। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। মেলায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশ মূল্য বা টিকিট মূল্য ৩০ টাকা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য থাকছে ২০ টাকা করে।

এ বছর বাণিজ্যমেলায় ১৩ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৫৩টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ৬০টি, জেনারেল প্যাভিলিয়ন ১০টি, রিজার্ভ প্যাভিলিয়ন ৩টি ও ফরেন প্যাভিলিয়ন ৩৮টি। এ ছাড়া থাকছে প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন ৩৬টি, জেনারেল মিনি প্যাভিলিয়ন ১৩টি, রিজার্ভ মিনি প্যাভিলিয়ন ৬টি, ফুডস্টল ২৫টি ও রেস্টুরেন্ট ৫টি।

এবারের মেলায় বিশ্বের ২২টি দেশ অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে মরিশাস, ঘানা, নেপালসহ সাতটি নতুন দেশ অংশ নিচ্ছে। এ ছাড়া বিগত বছরে অংশগ্রহণ করা দেশগুলোর মধ্যে থাকছে ভারত, পাকিস্তান, চিন, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, নেপাল, হংকং, জাপান ও আরব আমিরাত।

মেলায় প্রদর্শিত পণ্যের মধ্যে মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিক্স অ্যান্ড বিউটি এইডস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স, পাটজাত পণ্য, লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারীওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ঘড়ি, জুয়েলারি, সিরামিক, টেবিলওয়্যার, দেশীয় বস্ত্র, ক্যাবল, মেলামাইন, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, আসবাবপত্র ও হস্তশিল্প অন্যতম৷

অর্থসূচক/এমআই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ