শেয়ার কেলেঙ্কারির বেশিরভাগ মামলাই স্থগিত
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পুঁজিবাজার

শেয়ার কেলেঙ্কারির বেশিরভাগ মামলাই স্থগিত

পুঁজিবাজারে মামলা নিষ্পত্তিতে গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এক বছরে ৫টি মামলার রায় দিতে পেরেছে। সিংহভাগ মামলা স্থগিত থাকায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তা নিষ্পত্তি করতে পারছে না। একটি মামলাই চলমান রয়েছে।

গত ৯৬ ও ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে শেয়ার কেলেঙ্কারিতে দায়ের করা ২২টি মামলা নিষ্পত্তির জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে বিশেষ আদালতে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৫টি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে। ১৪টি মামলা স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। ১টি মামলা বিশেষ আদালতে চলমান রয়েছে। আর ২টি মামলা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবার পাঠানো হয়েছে।

গত ৯৬ ও ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে শেয়ার কেলেঙ্কারিতে দায়ের করা ২২টি মামলা নিষ্পত্তির জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে বিশেষ আদালতে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৫টি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে।

স্থগিত হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে আলোচিত রয়েছে ১৯৯৬ সালে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে মামলা। শেয়ার কারসাজির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এসময় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়। বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটির নতুন নম্বর ৬/১৫ ও ১০/১৫।

৬/১৫ মামলায় আসামি করা হয় এএসএফ রহমান, সালমান এফ রহমান ও এবি সিদ্দিকুর রহমানকে। ১০/১৫ মামলায় আসামি করা হয় এএসএফ রহমান, সালমান এফ রহমান ও ডি এইচ খানকে।

অন্য আলোচিত মামলার মধ্যে রয়েছে চিটাগাং সিমেন্ট কেলেঙ্কারি মামলা। এই মামলার আসামি হলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক সভাপতি ও চিটাগাং সিমেন্ট লিমিটেডের সাবেক পরিচালক মো. রকিবুর রহমান, ডিএসই ও চট্টগ্রাম সিমেন্টের সাবেক পরিচালক এ.এস. শহুদুল হক বুলবুল এবং টিকে গ্রুপের আবু তৈয়ব। রায়ের দিন ধার্য হওয়ার পরে মামলাটি স্থগিত করে হাইকোর্ট।

স্থগিত হওয়া অন্য মামলার মধ্যে রয়েছে ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজ মামলা। এই মামলায় কোম্পানিসহ রিজওয়ান বিন ফারুক ও এসকেএম মহিউদ্দিনকে আসামি করা হয়। এছাড়া অ্যাপেক্স ফুডস লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলায় আসামি করা হয় জাফর আহমেদ ও জহুর আহমেদকে।

আমান সি ফুডস ইন্ডাস্ট্রিজ, প্যারাগন লেদার, দোহা সিকিউরিটিজ ও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মামলাও হাইকোর্টে স্থগিত করা হয়।

গত বছর ৫টি মামলার রায় দেয় বিশেষ আদালত। এর মধ্যে প্রথম ছিল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য প্রচারের দায়ে রায়। এই রায়ে মাহাবুব সারোয়ার নামের এক ব্যক্তিকে দুই বছরের কারাদণ্ডসহ  ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

দ্বিতীয় রায় দেওয়া হয় বাংলাদেশ (বিডি) ওয়েল্ডিং ইলেক্ট্রোডস লিমিটেডের শেয়ার কারসাজি মামলার। এই মামলায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম নুরুল ইসলাম ও ডেইলি ইন্ডাস্ট্রি পত্রিকার সম্পাদক এনায়েত করিমকে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

তৃতীয় রায় ছিল শেয়ারদর কারসাজির দায়ে চিক টেক্সটাইলের ২ পরিচালককে ৪ বছরের জেল ও ৩০ লাখ টাকা জরিমানা।

২০১০ সালে প্লেসমেন্টের মাধ্যমে শেয়ার কারসাজির মামলা রায় ছিল চতুর্থ। তবে এই মামলার আসামি সাত্তারুজ্জামান শামীমকে বেকসুর খালাস দেয় ট্রাইব্যুনাল।

বিশেষ ট্রাইব্যুনালের সর্বশেষ রায়টি ছিল গত বছরের ৩০ নভেম্বর; সৌদি বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির (সাবিনকো) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কুতুব উদ্দিনের শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলায়। এই রায়ে তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ