মুদ্রা বিনিময় না করলে জরিমানা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ব্যাংক-বিমা

মুদ্রা বিনিময় না করলে জরিমানা

ধাতব মুদ্রা ও ছেঁড়া-ফাটা নোট বিনিময়ে তফসিলী ব্যাংকগুলোর গড়িমসিতে বেশ বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ অবস্থায় মূল্যমান নির্বিশেষে দেশে প্রচলিত সব ধরনের মুদ্রা বিনিময়ে বাধ্য করতে পাঁচ মাসে তিনবার নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে সোমবার জারিকৃত সর্বশেষ নির্দেশনায় ধাতব মুদ্রা ও ছেঁড়া-ফাটা নোট বিনিময় না করলে ব্যাংকগুলোকে জরিমানা করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

বেশ কয়েক বছর ধরেই ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যমানের নোট ও ধাতব মুদ্রা বিনিময় না করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে ধাতব মুদ্রা বিনিময় করতে গেলে গ্রাহককে সরাসরি ফেরত পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তেও এ ধরনের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এরই প্রেক্ষিতে গত ১২ নভেম্বর তফসিলী ব্যাংকের সকল শাখায় দেশে প্রচলিত সব ধরনের মুদ্রা গ্রহণ করার পাশাপাশি জনসাধারণের লেনদেনের স্বার্থে প্রতিটি ব্যাংকের শাখায় ১, ২ ও ৫ টাকা মূল্যমানের প্রতিটির ন্যূনতম ১০ হাজার পিস ধাতব মুদ্রা সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। একইসাথে স্থানীয় কার্যালয়সহ অন্যান্য বড় শাখায় ৩০ হাজার পিস  ধাতব মুদ্রা সংরক্ষণের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। এই নির্ধারিত পরিমাণের বেশি ধাতব মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে বলা হয় ওই প্রজ্ঞাপনে।

এর আগে একই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর ছেঁড়া নোট ও ধাতব মুদ্রার পাশাপাশি ছোট-বড় সব ধরনের নোট নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে বিধি মোতাবেক সংশ্লিস্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়।

এসব নির্দেশনা প্রদানের পর কিছুদিন মুদ্রা বিনিময় স্বাভাবিক হয়ে এলেও মাস না পেরোতেই ফের গড়িমসি শুরু করে তফসিলী ব্যাংকগুলো। এরই প্রেক্ষিতে চলতি বছরের প্রথম মাসেই বেশ কড়া ভাষায় প্রজ্ঞাপন জারি করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এতে বলা হয়, তফসিলী ব্যাংকের শাখাগুলোতে গ্রাহকদের নিকট থেকে ১, ২ ও ৫ টাকা মূল্যমানের ধাতব মুদ্রা ও কাগুজে নোট যথাযথভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে এ বিষয়ে লিখিত ও ফোনে অভিযোগে এসেছে। পত্র-পত্রিকায়ও এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ফলে মুদ্রা বিনিময়ের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ বিড়ম্বনার সম্মুখীন হচ্ছেন। এতে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক লেনদেনে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এই অবস্থায় স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু লেনদেন অব্যাহত রাখার স্বার্থে সকল তফসিলী ব্যাংককে তাদের গ্রাহকদের নিকট হতে মূল্যমান নির্বিশেষে সকল প্রকার ধাতব মুদ্রা ও নোট গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

আর এ নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে এবং এ বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগ প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা লংঘনের দায়ে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুয়ায়ী অর্থদণ্ড প্রদান করা হবে।

অর্থসূচক/এসবি

এই বিভাগের আরো সংবাদ