অফিস শেষে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে রাতে চাকরিচ্যুতির চিঠি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পুঁজিবাজার
ডিএসইর কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে

অফিস শেষে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে রাতে চাকরিচ্যুতির চিঠি

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোনো কারণ ছাড়াই মহা-ব্যবস্থাপক পদমর্যাদার একজন পদস্থ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরীচ্যুত করা হয়েছে। অথচ ওই দিনও আলোচিত কর্মকর্তা সারাদিন অফিস করেছেন। তার বিরুদ্ধে সেদিন পর্যন্ত ডিএসইর কোনো অভিযোগ ছিল না। সংশ্লিষ্ট সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কোনো কারণ ছাড়াই এমন আকস্মিকভাবে একজন পদস্থ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করায় ডিএসইর কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা নিরাপত্তিহীনতায় ভুগছেন।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ডিএসই কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের হিসাব বিভাগের দায়িত্বে থাকা মহা-ব্যবস্থাপক জীবন চন্দ্র দাসকে চাকরিচ্যুত করে। ওইদিনও তিনি অফিস করেছেন।

বৃহস্পতিবার আনুমানিক রাত ৮টা ২০ মিনিটে চাকুরীচ্যুতির চিঠি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। ওই দিন সন্ধা ৭টা পর্যন্ত ডিএসইতে কাজ করেছেন এই কর্মকর্তা। এর আগে স্টক এক্সচেঞ্জের সংস্কার ও পূনর্গঠন বিষয়ে দেওয়া প্রস্তাব বোর্ডসভায় গৃহীত না হওয়ায় ডিএসইর উপদেস্টা খালিদ রহিম পদত্যাগ করেন।

জানা গেছে, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে মহা-ব্যবস্থাপক (অ্যাকাউন্টস) জীবন চন্দ্র দাসকে তাত্ক্ষনিক চাকুরীচ্যুত করার ঘটনায় ডিএসইর অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরী হয়েছে। তবে ঠিক কি কারনে তাকে চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে, সে বিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারেন নি। বিষয়টিকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন ডিএসইর কর্মকর্তারা।

ডিএসইর ইতিহাসে এটি নজিরবিহীন ঘটনা। জীবন চন্দ্র দাসও জানেন না ঠিক কি কারনে তাকে চাকুরীচ্যুত করা হল। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের মার্চ মাসে ডিএসইতে মহা-ব্যবস্থপক হিসাবে যোগদেন জীবন চন্দ্র দাস।

অভিযোগ উঠেছে, ডিএসইর জনৈক পরিচালকের ব্যক্তিগত আগ্রহ আর তার চাপে পরিচালনা পর্ষদ জীবনচন্দ্র দাসকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে শুধু জীবনচন্দ্র দাস ইস্যু নয়, ডিএসইর অনেক দৈনন্দিন বিষয়ে অনেক পরিচালক হরহামেশাই অযাচিত হস্তক্ষেপ করেন।

স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা থেকে মালিকানা আলাদা করার (ডিমিউচুয়ালাইজেশন) পর থেকেই নানা কারণে ডিএসইর কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ-অস্থিরতা বিরাজ করছে। কর্মকর্তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা নয়, নিজেদের পছন্দ-অপছন্দের কারণে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বদলী, পদায়ন, প্রমোশন ইত্যাদি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। আবার দু’মাস তিন মাসের মধ্যে কর্মকর্তাদের ডেস্ক বদল করার অভিযোগও আছে। ফলে কোনো বিভাগেই তাদের বিশেষ দক্ষতা তৈরি হতে পারছে না।

এর পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদের সদস্যের হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলছে। অথচ স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের (ট্রেকহোল্ডার) অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করার লক্ষ্যেই ডিমিউচুয়ালাইজেশন করা হয়। তাতেও স্বস্তি মিলছে না। বরং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের অনেকের ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি আর পারস্পরিক বিরোধের কারণে গত দেড় বছরে ডিএসইতে প্রধান আইটি অফিসারের (সিটিও) শূন্য পদ পূরণ করা যায় নি। দু’জন পরিচালক তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠায় কোনো নিয়োগই হচ্ছে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সিটিও ছাড়াই চলছে ডিএসই। গত এক বছরে অসংখ্যবার ডিএসইর ট্রেডিং সিস্টেমে সমস্যার কারণে দীর্ঘ সময় লেনদেন বন্ধ থেকেছে। এতে বাজারের গতি ব্যবহত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিনিয়োগকারী ও ব্রোকারহাউজগুলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, ডিএসইর পরিচালক রুহুল আমিন বৃহস্পতিবার স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে হিসাববিভাগের কাছ থেকে কিছু তথ্য উপাত্ত ও কাগজপত্র চান। হিসাব বিভাগ থেকে ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে এসব তথ্য চাহিদা জানানোর অনুরোধ করা হয়। বিষয়টিতে ক্ষিপ্ত হয়ে সেদিনই বোর্ড সভায় হিসাববিভাগের প্রধান জীবনচন্দ্র দাসকে চাকরিচ্যুত করার প্রস্তাব আনেন তিনি। এ অনুসারে পর্ষদ তাকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এ বিষয়ে রুহুল আমিনের বক্তব্য জানার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ