‘নভো নরডিস্ক শুধু মুনাফার জন্য ব্যবসা করছে না’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

‘নভো নরডিস্ক শুধু মুনাফার জন্য ব্যবসা করছে না’

ডেনমার্কের বহুজাতিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান নভো নরডিস্ক বাংলাদেশে প্রায় ৬০ বছরের কাছাকাছি সময় ধরে ডায়বেটিস রোগীদের কাছে বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য নাম। বিশ্বখ্যাত এ কোম্পানিটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য  সর্বদা নতুন ও উদ্ভাবনী ইনসুলিন তৈরি করে থাকে।

বাংলাদেশের বাজারেও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ইনসুলিন সরবরাহ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। ইনসুলিন সরবরাহের পাশাপাশি ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণের উপর সচেতনতা সৃষ্টিতে বিভিন্ন রকমের কর্মসূচীও পরিচলনা করে থাকে নভো নরডিস্ক।

প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ অফিসের হেড অব মার্কেটিং ডা. মোহাম্মদ সাইফুল

নভো নরডিস্কের বাংলাদেশ অফিসের হেড অব মার্কেটিং ডা. মোহাম্মদ সাইফুল

ইনসুলিনের ব্যবসায় বাংলাদেশের বাজারের ৬২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে নভো নরডিস্ক। ডেনিশ এই প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের ১৮০টিরও বেশি দেশে ব্যবসা করে থাকে। এসকেএফ বাংলাদেশের সঙ্গে একটি হিউম্যান ইনসুলিন ভায়াল তৈরির কারখানাও আছে নভো নরডিস্কের।

ডায়াবেটিস রোগ এবং নভো নরডিস্কের স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন দিক নিয়ে অর্থসূচকের নিজস্ব প্রতিবেদক গিয়াস উদ্দীন ও মেহেদী হাসানের সঙ্গে সম্প্রতি কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ অফিসের হেড অব মার্কেটিং ডা. মোহাম্মদ সাইফুল এর সাথে।

অর্থসূচক: প্রথমেই নভো নরডিস্ক সম্পর্কে জানতে চাই?

ডা. মোহাম্মদ সাইফুল: নভো নরডিস্ক ডেনমার্কের একটি বহুজাতিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। ১৯২৩ সালের পর থেকেই এ প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। সে হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির বয়স প্রায় ৯০ বছরেরও বেশি। এছাড়া বাংলাদেশে এ প্রতিষ্ঠানটির বয়স প্রায় ৬০ বছরের কাছাকাছি। ১৯৫৭ সাল থেকে বাংলাদেশে এ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

অর্থসূচক: বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর পরিমাণ কত এবং বাংলাদেশে এখন এ রোগীর সংখ্যা কী হারে বাড়ছে?

ডা. মোহাম্মদ সাইফুল: আর্ন্তজাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের সমীক্ষা মতে, বিশ্বব্যাপী ৪১৫ মিলিয়ন মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ইন্টারন্যাশনাল ডায়বেটিস ফেডারেশনের(আইডিএফ) সমীক্ষা মতে, বাংলাদেশে প্রায় ৭১লাখ ডায়াবেটিস রোগী আছে। তবে প্রায় ১ কোটির মতো মানুষ  প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ডায়াবেটিস রোগে ভুগছে। যাদের মধ্যে ৫০ শতাংশ মানুষ জানেনই না যে, তাদের ডায়াবেটিস আছে এবং যারা জানেন তাদের সকলেও ঠিকমতো ডায়াবেটিসের সেবা নেন না।

অর্থসূচক: আপনি বলছিলেন ৫০ শতাংশ রোগী জানেই না যে, তাদের ডায়াবেটিস আছে। এর কারণ কি?

ডা. মোহাম্মদ সাইফুল: প্রকৃতপক্ষে না জানার মূল কারণ হলো- ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যা প্রাথমিক পর্যায়ে দৃশ্যমান হয় না। এটি মানবদেহে ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তার করে। একমাত্র পরীক্ষা করানো ছাড়া জানা সম্ভব নয় যে, কেউ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এটি হঠাৎ কোনো সমস্যা তৈরি করে না। কিন্তু ধীরে ধীরে দেহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর ক্ষতি করতে থাকে। ইউনাইটেড কিংডম প্রসপেকটিভ ডায়বেটিস স্টাডি(ইউকেপিডিএস) এর তথ্য মতে, যখন ডায়বেটিস ধরা পড়ে, তখন ইতিমধ্যে অগ্নাশয়ের ৫০% বিটা কোষ অকার্যকর হয়ে যায়। এছাড়া শিক্ষা, সচেতনতা এবং বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার অভাবেও  জানতে পারে না। এ সমস্যা শুধু বাংলাদেশের নয় বরং সারাবিশ্ব একই সমস্যায় ভুগছে।

প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ অফিসের হেড অব মার্কেটিং ডা. মোহাম্মদ সাইফুল

প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ অফিসের হেড অব মার্কেটিং ডা. মোহাম্মদ সাইফুল

অর্থসূচক: আপনি আরও বলছিলেন, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত জানার পরও একটি অংশ সেবা নিচ্ছে না। কেন নিচ্ছে না?

ডা. মোহাম্মদ সাইফুল: কারণ তারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার পরও প্রাথকিমভাবে কোনো শারীরিক সমস্যায় পড়ে না। তাই ডায়াবেটিসের সেবা নেওয়াকে জরুরি মনে করে না। এছাড়া খরচের কথাও চিন্তা করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেবা নেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধাও পাচ্ছে না তারা। সবকিছু মিলিয়ে তারা ডায়াবেটিসের সেবা নিচ্ছে না।

অর্থসূচক: সাধারণত কোন বয়সে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে?

ডা. মোহাম্মদ সাইফুল:  ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো বয়স নেই। সব বয়সেই আক্রান্ত হতে পারে। তবে দুই ধরণের ডায়াবেটিসে মানুষ আক্রান্ত হয়। একটা হচ্ছে ইনসুলিন নির্ভর ডায়াবেটিস। এটি খুবই কম বয়সে হয়। অর্থাৎ ছোট শিশুদের হতে পারে। আরেকটি নন-ইনসুলিন নির্ভর ডায়াবেটিস। একটা সময় এটা বয়স্কদের হতো। তবে খাদ্যাভাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন হওয়ার কারণে তরণদেরও এটি হতে পারে।

অর্থসূচক: ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে খ্যাদ্যাভাস এবং জীবনযাপন পদ্ধতি কতটা দায়ী?

ডা. মোহাম্মদ সাইফুল: বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ দ্রুত নগরায়ন। এটি একজন মানুষের জীবনে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসে। কেননা, দ্রুত নগরায়নের ফলে এখন মানুষ হাঁটার সুযোগ পাচ্ছে না। ছোট বাচ্চারাও এখন মোবাইল, আইপ্যাড এবং কম্পিউটার ব্যবহারে ব্যস্ত থাকছে। ফলে তারা বাইরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। শারীরিক ব্যায়ামও করছে না। এছাড়া খ্যাদ্যাভাসের কারণেও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এখন আমরা বিভিন্ন খাদ্যের মাধ্যমে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ করছি। কিন্তু, তা ব্যায় করছি না। ফলে মানুষ স্থুলতায় আক্রান্ত হচ্ছে।

অর্থসূচক: ইনসুলিনের দাম অনেক বেশি থাকায় অনেকে নিয়মিত ব্যবহার করতে পারছে না। আপনাদের ইনসুলিনের দাম কমানো সম্ভব কিনা?

ডা.মোহাম্মদ সাইফুল: আমাদের ইনসুলিন সব শ্রেণীর মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। নিম্ন আয়, মধ্য আয় এবং উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য আমাদের ইনসুলিন আছে। তবে যখনই সম্ভব হয়েছে, আমরা ইনসুলিনের দাম কমিয়েছি। ২০১৩ সালে কিছু ইনসুলিনের (হিউম্যান ইনসুলিন) দাম আমরা ৩৩ শতাংশ কমিয়েছিলাম। এ বছরেও আমরা নভোর‍্যাপিড এবং নভোমিক্সের দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমিয়েছি। বেশি পরিমাণ রোগী যাতে নভো নরডিস্কের সেবা নিতে পারে, আমরা নিরন্তর সেই চেষ্টাই করছি। এছাড়া, অন্যান্য বহুজাতিক কোম্পানির চেয়ে আমাদের হিউম্যান ইনসুলিনের দাম অনেক কম। এ বছর আমাদের সিইও লার্স রেবিয়েন সরেনসেন বিশ্বসেরা সিইও নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ডায়াবেটিস রোগ থেকে যদি বিশ্ব মুক্তি পায় এবং এর ফলে যদি আমাদের ব্যবসা শেষ হয়ে যায়, তাতে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করব। সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল একটি ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর চেয়ে ভালো কোনো অর্জন আর হতে পারে না।’ এই উক্তি থেকেই বোঝা যায় যে আমরা শুধু মুনাফার জন্য ব্যবসা করছি না। আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতাও আছে এর সাথে পরিবেশের উপরও দায়ব্ধতা রয়েছে।

অর্থসূচক: অর্থনীতিতে ডায়াবেটিসের কি ধরণের নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে?

ডা. মোহাম্মদ সাইফুল: ডায়াবেটিস হলে নিয়মিত চিকিৎসা খরচ, পরিবারের ভোগান্তির খরচ এবং ডায়াবেটিসের মাধ্যমে কোনো জটিল রোগ হলে তার খরচ, উৎপাদনশীলতায় ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি করে। যেমন, একজন সুস্থ শ্রমিক যে পরিমাণ কাজ করতে পারে, একজন অসুস্থ শ্রমিক তা পারে না। বিভিন্ন জরিপ আনুযায়ী, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগীর  দৈনিক ১৫ কর্মঘণ্টা ক্ষতি হতে পারে। সাধারণ হাইপোগ্লাইসেমিয়ার কারণে গড়ে জনপ্রতি প্রতিবছর এক লাখ তিরাশি হাজার পাঁচশত টাকা মূল্যের কর্মক্ষমতা নষ্ট হয় যা  সব মিলিয়ে সামষ্ঠিক অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্থ করে এবং এজন্যই ডায়াবেটিসকে রুখে দিতে হবে। একটি উদাহরন দিতে চাই, খালেদ ও মাহি দুই ভাই। একজনের এইচবিএ১সি ৯ এবং আরেকজনের ৭ কারণ মাহি আধুনিক প্রজন্মের ইনসুলিন ব্যবহার করে ভালোভাবে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ করে। এক্ষেত্রে মাহি ২০ শতাংশ বেশী আয়ু পাবে খালেদের চেয়ে এবং তার চিকিৎসা খরচ ২০ শতাংশ কমবে। শুধু তাই নয় মাহি খালেদের চেয়ে ৬০ শতাংশ কম ডায়বেটিস সংক্রান্তজটিলতার মুখোমুখি হবে ও যা তার পরিবার ও সমাজের জন্য কল্যাণকর।

অর্থসূচক: ডায়াবেটিস রোগীদের সচেতন করতে আপনারা কী কী কর্মসূচি পালন করছেন?

ডা. মোহাম্মদ সাইফুল: ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে আমরা অনেক ধরনের কাজ করে থাকি। এ বিষয়ে আমরা বাংলাদেশ ডায়বেটিস সমিতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বিশ্ব ডায়বেটিস দিবস উপলক্ষ্যে এ বছর আমরা দেশব্যাপী ৮০ টিরও বেশি শোভাযাত্রা আয়োজন করেছি। যেখানে ২৫,০০০ মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসের প্রাক্কালে বাংলাদেশের ব্যস্ততম শহর ঢাকায় তৃতীয় বারের মতো একটি ইন্টারন্যাশনাল হাফ ম্যারাথন দৌড় ‘নভো নরডিস্ক  ঢাকা হাফ ম্যারাথন ২০১৫’ অনুষ্টিত হয়েছে। মানুষের মধ্যে ডায়বেটিস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করাসহ স্বাস্ব্য সচেতন হওয়ার জন্য এই ম্যারাথন প্রতিযোগিতার আয়োজনে করেছে স্পোর্টস ইন্টারন্যাশনাল ও নভো নরডিস্ক। ডায়াবেটিস ঠেকাতে দুটি জিনিসের পরিবর্তন আনতে হবে। একটি হলো- খাদ্যাভাসের পরিবর্তন। অন্যটা হল জীবনযাত্রার পরিবর্তন। এ গুরত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর উপর সচেতনতা বাড়ানোর জন্য আমরা নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছি। এছাড়া পত্রিকায়ও সচেতনতামূলক লেখা প্রকাশ করে থাকি।

অর্থসূচক: আপনারা কয় ধরনের ইনসুলিন বাজারজাত করে থাকেন?

ডা. মোহাম্মদ সাইফুল: আমরা তিন ধরনের ইনসুলিন বাজারজাত করে থাকি। হিউম্যান ইনসুলিন, মর্ডান ইনসুলিন ও নতুন প্রজন্মের ইনসুলিন। হিউম্যান ইনসুলিনভায়ালগুলো স্থানীয়ভাবে এসকেএফ বাংলাদেশের কারখানা থেকে উৎপাদন করে থাকি। মর্ডান ইনসুলিন, নতুন প্রজন্মের ইনসুলিন এবং হিউম্যান ইনসুলিন পেনফিল ডেনমার্ক ও ফ্রান্স থেকে নিয়ে আসি।

অর্থসূচক: রোগীদের চাহিদা মেটাতে পারছেন কিনা?

ডা. মোহাম্মদ সাইফুল:  ডায়াবেটিস রোগীদের সক্ষমতা অনুযায়ী আমরা তাদেরকে সবধরনের সেবা দিয়ে থাকি। বাংলাদেশের ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতি দায়বদ্বতার কারণে আমাদের হিউম্যান ইনসুলিন স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করছি। এ কারণেই দামও সহনীয় পর্যায়ে রাখতে পারছি। আমাদের দায়বদ্বতা আছে বলেই ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত দাম কমাতে পেরেছি।

অর্থসূচক: অন্যান্য কোম্পানির সঙ্গে আপনাদের কোম্পানির পার্থক্য করবেন কীভাবে?

ডা. মোহাম্মদ সাইফুল: দু-একটা বহুজাতিক কোম্পানির ছাড়া অনেক কোম্পানির ইনসুলিন কোনো আর্ন্তজাতিক অনুমোদন পায়নি। তারপরও তারা বাজারজাত করে যাচ্ছে। একটা ইনসুলিন বাজারে আনতে হলে অনেকগুলো ধাপ পাড়ি দিতে হয়। যা সবার দ্বারা সম্ভব নয়। কিন্তু, আমাদের ইনসুলিন শতভাগ নিশ্চিন্ত, অনুমোদিত এবং সঠিকভাবে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ করে। বায়োসিমিলার ইনসুলিন তৈরিতে ইউএস ফুড এ্যান্ড ড্রাগ এডমেনিসট্রেশন এবং ইউরোপীয় মেডিসিনস এজেন্সির অনুমোদিত নীতিমালা পূরণ করতে হয়। আনুমোদনহীন ইনসুলিন সঠিকভাবে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এবং অনেক স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি করে। আমরা তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশের ওপর দায়বদ্ধতা। আর এই দায়বদ্ধতা থেকে আমরা অনেক সমাজসেবামূলক কাজ করে থাকি। বিশ্বেও সামাজিক দায়বদ্ধতার অসংখ্য প্রকল্প আছে আমাদের। দ্বিতীয়ত আমাদের পণ্যগুলো পরিবেশবান্ধব। যা পরিবেশের ক্ষতি করবে না। আমরা পরিবেশের ক্ষতি করে এমন জ্বালানি ব্যবহার করছি না। ডেনমার্ক, ব্রাজিল ও জাপানে আমরা সবুজ জ্বালানী ব্যবহার করে থাকি। ২০২০ সালের মধ্যে আমাদের সকল কারখানায় সবুজ জ্বালানী ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে।  তৃতীয়ত, আমরা ব্যবসাও করি আবার মানুষকে সেবাও দেই। আমরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় বিশ্বাসী। এটাকে লক্ষ্য ধরে আমরা বাংলাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচী করে যাচ্ছি। ডায়াবেটিস আক্রান্ত শিশুদের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও মনোবল বাড়াতে চেঞ্জিং ডায়াবেটিস ইন চিলড্রেন (সিডিআইসি) প্রোগ্রামের আওতায় বাংলাদেশে চালু করা হয়েছে বিশ্বের সব চেয়ে বড় ক্লিনিক। নভো নরডিস্ক, বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতি এবং ওয়ার্ল্ড ডায়াবেটিস ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে সিডিআইসি প্রোগ্রামটি শুরু করা হয়েছে। ডায়বেটিস আক্রান্ত শিশুদের জীবনমান উন্নয়ন, মানসিক দৃঢ়তা, আত্মপ্রত্যয়ী ও অত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করার লক্ষ্যেই এটি চালু করা হয়েছে।

অর্থসূচক: সবশেষে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কি বলবেন?

ডা. মোহাম্মদ সাইফুল: যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- ডায়াবেটিস হলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। প্রতিদিন ৩০ মিনিট ঘাম ঝড়ানো শারীরীক ব্যয়াম, পরিমিত খাওয়া-দাওয়া এবং জীবনযাত্রায় শৃঙ্খলা মেনে চললেই নিজেকে  সুস্থ রাখা যায়। অধিক চিনি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ডাক্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ নিতে হবে। ডায়াবেটিস রোগীরা যত দ্রুত ইনসুলিন নিতে পারবে ততই ভালো। নিয়মিত শারিরীক ব্যায়াম করা, পরিমিত খাদ্যাভাস ডায়বেটিস থেকে আপনাকে দূরে রাখবে। যাদের এ রোগ হয়েছে তাদের জন্য ইনসুলিনই হচ্ছে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রনের সর্বোত্তম উপায়। তাই সুন্দর ও সহজ জীবনযাত্রার জন্যসঠিকভাবে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে শুরুতেই ইনসুলিন নিতে হবে। আমরা সবাই একটি সুস্থ ও সুন্দর প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ প্রত্যাশী।

অর্থসূচক: আপনাকে অর্থসূচকের পক্ষ থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

ডা. মোহাম্মদ সাইফুল: আপনাদেরও ধন্যবাদ।

এই বিভাগের আরো সংবাদ