মীর কাসেম আলীর শুনানির দিন নির্ধারণ হবে বুধবার
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » জাতীয়

মীর কাসেম আলীর শুনানির দিন নির্ধারণ হবে বুধবার

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর আপিলের শুনানির দিন আগামীকাল বুধবার জানা যাবে। আজ মঙ্গলবার শুনানির দিন নির্ধারণের কথা থাকলেও আসামিপক্ষের মূল আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস.কে.) সিনহার নেতৃত্বে ৪ সদস্যের বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন।

বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

আজ শুনানির শুরুতে মীর কাসেম আলীর পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন তুহিন আদালতকে বলেন, এ মামলায় কোন আইনজীবী শুনানি করবেন, তা নির্ধারণ হয়নি। তাই আজ প্রধান আইনজীবী উপস্থিত হতে পারেননি। আমাদের সময় প্রয়োজন।

এসময় আগামীকালের মধ্যেই আইনজীবী নির্ধারণ করে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ এ মামলার সারসংক্ষেপ জমা দেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধে ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর মীর কাসেম আলীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এ রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মীর কাসেম আলী আপিল করেন। ১৬৮টি কারণ দেখিয়ে ফাঁসির আদেশ থেকে খালাস চেয়ে আবেদন করেন মীর কাসেম আলী।

আটজনকে নির্যাতনের পর হত্যা ও মরদেহ গুম এবং ২৪ জনকে অপহরণের পর চট্টগ্রামের বিভিন্ন নির্যাতন কেন্দ্রে আটকে রেখে নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী ১৪টি অভিযোগে অভিযুক্ত হন মুক্তিযুদ্ধকালে জামায়াতের কিলিং স্কোয়াড আলবদর বাহিনীর তৃতীয় শীর্ষ নেতা ও ইসলামী ছাত্রসংঘের সাধারণ সম্পাদক মীর কাসেম আলী। এ ১৪টি অভিযোগের মধ্যে ১০টি প্রমাণিত হয়। বাকি চারটি অভিযোগ প্রসিকিউশন সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেননি।

১৪টি অভিযোগের মধ্যে ১০টি, অর্থাৎ ২, ৩, ৪, ৬, ৭, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৪ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং চারটি অর্থাৎ, ১, ৫, ৮ ও ১৩ নম্বর অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে পারেননি বলে ট্রাইব্যুনালের রায়ে উল্লেখ করা হয়।

১১ ও ১২ নম্বর অভিযোগে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিনসহ মোট আটজনকে হত্যার দায়ে কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে ১১ নম্বর অভিযোগে শহীদ কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিনসহ ছয়জনকে ও ১২ নম্বর অভিযোগে রঞ্জিত দাস লাতু ও টুন্টু সেন রাজুকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। ১১ নম্বর অভিযোগে সর্বসম্মত ও ১২ নম্বর অভিযোগে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ফাঁসির রায় দেন বিচারপতিরা। ফাঁসি ছাড়াও প্রমাণিত অন্য আটটি অভিযোগে আরো ৭২ বছরের কারাদণ্ডাদেশ হয় মীর কাসেম আলীর। এর মধ্যে প্রমাণিত ফারুককে অপহরণ-নির্যাতনে (২ নম্বর অভিযোগ) ২০ বছর ও নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নিয়ে নির্যাতনের (১৪ নম্বর অভিযোগ) দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড পান তিনি। এ ছাড়া অপহরণ, আটক ও নির্যাতন-সংক্রান্ত ৩, ৪, ৬, ৭, ৯ ও ১০ নম্বর অভিযোগে সাত বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। প্রমাণিত না হওয়া ১, ৫, ৮ ও ১৩ নম্বর অভিযোগে খালাস পান মীর কাসেম আলী। এগুলো ছিল অপহরণ, আটক ও নির্যাতন-সংক্রান্ত অভিযোগ।

এই বিভাগের আরো সংবাদ