যে ৭ বিষয় নিমিষেই মধুর সম্পর্কে ফাটল ধরায়
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লাইফস্টাইল

যে ৭ বিষয় নিমিষেই মধুর সম্পর্কে ফাটল ধরায়

মনের মধ্যে অবিশ্বাস পুষে রাখা এবং তা যদি কাছের কেউ টের পায় তাহলে নিমিষেই বহু বছরের গড়া খুব মধুর সম্পর্ক চিরতরে শেষ হয়ে যেতে পারে। ঠিক এমনটিই বলছেন, ক্লিনিক্যাল মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কানান খাতুউ অ্যাপ্টলি। তিনি বলছেন, জীবনে চলার পথে সব মধুর সম্পর্কই টিকিয়ে রাখতে একে অপরের মাঝে বিশ্বাস থাকাটা খুবই জরুরী। সেই সঙ্গে একে অপরের প্রতি আনুগত্য থাকাটাও দরকার। শুধু তাই নয়, আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে কথা দিয়ে কথা রাখাটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মনের মধ্যে অবিশ্বাস পুষে রাখা এবং তা যদি কাছের কেউ টের পায় তাহলে নিমিষেই বহু বছরের গড়া খুব মধুর সম্পর্ক চিরতরে শেষ হয়ে যেতে পারে।

মনের মধ্যে অবিশ্বাস পুষে রাখা এবং তা যদি কাছের কেউ টের পায় তাহলে নিমিষেই বহু বছরের গড়া খুব মধুর সম্পর্ক চিরতরে শেষ হয়ে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, একটি মধুর সম্পর্ক তখনই টিকে থাকে যখন একে অপরের মাঝে কমিটমেন্টের জায়গাটা ঠিক থাকে। সম্পর্ক ভাঙনের ক্ষেত্রে বিশ্বাসঘাতকতার চেয়ে বড় কলুষিত বিষয় পৃথিবীতে আর একটিও নেই।

এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক যেসব কারণে নিমিষেই মধুর সম্পর্কগুলো ভেঙে যায়-

১. গোপন কথা ফাঁস করা- জীবনে চলার পথে আপনাকে অনেকেই বিশ্বাস করে নিজের ব্যক্তিগত বিষয়, বন্ধু-বান্ধব, পরিবারের সদস্য সম্পর্কে নানান গোপনীয় কথা বলতে পারেন। আপনাকে বিশ্বাস করেই তা বলে থাকেন। কিন্তু দেখা গেল সেসব কথা আপনি সবার মাঝে; এমনকি ভরা মজলিসে বলে দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি সবার সামনে হাসির পাত্রে পরিণত হতে পারেন। ফলে দেখবেন ওই ব্যক্তি আপনাকে আর কোনও দিন কোনও কথা বলবে না । কারন আপনার প্রতি তার বিশ্বাস উবে গেছে।

২. হঠাৎ করে কোনও দৃশ্যের অবতারণা করা- জীবনে চলার পথে আপনার সবকিছুই কাছের মানুষদের ভালো নাও লাগতে পারে। তাই বলে যেখানে সেখানে তা নিয়ে ‘সিন ক্রেট’ করা যাবে না। বরং কোন জিনিসটি আপনার প্রিয় মানুষটির ভালো লাগে না, কেন লাগে না তা যাচাই করে সমাধানে আসতে হবে। পারলে কাছের মানুষদের মতো করেই জীবন-যাপন করতে হবে।

৩. আসক্তির কথা লুকিয়ে রাখা- একজন ব্যক্তি নানা ধরণের নেশায় যেমন ধূমপান, অ্যালকোহল, মদ, খাদ্য, ফোনে আসক্ত থাকতে পারেন। তা বলে এসব কিন্তু কাছের মানুষদের নিকট গোপন করা যাবে না। আপনি হয়তো তা গোপন রাখেন অথচ তারা তা টের পেলে নিমিষেই আপনার সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এছাড়া দেখা গেল, আপনাকে হয়তো তা ছেড়ে দিতে বলেছে। আপনিও তা না ছেড়েই ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। আর এ বিষয় যদি টের পায় তাহলে আপনার সঙ্গে তার সম্পর্ক চিরদিনের মতো শেষ হয়ে যেতে পারে।

৪. মানসিক প্রতারণা- কেউ হয়তো মানসিকভাবে আপনার উপর খুবই নির্ভরশীল। আর সে সুযোগে আপনি তাকে যখন তখন যেকোনও কাজে ব্যবহার করছেন। আপনার প্রতি বিশ্বাস রেখে সেও আপনার সব কাজই করে দিচ্ছে। কিন্তু যখন সে জানতে পারবে আপনি তার সঙ্গে প্রতারণা করছেন তখন সেই সম্পর্ক কখনোই থাকবে না। অনেকে একে যৌন প্রতারণার চেয়েও ভয়াবহ বলছেন।

৫. আর্থিক প্রতারণা- কারও সঙ্গে আপনার বহুদিনের সম্পর্ক। ফলে আপনার প্রতি তার প্রচণ্ড বিশ্বাস জন্মেছে। এই সুযোগে আপনি তার কাছ থেকে কাঁড়ি কাড়ি টাকা ধার করছেন। আপনি না দিলেই তাতে সে মনে কিছুই করছে না। কিন্তু এটি যে আপনার প্রতারণা তা যদি সে টের পায় তাহলে চির জীবনের মতো সেই সম্পর্ক শেষ হয়ে যেতে পারে। তাই যেকোনও সম্পর্ক রক্ষা করার জন্য আর্থিক লেনদেনের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হয়।

৬. স্বার্থপরতা: যেকোনও কাজে শুধু নিজের স্বার্থটাই দেখবেন না। আপরের স্বার্থকে মূল্যায়ন করতে শিখুন। অপরের স্বার্থ সুরক্ষিত হলেই আপনার উপর নির্ভরশীলতা তৈরি হয়। এজন্য কার সঙ্গে সর্ম্পক টিকে থাকে। কিন্তু যখন কেউ জানবে আপনি চরম স্বার্থপর তখন কিন্তু কারও সঙ্গে আপনার সম্পর্ক টিকে থাকবে না।

৭. বিপদে ফেলে পালিয়ে যাওয়া-কারও সঙ্গে আপনার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। হঠাৎ ওই ব্যক্তি বিপদে পড়তে পারে এবং সাহায্যের জন্য আপনার শরনাপন্ন হতে পারেন। কিন্তু দেখা গেল, তার বিপদে আপনি পিছনে হটে যাচ্ছেন। সেই বিপদ থেকে সে উদ্ধার পাক আর না পাক কখনোই সে আপনার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে না। তাই যতো সম্ভব সঙ্গীকে বিপদে সাহায্য করুন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ