আনন্দ রে আনন্দ, তুই কোথায় থাকিস বল ...
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লাইফস্টাইল

আনন্দ রে আনন্দ, তুই কোথায় থাকিস বল …

আনন্দ রে আনন্দ, তুই কোথায় থাকিস বল।

তুই কি ভোরে ফুলের বুকে শিশির টলমল?

তুই কি সারা দুপুর জুড়ে খাঁ খাঁ রোদের খেলা?

নাকি সবুজ ঘাসের বুকে প্রজাপতির মেলা?

এভাবে ছন্দে ছন্দে আনন্দের খোঁজ করেছিলেন কবি আহসান হাবিব। পাখির ওড়াওড়ি, আকাশ ছোঁয়া ঘুড়ি, খেলার মাঠে লাফিয়ে চলা বল, মায়ের ভালোবাসা, বাবার হাতের বোনা ধান, ঘরের চালে ফুরিয়ে যাওয়া রাত এমনকি সানকি ভরা ভাতের মধ্যেও আনন্দকে খুঁজেছেন তিনি।

বাংলা সাহিত্যের এই কবি শেষ পর্যন্ত কোথায় আনন্দ খুঁজে পেয়েছিলেন- তা আর জানাননি তিনি। তবে পৃথিবীর সব মানুষই প্রতি মুহূর্তে আনন্দের সন্ধানে থাকে। আনন্দের খোঁজে মানুষ ছুটে বেড়ায় পাহাড় বা সমতল, মরু কিংবা সমুদ্র তীরে। স্বর্গ আর আনন্দের সন্ধান হয়তো আজীবন চলতে থাকে।

আনন্দের সন্ধানে হয়তো আর বেশি দূর যেতে হবে না। সম্প্রতি আনন্দে সময় কাটানোর কিছু কৌশল জানিয়েছেন ডেনিস চিল্টন নামে একজন লাইফ কোচ। কানাডার কলেজ অব অ্যাপলাইড আর্টস অ্যান্ড টেকনোলজির প্রফেসর হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি। ডেইলি মিররে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে তার দেওয়া কিছু কৌশল সবার জন্য তুলে ধরা হলো।

১. নিঃশ্বাস: নিঃশ্বাসের ভরসায় বেঁচে থাকে মানুষ। শরীর ও মনকে প্রফুল্ল রাখে এই নিঃশ্বাস। সুস্থ থাকতে এবং মনকে প্রফুল্ল রাখতে প্রতিদিনই দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিন। প্রথমে চোখ বন্ধ করুন এবং নিঃশ্বাস নিয়ে তা ভেতরে ধরে রাখার চেষ্টা করুন। কিছুক্ষণ পর জোরে নিঃশ্বাসটি ছাড়ুন। প্রশান্তি আসবেই।

Breathe

লম্বা নিঃশ্বাস।

২. সেবামূলক কাজ: আপনি হয়তো ডাক্তার বা নার্স নন। তবু অন্যের সেবা করার অনেক সুযোগ প্রতিদিন প্রতিটি মানুষের কাছে আসে। আপনার সঙ্গে থাকা তৃষ্ণার্ত বন্ধুটির হাতে এক গ্লাস পানি তুলে দিন। তা পান করার পর তার আনন্দ আপনাকে নিশ্চিতভাবে আনন্দিত করবে। অথবা এই শীতকালে রাস্তার পাশে ঘুমানো মানুষটির গায়ে একটি চাদর জড়িয়ে দিন; তার মুখের হাসি আপনার ঠোঁটকেও প্রসারিত করবে। দ্রুতগামী গাড়ির দখলে থাকা রাস্তা পারাপারে অপেক্ষমাণ কাউকে রাস্তা পার হতে সাহায্য করুন; প্রশান্তি আসবে নিশ্চিত।

অন্যকে সাহায্য করার মনোভাব আপনার নাও থাকতে পারে। কিন্তু একবার একজনকে একটু সাহায্য করে দেখুন, যাকে সাহায্য করলেন তার মুখে হাসি ফুটবে। সেইসঙ্গে আপনার কষ্টভরা মনটিও ভালো হয়ে যাবে।

৩. লেখালেখি: হয়তো কোনো এক গোপন বেদনা আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে। আপনার কষ্ট হয়তো অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চান না। হয়তো আপনার খুব আপন মানুষটিকেও কষ্টের কথা জানাতে চান না। অথবা আপনার কষ্টের কথা অন্যের কাছে বলতে চাইছেন, কিন্তু কেউ সেটা জানতে আগ্রহী নয়।

Winter

শীতবস্ত্র বিতরণ।

এমন পরিস্থিতিতে আপনার মনের কষ্ট আরও বাড়বে। কষ্ট ভাগ করতে হয়তো আপনি কিছুটা স্বস্তি পাবেন। আর কষ্ট ভাগ করতে না চাইলেও সমস্যা নেই। যখন আপনার মনের গোপন কথাগুলো কাউকে বলতে পারছেন না তখন ডায়েরি আর কলম হাতে নিন। আপনার কষ্টের কারণ ডায়েরিতে লিখে রাখুন। সেইসঙ্গে আবেগ, ভালো লাগা, মন্দ অনুভূতিও লিখে রাখুন। এতে কষ্ট অনেক কমে যাবে।

৪. হাসি-খুশি: কষ্ট আমাদের নির্জীব করে দেয়। সেইসঙ্গে মুখের হাসির কেড়ে নেয়। আর হাসি আমাদের কষ্টকে আড়াল করে। তাই সব ধরনের কষ্ট থেকে দূরে থাকতে এবং নিজেকে ভালো রাখতে হাসি-খুশি থাকুন। অনেকের সঙ্গে থাকলে মজার মজার গল্প করুন। একা থাকলে পুরনো স্মৃতি থেকে আনন্দের ঘটনাগুলো স্মরণ করুন।

৫. সংগঠন বা বন্ধু: ব্যস্ততা যখন অবসর দেয় না, তখন ভালো বা খারাপ কিছুর জন্য আনন্দ বা দুঃখ প্রকাশের সময়ও আমাদের কাছে থাকে না। তাই কষ্টের সময়গুলোতে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। সমমনা বন্ধু বা সংগঠনের সঙ্গে বিভিন্ন সেবামূলক কাজে যুক্ত থাকুন। অনেকের সঙ্গে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় কাটান। কষ্ট আপনাকে স্পর্শ করবে না।

৬. কাজে পরিপূর্ণতা: যেকোনো কাজে সফলতা পেলে মন ভালো থাকে। নিজের কাজে সন্তুষ্ট থাকতে নিজের সেরাটা দিয়ে কাজ করুন। কোনো কাজে ব্যর্থ হলে উদ্বিগ্ন না হয়ে সফলতা পেতে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করুন। নিজের কাজের প্রতি যত্নবান হোন। সফলতা আসবেই। সেইসঙ্গে বাড়বে আনন্দ।

Writing

ডায়েরি লেখা।

৭. সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ইতিবাচক চিন্তা: মানুষের মনে নেতিবাচক ভাবনার জায়গা নিঃসন্দেহে অনেক বেশি। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক দিকগুলো অনেকেই চিন্তা করেন না। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ভুল হয়ে যায়। আবার শুধু নিজের সুবিধার কথা চিন্তা করে অন্যকে বিপদে ফেলতেও নানা সিদ্ধান্ত নেন অনেকেই। এমনটি করা উচিত না। এই স্বভাবগুলো আপনাকে কখনও আনন্দিত করতে পারে না।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক হোন। নিজের এবং অন্যের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নিন। সব কাজেরই ইতিবাচক ও নেতিবাচক ফল থাকে। তবু সবার জন্য ইতিবাচক- এমন সিদ্ধান্ত নিন; সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রম দিন। সফলতার সঙ্গে আনন্দও পাবেন।

৮. যোগব্যায়াম ও খেলা: মাঠে খেলা বা দৌড়াদৌড়ি মানসিক প্রশান্তি আনে। আর তরুণ বা বৃদ্ধ সব বয়সে সুস্থ থাকতে যোগব্যায়াম কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। যোগব্যায়াম ও খেলা আমাদের মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি দেয়। স্বাস্থ্য ও মন ভালো থাকলে সবই ভালো থাকে।

অর্থসূচক/পিএল/ইমাদ

এই বিভাগের আরো সংবাদ