খন্দকার মোশাররফের জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » জাতীয়

খন্দকার মোশাররফের জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই

খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে (৭১) হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের আদেশ বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে বিএনপি এই নেতার মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

রোববার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস.কে.) সিনহা নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ ‍দুদকের আপিলের আবেদনটি নিষ্পত্তি করে।

শুনানিতে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পক্ষে ছিলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ.কে. মোহাম্মদ আলী, সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুবউদ্দিন খোকন, মোশাররফের ছেলে ব্যারিস্টার মারুফ হোসেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানিতে ছিলেন এবং দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

মামলাকারী দুর্নীতি দমন কমিশনের খুরশীদ আলম খান বলেন, কয়েকটি পর্যবেক্ষণ দিয়ে আমাদের আবেদনটি নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন আদালত। শর্তসাপেক্ষে খন্দকার মোশাররফের জামিন বহালের আদেশ দেওয়া হয়েছে। শর্তগুলো হল- তিন মাসের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে, শুনানি মুলতবির আবেদন করলে জামিন বাতিল করা যাবে, আসামি কোনো অর্থ তার ব্যাংক হিসাব থেকে তুলতে পারবেন না, তার পাসপোর্ট জমা দিতে হবে।

এ.কে. মোহাম্মদ আলী জানান, প্রায় দুই বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন এই সাবেক মন্ত্রী। ৩ মাস আগে বিচারিক আদালতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্যের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ গঠন হয়। অন্যদিকে তিনি অসুস্থ বলে তার মুক্তির দাবি করে আসছে বিএনপি।

শর্তসাপেক্ষে খন্দকার মোশাররফের জামিন বহালের আদেশ দেওয়া হয়েছে। শর্তগুলো হল- তিন মাসের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে, শুনানি মুলতবির আবেদন করলে জামিন বাতিল করা যাবে, আসামি কোনো অর্থ তার ব্যাংক হিসাব থেকে তুলতে পারবেন না, তার পাসপোর্ট জমা দিতে হবে।

এই মামলায় ২০১৪ সালে বিচারিক আদালতে জামিন আবেদন করেন খন্দকার মোশাররফ। তখন প্রত্যাখ্যাত হয়ে হাইকোর্টে গেলে গত বছরের আগস্টে শর্তসাপেক্ষে জামিন পান তিনি। ওই আদেশ ঠেকাতে দুদক সুপ্রিম কোর্টে গেলে তাদের আপিলের আবেদন করতে বলেছিল সর্বোচ্চ আদালত, সেই সঙ্গে জামিনের আদেশ স্থগিত হওয়ায় মোশাররফের মুক্তি মেলেনি।

মারুফ বলেন, আদালত জামিনের আদেশ বহাল রাখায় খন্দকার মোশাররফের মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই।

প্রসঙ্গত, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালে ৯ কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা পাচারের অভিযোগে ২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি খন্দকার মোশাররফের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলা হওয়ার পর তিনি হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিলেও আপিল বিভাগ পরে তা বাতিল করে। এরপর ২০১৪ সালের ১২ মার্চ গুলশানের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক খন্দকার মোশাররফের দাবি, মামলায় যে অর্থ পাচারের কথা বলা হয়েছে- তা অবৈধভাবে অর্জিত নয়, পাচারও করা হয়নি। তিনি গবেষণার জন্য বিদেশে থাকাকালে এই অর্থ উপার্জন করেছিলেন।

গত বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আতাউর রহমান এই মামলায় মোশাররফের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আদেশ দেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ