‘অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় দ্বিতীয় আশাবাদী বাংলাদেশ’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

‘অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় দ্বিতীয় আশাবাদী বাংলাদেশ’

২০১৪ সাল ছিল সহিংসতাময়। ২০১৫ সালে তা অনেকটা কেটে যায়। আর এ বছরটা হচ্ছে অর্থনীতিকে পুরোপুরি মেলে ধরার সময়- এমনটাই মনে করেন বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদরা। শুধু বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদরা নয়, আন্তর্জাতিক একাধিক সংস্থাও বলছে একই কথা।

আন্তর্জাতিক জরিপ প্রতিষ্ঠান গ্যালাপ ইন্টারন্যাশনালও এ নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, চলতি বছর অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দিক দিয়ে যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি আশাবাদী তার মধ্য বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়।

তালিকায় সবচেয়ে নেতিবাচক অবস্থানে গ্রিস। দেশটির আশাবাদের হার মাইনাস ৬৫ শতাংশ। অস্ট্রিয়ার মাইনাস ৪৯ শতাংশ, ইতালির মাইনাস ৪৭ শতাংশ, সুইডেনের মাইনাস ৪৭, হংকংয়ের মাইনাস ৪৫ ও ইরাকের হার মাইনাস ৪৫ শতাংশ।

গবেষণা প্রতিবেদনে মোট ৩টি সূচক তৈরি করা হয়- এক. হ্যাপিনেস ইনডেক্স, দুই. হোপ ইনডেক্স ও তিন. ইকোনমিক অপটিমিস্টিক্স ইনডেক্স। তৃতীয় ক্যাটাগরির সূচকে দেখা যায়, অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় বাংলাদেশ ৬০ শতাংশ আশাবাদী দেশ। আর ৬১ শতাংশ আশাবাদ নিয়ে শীর্ষে আছে নাইজেরিয়া। তালিকায় সবচেয়ে নেতিবাচক অবস্থানে গ্রিস। দেশটির আশাবাদের হার মাইনাস ৬৫ শতাংশ। অস্ট্রিয়ার মাইনাস ৪৯ শতাংশ, ইতালির মাইনাস ৪৭ শতাংশ, সুইডেনের মাইনাস ৪৭, হংকংয়ের মাইনাস ৪৫ ও ইরাকের হার মাইনাস ৪৫ শতাংশ।

এছাড়া চীন ৫৪ শতাংশ, ভিয়েতনাম ৫৩ শতাংশ, পাকিস্তান ৫০ শতাংশ, ভারত ৪৪ শতাংশ, মরক্কো ৪৪ শতাংশ, ফিজি ৩৯ শতাংশ, সৌদি আরব ৩২ শতাংশ ও আর্জেন্টিনা ২৮ শতাংশ আশাবাদী দেশ।

৬৮টি দেশের ওপর জরিপ চালিয়ে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। ৬৬ হাজার ৪০ জনকে বেশ কয়েকটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। সেই প্রশ্নের বিপরীতে উত্তরের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের স্কোর নির্ধারণ করা হয়। এতে দেখা যায়, দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে ৬৬ শতাংশ মানুষ জানিয়েছে, তারা সুখী। ২০১৪ সালে এই হার ছিল ৭০  শতাংশ। এদের মধ্য ১০ শতাংশ মানুষ বলছে, তারা সুখী নয়। ২০১৪ থেকে যা ৪ শতাংশ বেশি। সবমিলিয়ে ৫৬ শতাংশ মানুষই বলছে, তারা সুখী।

এ হিসাবে হ্যাপিনেস ইনডেক্সে সবচেয়ে সুখী দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে কলম্বিয়া। এর পরেই আছে ফিজি, সৌদি আরব, আজারবাইজান, ভিয়েতনাম, আর্জেন্টিনা, পানামা, মেক্সিকো, ইকুয়েডর, চীন।gallup

গত বছরের তুলনায় এ বছরটা কেমন কাটবে- গ্যালাপের এমন প্রশ্নের জবাবে দেখা যায়, প্রায় ৫৪ শতাংশ মানুষ জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় ২০১৬ সাল তাদের অনেক ভালো কাটবে। আর ১৬ শতাংশ মনে করছেন, এসময়টা তাদের তুলনামূলক খারাপ যাবে। তবে ২৪ শতাংশ বলেছে, কোনো পার্থক্য হবে না।

আর হোপ ইনডেক্সে দেখা যাচ্ছে, সবার উপরে স্থান দখল করে বাংলাদেশ। এর পরেই আছে চীন, নাইজেরিয়া, ফিজি, মরক্কো, সৌদি আরব, ভিয়েতনাম, আর্জেন্টিনা, ভারত ও পাকিস্তান।

গ্যালাপ ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট কিন মার্ক লিজার জানান, বিশ্বের অনেক দেশের কাছে ২০১৫ সালটা সহিংসতাপূর্ণ। তারপরও এসময়টা অনেক ভালো কেটেছে বলতে হবে।

আইএমএফের দেওয়া তথ্য ব্যবহার করে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন মানি প্রবৃদ্ধি ও আকারের দিক থেকে শীর্ষ ১০টি দেশের একটি তালিকা তৈরি করে। সেই তালিকায় তৃতীয় স্থানেই আছে বাংলাদেশ। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম প্রবৃদ্ধির দেশ। এ বছরটিতে বাংলাদেশ ছাড়িয়ে যাবে চীনের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হারকেও। নতুন বছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

এদিকে গত ডিসেম্বরে ঢাকায় এসে বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. কৌশিক বসু মন্তব্য করেন, ২০২০ সালের আগেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ হবে। তবে এজন্য বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এখন পর্যন্ত দেশের মোট জাতীয় আয়ের ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ হচ্ছে। এ বিনিয়োগ ৩৪ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত নিতে হবে।

অর্থসূচক/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ